ফ্রান্সে তীব্র খরা ও দাবদাহে তলানিতে ওয়াইন উৎপাদন
তীব্র খরা এবং রেকর্ড ভাঙা দাবদাহের কারণে ফ্রান্সে ওয়াইন উৎপাদন ৩০ থেকে ৭০ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন স্তরে নেমে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। কৃষি মন্ত্রণালয়ের পূর্বাভাস অনুযায়ী, উৎপাদন গত বছরের তুলনায় ৬ শতাংশ কমতে পারে।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

তীব্র খরা এবং রেকর্ড ভাঙা দাবদাহের কারণে ফ্রান্সের ওয়াইন উৎপাদন নাটকীয়ভাবে হ্রাস পাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। দেশটির কৃষিমন্ত্রক এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, এই খরা ও দাবদাহের জেরে ফরাসি ওয়াইন উৎপাদন ৩০ থেকে ৭০ বছরের মধ্যে সর্বনিম্নে ঠেকেছে। গ্রীষ্মকালে তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ার ফলে ফরাসি আঙুর বাগানগুলো চরম ক্ষতির মুখে পড়েছে।
কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীন পরিসংখ্যান বিভাগ অ্যাগ্রেস্ট (Agreste)-এর তথ্য অনুযায়ী, এ বছর ফ্রান্সে ওয়াইন উৎপাদন ৩ কোটি ৪০ লাখ হেক্টোল্টরের সামান্য কম অর্থাৎ প্রায় ৩ কোটি ৩৯ লাখ হেক্টোল্টর হতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। এই পরিমাণ গত বছরের উৎপাদনের তুলনায় ৬ শতাংশ কম। এছাড়া ২০২১ থেকে ২০২৫ সালের গড় উৎপাদনের তুলনায় এটি ১৭ শতাংশ কম।
গ্রীষ্মকালে আবহাওয়া প্রসঙ্গে অ্যাগ্রেস্ট জানিয়েছে, জুন, জুলাই এবং আগস্ট মাসে গড় তাপমাত্রা ২৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছেছিল। গ্রীষ্মকাল অত্যন্ত উষ্ণ ও শুষ্ক ছিল। এর ফলে দেশজুড়ে মাটির খরা তীব্রতর হয়েছে এবং দাবদাহের কারণে আঙুরে স্থানীয়ভাবে সান স্ক্যাল্ড, ঝলসে যাওয়া, পাতা ঝরে যাওয়া ও আঙুর শুকিয়ে যাওয়ার মতো ঘটনা ঘটেছে, যা মূলত ফসলের পরিমাণ কমিয়ে দিয়েছে।
এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের কারণে ফ্রান্সের বিভিন্ন অঞ্চল ভিন্নভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে শ্যাম্পেন এবং জুরা অঞ্চল সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার মধ্যে রয়েছে। জুরা অঞ্চলে প্রায় ৩৭ শতাংশ ক্ষতির অনুমান করা হচ্ছে। এছাড়া বার্গান্ডি-বোঝোলি অঞ্চলের আঙুর উৎপাদন এক-তৃতীয়াংশ কমে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। শ্যাম্পেনের ফলন গত বছরের তুলনায় প্রায় অর্ধেক হতে পারে বলে পূর্বাভাস মিলেছে। অন্যদিকে, ল্যাঙ্গুয়েডক-রুসিয়োঁ অঞ্চলের ফসল ২০২৫ সালের দুর্বল ফসলের তুলনায় ৫ শতাংশ বাড়লেও, ২০২১-২০২৫ সালের গড় থেকে ৮ শতাংশ কম হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
পরিস্থিতি নিয়ে ট্রুয়া তের (Trois Terres) ভিদইয়ার্ডের সিসিল মাথিয়াউ (Cécile Mathiaud) মন্তব্য করেছেন, আমরা জানি এ বছর আমাদের পূর্ণাঙ্গ কোনো ফসল হবে না, তবে আমাদের কাছে সুনির্দিষ্ট কোনো পরিসংখ্যান নেই এবং পরিস্থিতি যে কোনো দুর্যোগপূর্ণ, এমন কোনো ইঙ্গিতও নেই। তিনি আরও উল্লেখ করেছেন, আমাদের কাছে ঐতিহাসিক সর্বনিম্ন উৎপাদনের মাপকাঠি হলো ২০২১ সালের ফলন, যখন আমরা মাত্র ১ মিলিয়ন হেক্টোল্টর উৎপাদন করেছিলাম। আমরা মনে করি এ বছর এর চেয়ে বেশি হবে, কিন্তু প্রশ্ন হলো কত বেশি? মন্ত্রণালয় কীভাবে এই সংখ্যাগুলো পেল, সে বিষয়ে আমার বিন্দুমাত্র ধারণা নেই।
এদিকে ফরাসি ওয়াইনের অভ্যন্তরীণ ভোগ বা ব্যবহারের ধরণেও দীর্ঘমেয়াদী পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে। ১৯৬০-এর দশকে ফ্রান্সে বার্ষিক ওয়াইন খাওয়ার পরিমাণ ছিল ১২৭ লিটার, যা বর্তমান সময়ে এসে বছরে মাত্র ৪০ লিটারে দাঁড়িয়েছে। তবে সাম্প্রতিক এই খরা পরিস্থিতির মোকাবিলায় ফ্রান্স সরকার কৃষকদের জন্য ১ বিলিয়ন ইউরোরও বেশি জরুরি সহায়তার ঘোষণা দিয়েছে। আন্তর্জাতিক সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন অব ওয়াইন অ্যান্ড ওয়াইন (OIV) এবং ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) সম্পর্কিত কোনো অতিরিক্ত বা অপ্রাসঙ্গিক তথ্য এই পরিস্থিতিতে আর উল্লেখ করা হয়নি।








