বঙ্গোপসাগরের লাল কোরাল মাছ ও তার রঙের রহস্য
বঙ্গোপসাগরের মহীসোপানে বাস করা লাল কোরাল মাছের শরীরের লাল রঙের উৎস ক্যারোটিনয়েড রঞ্জক পদার্থ। গভীর সমুদ্রে আলো না থাকায় এবং খাদ্য হিসেবে খোলসযুক্ত প্রাণী খাওয়ার মাধ্যমে তারা এই বৈচিত্র্য অর্জন করে।
প্রকাশ: · আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০২৬, রাত ৭:১২· ১ মিনিট পড়া

বঙ্গোপসাগরের গভীর জলের এক অন্যতম রহস্যময় প্রাণী হলো লাল কোরাল মাছ। এটি কোনো পুকুর বা নদীর মাছ নয়, বরং এটি সমুদ্রের মহীসোপানে বাস করে। সাধারণ মিষ্টি পানির মাছের সঙ্গে এর জীবনপ্রণালী ও শারীরিক গঠনে রয়েছে বিস্তর তফাত।
এই মাছের আবাসস্থল মূলত বঙ্গোপসাগরের গভীরেই সীমাবদ্ধ। এরা সাধারণত তিরিশ থেকে দুই শ ফুট বা কখনো আরও গভীরে বসবাস করে। এই গভীরতার পরিবেশে সূর্যের আলো পৌঁছানো বেশ কঠিন এবং জলের রহস্যময় জগতের নিজস্ব কিছু প্রাকৃতিক নিয়ম রয়েছে।
বিজ্ঞানসম্মত তথ্যানুযায়ী, পানির নিচে মাত্র ১০-১২ মিটার পার হতেই লাল আলো প্রায় শেষ হয়ে যায়। এমন আলোহীন বা কম আলোর গভীর পরিবেশে লাল কোরাল মাছের বেঁচে থাকা এবং তাদের শারীরিক বৈশিষ্ট্য এক অনন্য সৃষ্টি হিসেবে বিবেচিত হয়।
লাল কোরাল মাছের শরীরের আকর্ষণীয় লাল রঙের উৎস হলো ক্যারোটিনয়েড রঞ্জক পদার্থ। বিশেষ করে অ্যাস্টাক্সানথিন নামক উপাদানটি এই মাছের লাল রঙের জন্য সরাসরি দায়ী, যা তারা প্রাকৃতিকভাবে অর্জন করে থাকে।
খাদ্যাভ্যাসের মাধ্যমেই মূলত লাল কোরাল মাছ এই বিশেষ রঞ্জক পদার্থ পেয়ে থাকে। তারা সমুদ্রের তলদেশ থেকে বিভিন্ন ধরনের চিংড়ি ও খোলসযুক্ত প্রাণী খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করে, যার ফলে তাদের শরীরে ওই লাল রঙ পুষ্ট হয়।
তবে এই চমৎকার রঙের পেছনে রয়েছে খাদ্যের সরাসরি প্রভাব। খাঁচায় বন্দী লাল কোরাল যদি প্রাকৃতিক চিংড়ি বা খোলসযুক্ত প্রাণী খেতে না পারে, তবে তাদের শরীরের সেই লাল রং ধীরে ধীরে ম্লান হয়ে আসে।








