পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনি পরিবারকে বাড়ি ছাড়তে বাধ্য করল সেনা
অবরুদ্ধ পশ্চিম তীরের কুসরা শহরে ইসরায়েলি সেনারা দুটি ফিলিস্তিনি পরিবারকে বাড়িঘর ছাড়তে বাধ্য করেছে। পাশাপাশি বৃহস্পতিবার ভোরে শহরতলির আরও আটটি বাড়ি দখল করে নেওয়া হয়েছে।
প্রকাশ: · আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০২৬, রাত ৭:১২· ১ মিনিট পড়া

অবরুদ্ধ পশ্চিম তীরের কুসরা শহরতলিতে ফিলিস্তিনি পরিবারগুলোর ওপর নির্যাতন এবং বাড়িঘর দখলের ঘটনা ঘটেছে। ইসরায়েলি সেনারা দুটি ফিলিস্তিনি পরিবারকে তাদের বাড়িঘর ছাড়তে বাধ্য করেছে। বৃহস্পতিবার (সোর্স অনুযায়ী) ভোরে ইসরায়েলি সেনারা কুসরা শহরতলির আরো আটটি বাড়ি দখল করে নিয়েছে। এই আকস্মিক পদক্ষেপে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
ঘটনার বিবরণ দিয়ে কুসাই রিদি নামের এক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, সকাল ১০টার দিকে সেনাবাহিনী এসে তাদের বাড়িঘর খালি করে দিতে বলে। কারণ হিসেবে জানানো হয় যে, এলাকায় তিন দিনব্যাপী একটি সামরিক অভিযান চলবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, তারা যেতে রাজি হননি। এরপর সেনাবাহিনী তাদের সবাইকে একটি বাড়িতে জড়ো করে।
পরিস্থিতি এখানেই শেষ হয়নি। ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী ও সেনারা মিলে গ্রামের প্রান্তে থাকা তিনটি বাড়ির প্রবেশপথে তাঁবু খাটিয়ে তা পুরোপুরি আটকে দেয়। শুধু তাই নয়, অবরুদ্ধ এসব পরিবারের ওপর মানসিক চাপ সৃষ্টি করতে তাদের পানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহও সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়, যার ফলে তারা চরম মানবিক সংকটের মুখে পড়েছেন।
উদ্বেগ প্রকাশ করে কুসাই রিদি আরও বলেন, আমি ভীত এবং সেনাবাহিনী সত্যিই বসতি স্থাপনকারীদের সরিয়ে নেবে কিনা তা বিশ্বাস করি না। কিন্তু আমি আন্তরিকভাবে আশা করি তারা তা করবে। এই পরিস্থিতিতে সাধারণ ফিলিস্তিনিদের জীবনযাত্রা সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে এবং তারা চরম নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
এদিকে উদ্ভূত পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে গত বুধবার অধিকৃত পশ্চিম তীরের সমস্ত ইসরায়েলি সৈন্যের কমান্ডার মেজর জেনারেল আভি ব্লুথ কুসরায় আটকে পড়া ফিলিস্তিনিদের সঙ্গে দেখা করতে যান। তবে তার এই ভিজিট ও আশ্বাসের পরও পরিস্থিতির বাস্তবে কোনো উন্নতি ঘটেনি বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের মার্চ মাসে আমির মোতাসেম ওদেহ নামের এক ফিলিস্তিনি বসতি স্থাপনকারীর হাতে নিহত হয়েছিলেন। মোতাসেমের এই নিহতের ঘটনার পর থেকেই কুসরা শহরতলি ও এর আশেপাশের এলাকায় উত্তেজনা এবং সহিংসতার মাত্রা বহুগুণ বেড়ে গেছে, যার খেসারত দিতে হচ্ছে সাধারণ ফিলিস্তিনি পরিবারগুলোকে।








