পরিবেশবান্ধব নতুন ফোমভিত্তিক উপাদান উদ্ভাবন
পরিবেশের ক্ষতি না করে প্রাকৃতিক ফোমের অনুকরণে নতুন পোরোলাস বা সচ্ছিদ্র উপাদান তৈরি করেছেন গবেষকরা। কিয়োটো বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ঈসান শিভানিয়াহর নেতৃত্বে গঠিত আন্তর্জাতিক দল এই প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছে।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

টাইটানিয়াম ডাইঅক্সাইড বা ক্ষতিকর পিএফএএস (PFAS) ব্যবহার ছাড়াই গাঠনিক উজ্জ্বল সাদা রঙ এবং পানি-প্রতিরোধী বৈশিষ্ট্যযুক্ত নতুন এক ফোমভিত্তিক উপাদান প্ল্যাটফর্ম উদ্ভাবন করা হয়েছে। কিয়োটো বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ঈসান শিভানিয়াহর নেতৃত্বে একটি আন্তর্জাতিক গবেষণা দল এই নতুন প্রযুক্তিগত সাফল্য অর্জন করেছে। এই গবেষণায় কিয়োটো বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়াও টোকিও মেট্রোপলিটন বিশ্ববিদ্যালয় এবং দংহুয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা অংশ নেন।
প্রকৃতির অনুকরণে তৈরি বা বায়োমিমেটিক বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে একটি বড় চ্যালেঞ্জ হলো বিদ্যমান উপকরণের খরচ ও মাপে পরিবেশবান্ধব উপায়ে নকশা বাস্তবায়ন করা। এই বিষয়ে টোকিও মেট্রোপলিটন বিশ্ববিদ্যালয়ের তাইকি ইয়ানাগিশিমা উল্লেখ করেছেন, বায়োমিমেটিক বিজ্ঞানের মুখোমুখি হওয়া একটি মূল চ্যালেঞ্জ হলো বিদ্যমান উপকরণের স্কেল এবং খরচে প্রকৃতি দ্বারা অনুপ্রাণিত পরিবেশবান্ধব উপাদান নকশা উপলব্ধি করা।
গবেষকরা প্রাকৃতিক ফোমের আলো ছড়ানোর ক্ষমতা এবং পানি বিকর্ষণ করার বৈশিষ্ট্যকে অনুকরণ করে এই সচ্ছিদ্র বা পোরোলাস উপাদানগুলো প্রকৌশলবিদ্যার মাধ্যমে তৈরি করেছেন। এই নতুন উপাদানটি ক্ষতিকর রাসায়নিক বা উপাদান ছাড়াই সফলভাবে গাঠনিক সাদা রঙ এবং পানি-প্রতিরোধী কার্যকারিতা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে।
এই নতুন উপাদান তৈরির উৎপাদন প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে পলিমারকে আলোর সংস্পর্শে আনা এবং এরপর একটি মৃদু দ্রাবক দিয়ে সেটির চিকিৎসা বা প্রক্রিয়াজাতকরণ করা। এর ফলে পলিমারটি ফুলে ওঠে এবং আণুবৈক্ষনিক বা মাইক্রোস্কোপিক ছিদ্রের একটি উন্মুক্ত নেটওয়ার্ক তৈরি হয়।
উদ্ভাবিত এই উৎপাদন পদ্ধতিটি বাণিজ্যিকভাবে উপলব্ধ পলিমারের ওপর কার্যকরভাবে কাজ করে। এটি মুদ্রণযোগ্য পলিমার ফিল্ম এবং ফেব্রিক বা কাপড়ের উভয় ক্ষেত্রেই প্রয়োগ করা যেতে পারে।
নতুন এই প্রযুক্তির মাধ্যমে গবেষকরা ২০,০০০ ডিপিআই (DPI) রেজোলিউশন অর্জন করতে পেরেছেন। এই উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি পরিবেশবান্ধব উপাদান উৎপাদনে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।








