আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের হামলা
তিশা বি’আভ উপলক্ষে হাজার হাজার ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী ও উগ্র ডানপন্থী কর্মীরা আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণে প্রবেশ করেছে। একই দিনে পশ্চিম তীরের তেল গ্রামে সশস্ত্র বসতি স্থাপনকারীদের হামলায় চার ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।
প্রকাশ: · আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০২৬, রাত ৭:১২· ১ মিনিট পড়া

গত ২৫ জুলাই ২০২৬ তারিখে পূর্ব জেরুজালেমের পবিত্র আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণে বড় ধরনের উত্তেজনা ও সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। তিশা বি’আভ উদযাপনের অংশ হিসেবে হাজার হাজার ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী ও উগ্র ডানপন্থী কর্মী এই চত্বরে জোরপূর্বক প্রবেশ করে। এই ঘটনার ফলে ফিলিস্তিনিদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনার বিবরণ অনুযায়ী, ৪ হাজার ২০০ জনেরও বেশি ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী আল-আকসা কম্পাউন্ডে প্রবেশ করেছে। এই উস্কানিমূলক প্রবেশের সময় ইসরায়েলি পুলিশ উপস্থিত ছিল এবং তাদের কঠোর সুরক্ষার চাদরে ঢেকে উগ্রপন্থী রাজনীতিবিদ ইতামার বেন-গভির আল-আকসা চত্বরে প্রবেশ করেন।
আল-আকসার ঘটনার দিনই অধিকৃত পশ্চিম তীরের নাবলুস শহরের কাছে অবস্থিত তেল গ্রামে ভয়াবহ রক্তপাত ঘটে। সেখানে সশস্ত্র বসতি স্থাপনকারীদের অতর্কিত হামলায় চারজন ফিলিস্তিনি নিহত হন। এই সহিংসতায় সামগ্রিক পরিস্থিতি আরও বেশি অবনতির দিকে মোড় নেয়।
এই উস্কানিমূলক পদক্ষেপে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। আল-আকসা প্রাঙ্গণে হামলা ও পশ্চিম তীরের সহিংসতার প্রেক্ষাপটে আটটি দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা একত্রিত হয়ে একটি যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করেছেন। মিশর, ইন্দোনেশিয়া, জর্ডান, পাকিস্তান, কাতার, সৌদি আরব, তুরস্ক এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান।
যৌথ বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, এই ধরনের উস্কানিমূলক কর্মকাণ্ড ঘৃণা ও চরমপন্থাকে আরও বাড়িয়ে তোলে। একই সঙ্গে এটি দ্বি-রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের ভিত্তিতে একটি ন্যায়সঙ্গত ও স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টাকে মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত করছে।
উল্লেখ্য যে, এই ঘটনার পাশাপাশি এই সংঘাত ও উত্তেজনা সম্পর্কিত বিভিন্ন তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। গত ৭ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া পরিস্থিতির পর থেকে এ সম্পর্কিত বিভিন্ন বিষয়বস্তু সামাজিক মাধ্যমে ৩০০ মিলিয়নেরও বেশি বার দেখা বা ইমপ্রেশন অর্জিত হয়েছে।
সার্বিকভাবে, ২৫ জুলাইয়ের এই ঘটনাগুলোতে আল-আকসার পবিত্রতা লঙ্ঘন এবং পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের প্রাণহানির ঘটনায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দেশ ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে এই অঞ্চলের শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে।








