প্রতিরক্ষা ব্যাংক প্রতিষ্ঠায় কানাডার প্রস্তাব, জি৭-এর অনীহা
মিত্র দেশগুলোকে পুনরায় অস্ত্রসজ্জিত করার উদ্দেশ্যে প্রতিরক্ষা, নিরাপত্তা ও স্থিতিস্থাপকতা ব্যাংক (ডিএসআরবি) প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব দিয়েছে কানাডা। প্রায় ১০০ বিলিয়ন ইউরো সংগ্রহের লক্ষ্য নিয়ে গঠিত এই উদ্যোগে কিছু দেশ সমর্থন দিলেও জার্মানি ও ব্রিটেনসহ জি৭ভুক্ত অন্য দেশগুলো এখন পর্যন্ত যোগ দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

রবিবারে কানাডার উদ্যোগে মিত্র দেশগুলোকে পুনরায় অস্ত্রসজ্জিত করার উদ্দেশ্যে একটি নতুন আর্থিক প্রতিষ্ঠান গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এই প্রস্তাবের আওতায় 'প্রতিরক্ষা, নিরাপত্তা ও স্থিতিস্থাপকতা ব্যাংক' বা সংক্ষেপে ডিএসআরবি প্রতিষ্ঠার কথা বলা হয়েছে। কানাডায় প্রস্তাবিত এই ব্যাংকটির সদর দপ্তরও দেশটিতেই থাকবে বলে নিশ্চিত করা হয়েছে।
রয়টার্স জানিয়েছে, প্রস্তাবিত এই ডিএসআরবি ব্যাংকটি প্রায় ১০০ বিলিয়ন ইউরো বা ১১৬ বিলিয়ন ডলার সমপরিমাণ অর্থ সংগ্রহের জন্য কাজ করছে। এই বিশাল তহবিল গঠনের প্রক্রিয়া এবং ব্যাংকটির ভবিষ্যৎ কর্মপদ্ধতি নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে। এর মধ্যে ব্যাংকটির প্রাথমিক আর্থিক কাঠামোর সম্ভাব্য হিসাবও সামনে এসেছে, যার মধ্যে প্রায় ৫ বিলিয়ন ইউরো, প্রায় ২০ বিলিয়ন ইউরো এবং বাকি প্রায় ৮০ বিলিয়ন ইউরো সংগ্রহের লক্ষ্য বা হিসেব রয়েছে।
কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি মিত্র দেশগুলোকে পুনরায় অস্ত্রসজ্জিত করার এই মহৎ ও কৌশলগত উদ্দেশ্যে ডিএসআরবি-র প্রতি জোরালো সমর্থন জানিয়েছেন। তার এই উদ্যোগে আন্তর্জাতিক মহলের বিভিন্ন পর্যায় থেকে মিশ্র প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেছে। বিশেষ করে বিভিন্ন দেশের সমর্থন ও অনাগ্রহের বিষয়টি এখন বেশ আলোচিত হচ্ছে।
ইতিমধ্যেই আলবেনিয়া, বেলজিয়াম, গ্রিস, লাটভিয়া, লুক্সেমবার্গ, রোমানিয়া, তুরস্ক এবং ইউক্রেনের মতো দেশগুলো কানাডার এই প্রতিরক্ষা ব্যাংক প্রকল্পে তাদের আনুষ্ঠানিক সমর্থন ব্যক্ত করেছে। যুদ্ধাপরাধ বা আঞ্চলিক নিরাপত্তার বর্তমান প্রেক্ষাপটে এই সমর্থনগুলোকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তবে এই উদ্যোগে সব বড় দেশের সমর্থন মিলছে না। জার্মানি ও ব্রিটেনসহ অন্যান্য জি৭ দেশগুলো এখন পর্যন্ত ডিএসআরবিতে যোগ দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। জি৭ জোটের প্রধান দেশগুলোর এই অনীহার কারণে ব্যাংকটির ভবিষ্যৎ পথচলা কিছুটা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
রিস্ক কন্ট্রোল সংস্থার উইলিয়াম পেরোডিন এই বিষয়ে মন্তব্য করে বলেছেন, "রেটিং এজেন্সিগুলোর কাছে ভালো ধারণা তৈরি করতে হলে, তাদের আরো কয়েকটি প্রভাবশালী সরকারের অংশগ্রহণ প্রয়োজন হবে।" অর্থাৎ জি৭ভুক্ত বড় দেশগুলোর সমর্থন ছাড়া আন্তর্জাতিক বাজারে কাঙ্ক্ষিত গ্রহণযোগ্যতা পাওয়া কঠিন হতে পারে।
অন্যদিকে, এই প্রকল্পের কাজে গতি আনার বিষয়ে আশাবাদী সংশ্লিষ্টরা। জন ফ্রাগোস এই প্রসঙ্গে জানিয়েছেন, "আমরা দ্রুতগতিতে এগিয়ে যাচ্ছি, চুক্তিপত্র তৈরি করছি এবং প্রতিষ্ঠাতা দেশগুলোর একটি গোষ্ঠী গঠনের জন্য মিত্র ও অংশীদার উভয়ের সাথেই কাজ করছি।" ইসাবেল হুডনসহ অন্যান্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরাও এই কার্যক্রমে যুক্ত রয়েছেন।








