প্রশংসা ও সমালোচনা মোকাবিলায় ইসলামের নির্দেশনা
ইসলাম ধর্মে অতিরিক্ত প্রশংসা মানুষের মধ্যে অহংকার ও আত্মতুষ্টি তৈরি করতে পারে। এ বিষয়ে পবিত্র কুরআন ও হাদিসে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা রয়েছে এবং হজরত আবু বকর (রা.) প্রশংসা শুনলে বিশেষ দোয়া পাঠ করতেন।
প্রকাশ: · আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০২৬, রাত ৭:১২· ১ মিনিট পড়া

ইসলাম ধর্মে মানুষের জীবন পরিচালনার জন্য বিভিন্ন বিষয়ে সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে মানুষের চরিত্র গঠন এবং মানসিক ভারসাম্য রক্ষায় প্রশংসা ও সমালোচনা মোকাবিলা করার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইসলামে বলা হয়েছে, অতিরিক্ত প্রশংসা মানুষের মধ্যে আত্মতুষ্টি ও অহংকার তৈরি করতে পারে, যা মানুষের নৈতিক পতন ঘটাতে পারে।
পবিত্র কুরআনে মানুষের আত্মশুদ্ধি সম্পর্কে সতর্ক করে বলা হয়েছে, "তোমরা নিজেদের পবিত্র দাবি করো না। কে মুত্তাকি, তিনি তা ভালোভাবে জানেন।" এই আয়াতের মাধ্যমে মানুষের ভেতরের অহংকার ও আত্মপ্রশংসার প্রবণতাকে নিয়ন্ত্রণ করার শিক্ষা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া কুরআনে আরও স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, "তোমাদের কাছে যে নেয়ামত আছে, তা আল্লাহর পক্ষ থেকে।"
ইসলামী দৃষ্টিভঙ্গিতে যেকোনো কাজের মূল ভিত্তি হলো নিয়ত। এ প্রসঙ্গে রাসুল (সা.) বলেছেন, "নিশ্চয়ই কাজ নিয়তের ওপর নির্ভরশীল।" এর মাধ্যমে মানুষের কাজের অন্তরের উদ্দেশ্য এবং আন্তরিকতার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে, যাতে বাহ্যিক প্রশংসার লোভে পড়ে মানুষ বিভ্রান্ত না হয়।
সমালোচনা বা অতিরিক্ত প্রশংসা মানুষের মাঝে কখনো কখনো মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে। একে অপরের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত বা কঠোর মন্তব্য করার পরিণতির কথা উল্লেখ করে রাসুল (সা.) বলেছেন, "তোমরা তোমাদের ভাইয়ের ঘাড় কেটে দিয়েছ।" এই রূপক বার্তার মাধ্যমে পারস্পরিক সম্পর্কের অবনতি ও কঠোর সমালোচনার ভয়াবহতা ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
কেউ প্রশংসা করলে ইসলামের প্রাথমিক যুগের প্রথিতযশা সাহাবি হজরত আবু বকর (রা.) অত্যন্ত সতর্ক থাকতেন। এ ধরনের পরিস্থিতিতে তিনি আত্মম্ভরিতা থেকে বেঁচে থাকার জন্য নির্দিষ্ট একটি দোয়া পাঠ করতেন। তার সেই দোয়াটি হলো: "আল্লাহুম্মা আনতা আ‘লামু বিঈ মিনহুম, ওয়া আনা আ‘লামু বিনাফসি মিনহুম। আল্লাহুম্মাজ‘আলনি খাইরান মিম্মা ইয়াজুন্নুন, ওয়াগফির লি মা লা ইয়া‘লামুন, ওয়া লা তুআখিজনু বিমা ইয়াকুলুন।"








