পাবনার হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের পর যক্ষ্মার প্রাদুর্ভাব
পাবনার চাটমোহর উপজেলার আল–মদিনা ল্যাব অ্যান্ড হসপিটালে অস্ত্রোপচারের পর অন্তত ১২ জন রোগী যক্ষ্মায় আক্রান্ত হয়েছেন। এই ঘটনায় স্বাস্থ্য বিভাগ তিন সদস্যের কমিটি গঠন করেছে এবং হাসপাতালের সব ধরনের অস্ত্রোপচার স্থগিত করা হয়েছে।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

পাবনার চাটমোহর উপজেলার আল–মদিনা ল্যাব অ্যান্ড হসপিটালে অস্ত্রোপচারের শিকার রোগীদের মধ্যে ফুসফুস ছাড়া শরীরের অন্যান্য অংশে যক্ষ্মা বা এক্সট্রাপালমোনারি টিউবারকুলোসিস ছড়িয়ে পড়ার ঘটনা ঘটে। ২০২৪ সালের ৩১ আগস্ট প্রকাশিত প্রথম আলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, অন্তত ১২ জন রোগী এই রোগে আক্রান্ত হয়েছেন।
অনুসন্ধানে জানা যায়, ১০ শয্যার এই হাসপাতালটিতে মাসিক ৬০ থেকে ৭০টি অস্ত্রোপচার করা হতো। সেখানে প্রায় ১২০ জন প্রসূতির প্রসব হয় অস্ত্রোপচারে। এর মধ্যে ১১ জন প্রসূতি এই হাসপাতাল থেকে যক্ষ্মায় আক্রান্ত হয়েছেন। সার্বিকভাবে অন্তত ১২ জন রোগী এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
এই ঘটনার পর স্বাস্থ্য বিভাগ তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ গ্রহণ করে। আল–মদিনা ল্যাব অ্যান্ড হসপিটালে অস্ত্রোপচার কার্যক্রম সম্পূর্ণ স্থগিত করা হয় এবং পুরো বিষয়টি তদন্তের জন্য একটি তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়। একই সঙ্গে রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণাপ্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর)-এর কাছে একটি বিশেষ তদন্তের অনুরোধ জানানো হয়।
পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে জাতীয় যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি, আইইডিসিআর এবং আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণাকেন্দ্র বাংলাদেশ (আইসিডিডিআরবি)-এর কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে গঠিত একটি উচ্চপর্যায়ের দল পাবনায় উপস্থিত হয়। তদন্তের অংশ হিসেবে বিভিন্ন প্রক্রিয়া পরিচালনা করা হয়, যার মধ্যে ৫১ জনের শরীরে যক্ষ্মা শনাক্ত হয়েছিল বলে তথ্য পাওয়া যায়।
এই স্বাস্থ্য সংকটের বিষয়ে আল–মদিনা ল্যাব অ্যান্ড হসপিটালের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্যও সামনে এসেছে। মো. মাসুদ রানা এই বিষয়ে মন্তব্য করে বলেন, "আমাদের জন্য এটা অনেক বড় ঘটনা। সংক্রমণের দায় এড়ানো মুশকিল। আমাদেরও জানতে হবে, কীভাবে ঘটনা ঘটল।"
ঘটনার সঙ্গে জড়িত এবং তদারকির দায়িত্বে থাকা বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নামও উঠে এসেছে। এই পুরো প্রক্রিয়ায় জয়া রানী দাস, মো. রাশেদুল হাসান, মো. আবুল কালাম আজাদ, মোহাম্মদ শাহরিয়ার সাজ্জাদ, মো. আরিফুল ইসলাম এবং আবু নাঈম মো. ইফতেখারুল ইসলাম বিভিন্ন পর্যায়ে যুক্ত ছিলেন। এছাড়া স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এবং মডার্ন ডায়াগনস্টিক সেন্টার অ্যান্ড ক্লিনিক-এর নামও সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসেছে।
বর্তমানে স্বাস্থ্য বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোর যৌথ তদন্ত দল এই প্রাদুর্ভাবের উৎস এবং সংক্রমণের সুনির্দিষ্ট কারণ উদঘাটনে কাজ করে যাচ্ছে। চাটমোহরের এই ১০ শয্যার হাসপাতালে ঘটে যাওয়া এই অস্বাভাবিক ঘটনার পর পুরো এলাকায় স্বাস্থ্যসেবা খাতে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।








