চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে সংঘর্ষ ও আহতদের মানবেতর জীবন
গত বছর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনায় প্রায় চারশ শিক্ষার্থী আহত হন। এর মধ্যে গুরুতর আহত শিক্ষার্থীরা এখনো শারীরিক ও আর্থিক সংকটে ভুগছেন এবং প্রশাসনের সহায়তা নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন।
প্রকাশ: · আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০২৬, রাত ৭:১৩· ১ মিনিট পড়া

২০২৬ সালের ১৬ আগস্ট প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, গত বছরের ৩০ ও ৩১ আগস্ট চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে এক সহিংস সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় সংঘটিত এই সংঘর্ষের ঘটনায় প্রায় ৪০০ শিক্ষার্থী আহত হন। এই সংঘর্ষের পর থেকেই আহত শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন শারীরিক ও আর্থিক সংকটের মধ্য দিয়ে দিন কাটাচ্ছেন।
সংঘর্ষে গুরুতর আহতদের মধ্যে তিনজনের পরিচয় পাওয়া গেছে, যারা হলেন—মামুন মিয়া, ইমতিয়াজ আহমেদ ও নাঈমুল ইসলাম। তারা এখনো তাদের শরীরের বিভিন্ন জটিল আঘাত এবং চিকিৎসার খরচ মেটাতে গিয়ে নানা ধরনের প্রতিকূলতার মুখোমুখি হচ্ছেন। ইমতিয়াজ আহমেদ তার শারীরিক অবস্থার কথা বলতে গিয়ে জানান, তার শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত শোচনীয় এবং তিনি বেশিক্ষণ দাঁড়াতে পারেন না। চিকিৎসকরা তাকে ওয়াকিং স্টিক ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছেন এবং স্নায়ুগত সমস্যার কারণে তার শরীর হঠাৎ কেঁপে ওঠে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
চিকিৎসার খরচ ও অন্যান্য সহায়তার বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে ইমতিয়াজ আহমেদ আরও জানান যে, তাদের চিকিৎসাসংক্রান্ত মেডিকেল কমিটিও ভেঙে দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, প্রশাসনের কাছে চিকিৎসার বিল ও ভাউচার জমা দেওয়ার পরও তারা সম্পূর্ণ অর্থ পাননি এবং একটি বড় অঙ্কের টাকা এখনো বকেয়া রয়ে গেছে। অন্যদিকে, আরেক আহত শিক্ষার্থী নাঈমুল ইসলাম জানান, তার হাতের ব্যথা এখনো কমেনি এবং তিনি ভারী কোনো বস্তু তুলতে পারেন না। সকালের দিকে এই ব্যথা আরও তীব্র আকার ধারণ করে। তার চিকিৎসাও এখনো প্রয়োজন, তবে তা চালিয়ে যাওয়ার মতো আর্থিক সামর্থ্য তার নেই।
এই ঘটনার নেপথ্য পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে শাহadat হোসেন জানিয়েছেন যে, সে সময়ের ঘটনার ফলে সৃষ্ট জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলা করার জন্যই মূলত বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছিল। তবে আহতদের অভিযোগের বিপরীতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে এম আল-আমিন ভিন্ন বক্তব্য তুলে ধরেন। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের খরচ মেটাতে ও সহায়তা দিতে বিশ্ববিদ্যালয় যথেষ্ট চেষ্টা করেছে। তাই যখন কেউ বলে যে তারা এটি বা ওটি পাচ্ছে না, তখন তা অত্যন্ত বেদনাদায়ক হয়। বিগত এক বছর ধরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন চেষ্টা করেছে যেন শিক্ষার্থীরা সব ধরনের সম্ভাব্য সহায়তা ও সুযোগ-সুবিধা পায়।
সংঘর্ষের পর আইনি পদক্ষেপের অংশ হিসেবে হাটহাজারী মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন আব্দুল রহিম। এই মামলায় ৯৫ থেকে ৯৮ জনকে নামীয় এবং ৮০০ থেকে ১০০০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়। মামলাটির তদন্ত ও আইনগত পদক্ষেপের বিষয়ে রোকন নাথ জানান যে, এই ঘটনায় মোট ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল এবং বর্তমানে তারা সবাই জামিনে মুক্ত রয়েছেন।
মামলার বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে মোহাম্মদ আল-ফোরকান বলেন, আসামিরা যদি জামিন পেয়ে থাকেন, তবে তা আদালত থেকে দেওয়া হয়েছে এবং তাদের মামলাটি এখনো চলমান রয়েছে। আদালত জামিন মঞ্জুর করলে আইনগতভাবে তাদের খুব বেশি কিছু করার থাকে না বলে তিনি মন্তব্য করেন। ডেইলি স্টার-এর প্রতিবেদনে উঠে আসা এই ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের মধ্যকার সংঘর্ষের ক্ষত এবং পরবর্তী আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতাগুলো এখনো দৃশ্যমান রয়েছে।








