নোবিপ্রবি ছাত্রদলের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা, সংঘর্ষের জেরে সিদ্ধান্ত
হলের সিট পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, ভাঙচুর ও মারধরের ঘটনার পর নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (নোবিপ্রবি) শাখা ছাত্রদলের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে। ১৮ আগস্ট ২০২৬ তারিখে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
প্রকাশ: · আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০২৬, রাত ৭:১২· ১ মিনিট পড়া

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (নোবিপ্রবি) শাখা ছাত্রদলের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করেছে কেন্দ্রীয় সংসদ। ১৮ আগস্ট ২০২৬ তারিখে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই সিদ্ধান্ত আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়। সাম্প্রতিক অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও সংঘাতের প্রেক্ষাপটে কেন্দ্রীয় সংসদ এই পদক্ষেপ নেয়।
এর আগে ১৭ আগস্ট রাতে হলের সিট পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে নোবিপ্রবি ছাত্রদলের দুটি গ্রুপের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এই সংঘর্ষের সময় ক্যাম্পাসের আবাসিক হলে ব্যাপক ভাঙচুর চালানো হয় এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর মারধরের মতো অনভিপ্রেত ঘটনা ঘটে, যা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে চরম উত্তেজনার সৃষ্টি করে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ১৭ রাতের ওই সহিংসতার ঘটনায় দুই পক্ষের সংঘর্ষের জেরে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ক্যাম্পাসের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে কঠোর অবস্থান নেয় কেন্দ্রীয় ছাত্রদল। এর ফলশ্রুতিতে নোবিপ্রবি শাখা কমিটি বিলুপ্তির এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এ বিষয়ে জিয়াউর রহমান রাহান জানান, বিশ্ববিদ্যালয় দুই গ্রুপের সংঘর্ষের ঘটনায় ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছিরের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এ সিদ্ধান্ত দিয়েছে কেন্দ্রীয় সংসদ। কেন্দ্রীয় শীর্ষ নেতাদের নির্দেশক্রমেই এই কমিটি বিলুপ্তির প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।
প্রসঙ্গত, গত ১৭ আগস্ট রাতের ওই সংঘর্ষে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের বিভিন্ন পক্ষের নাম উঠে আসে। এই ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিষয়ে কেন্দ্রীয় সংসদ কঠোর নজরদারি রাখছিল। সংঘর্ষ, হল ভাঙচুর ও শিক্ষার্থীদের মারধরের ঘটনার তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেওয়ায় শেষ পর্যন্ত কমিটি বিলুপ্ত করার মতো বড় শাস্তিমূলক পদক্ষেপ এল।
এদিকে নোবিপ্রবি শাখা ছাত্রদলের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণার পর বিশ্ববিদ্যালয়টির সামগ্রিক রাজনৈতিক ও ছাত্রপরিস্থিতিতে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। সাধারণ শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে শান্তি ও শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখার দাবি জানিয়ে আসছেন। তবে এই কমিটি বিলুপ্তির মধ্য দিয়ে ছাত্রদলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল নিরসনে কেন্দ্রীয় সংসদ জোরালো বার্তা দিল বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।








