পাবনার ঈশ্বরদীতে কাফন পরে ও অস্ত্র নিয়ে যুবায়েরের মহড়া
পাবনার ঈশ্বরদীতে কাফন পরে ও লাইসেন্স করা অস্ত্র হাতে নিয়ে মহড়া দিয়েছেন ছাত্রদলের সাবেক নেতা জুবায়ের হোসেন বাপ্পি। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে পুলিশ তাকে আটক করে ডিবিতে হস্তান্তর করে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।
প্রকাশ: · আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০২৬, রাত ৭:১২· ১ মিনিট পড়া

পাবনার ঈশ্বরদীতে চাঞ্চল্যকর এক ঘটনা ঘটেছে, যেখানে ছাত্রদলের সাবেক নেতা জুবায়ের হোসেন বাপ্পি শরীরে ও মাথায় কাফনের কাপড় জড়িয়ে এবং হাতে লাইসেন্স করা শটগান নিয়ে প্রকাশ্যে শহরে মহড়া দিয়েছেন। সোমবার ও ১৮ আগস্টের এই ঘটনায় পুরো এলাকায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং পরবর্তীতে পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। ৩৫ বছর বয়সী জুবায়ের হোসেনের এমন অদ্ভুত ও ভীতিকর কর্মকাণ্ডের পর পরই ঈশ্বরদী থানা এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নানা আলোচনা শুরু হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, তিনি যখন কাফন পরে অস্ত্র হাতে রাস্তায় নামেন, তখন সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
এই ঘটনার পরপরই প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি ও এর বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা ঈশ্বরদী থানার সামনে জড়ো হন, যার ফলে এলাকায় তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করে। ঘটনার বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বক্তব্য দেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান। তিনি ফেসবুক লাইভে এসে দাবি করেন, জুবায়ের হোসেন ওরফে বাপ্পি একজন প্রতিবাদী ছেলে এবং তার রক্তে প্রতিবাদ রয়েছে। হাবিবুর রহমান আরও বলেন, পুরো ঈশ্বরদী এখন মাদকের আখড়ায় পরিণত হয়েছে এবং সুদের ব্যবসার কারণে শত শত পরিবার নিঃস্ব হচ্ছে। বাপ্পি মূলত এসবের প্রতিবাদ করতেই কাফন পরে থানায় গিয়েছিলেন এবং নিজের অস্ত্রটিও থানায় জমা দিয়েছেন। পরে হাবিবুর রহমান হাবিব নামে আরেক নেতাও একই সুরে দাবি করেন যে, বাপ্পী মাদক ও অপরাধের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে থানায় অস্ত্র জমা দিতে গিয়েছিলেন, কিন্তু বিষয়টিকে ভুলভাবে উপস্থাপন করে তার বিরুদ্ধে কুৎসা রটানো হচ্ছে।
তবে দলের অন্য একটি পক্ষের ভিন্ন সুর ও কঠোর অবস্থান লক্ষ্য করা গেছে। পৌর বিএনপির নেতা মাসুদ খন্দকার বলেন, ছেলেটি পূর্বে কী ছিল, তিনি তা জানেন না, তবে বর্তমানে সে তাদের দলের কোনো পদ-পদবিতে নেই। তিনি স্পষ্টভাবে জানান যে অস্ত্র ব্যবহারের নির্দিষ্ট আইন রয়েছে এবং ছেলেটি অপরাধ করলে সেই আইন অনুযায়ীই ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি মনে করেন। এছাড়া মাসুদ খন্দকার আরও বলেন, আইন অনুযায়ী প্রকাশ্যে অস্ত্র প্রদর্শনের কোনো সুযোগ নেই। তাদের দলের হলেও আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়, তাই আইন অনুযায়ীই তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
এদিকে মেহদী হাসান নামের এক ব্যক্তি জুবায়ের হোসেন বাপ্পীর বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ এনেছেন। তিনি অভিযোগ করে বলেন, বাপ্পী প্রকাশ্যে অস্ত্র হাতে নিয়ে তাকে হত্যার জন্য বকুলের মোড় থেকে রেলগেটে এসে তাকে গালাগালি ও হত্যার হুমকি দিয়েছেন। মেহদী হাসান জানান যে তিনি এ ঘটনায় থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন এবং দাবি করেছেন যেন দ্রুত বাপ্পীকে গ্রেফতার করে তার অস্ত্রের লাইসেন্স বাতিল করা হয়। এই অভিযোগ এবং পাল্টাপাল্টি অবস্থানের কারণে ঈশ্বরদীর রাজনৈতিক অঙ্গনে ও দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ ও গ্রুপিং প্রকাশ পেয়েছে।
পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে পুলিশ দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করে। ঈশ্বরদী থানার পুলিশ কর্মকর্তা প্রণব কুমার জানান, সকালে আটক করার পর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুপুরে বাপ্পীকে পাবনা জেলা গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) কাছে হস্তান্তর করা হয়। প্রণব কুমার আরও জানান, প্রকাশ্যে আগ্নেয়াস্ত্রের প্রদর্শন সম্পূর্ণ বেআইনি। কীভাবে তিনি লাইসেন্স পেয়েছেন এবং কেন এমন করলেন—তা নিয়ে বর্তমানে তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষ হলে লাইসেন্স বাতিলের আবেদনসহ সব প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে তিনি নিশ্চিত করেছেন।








