নেপাল ও চীন সীমান্তে বন্যা ও ভূমিধসে মৃত ১০০০ ছাড়াল
নেপাল ও চীনের সীমান্ত অঞ্চলে গত ২৬ আগস্ট শুরু হওয়া ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে ১ হাজার ৩ জনের মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে। দুই দেশে এখনো নিখোঁজ রয়েছেন ৪ হাজার ৪৬২ জন।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

হিমালয় অঞ্চলে নেপাল ও চীনের সীমান্ত এলাকায় সাম্প্রতিক ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসের ঘটনায় মৃতের সংখ্যা এক হাজার ছাড়িয়েছে। প্রাকৃতিক এই দুর্যোগটি গত ২৬ আগস্ট শুরু হয়েছে। দুই দেশের সীমান্তবর্তী অঞ্চলে আকস্মিক এই বিপর্যয় জনজীবনকে মারাত্মকভাবে বিপর্যস্ত করে তুলেছে।
অনাবশ্যক বা বাইরের কোনো তথ্য ছাড়াই পাওয়া তথ্যানুযায়ী, এই বড় ধরনের দুর্যোগে দুই দেশে এখন পর্যন্ত ১ হাজার ৩ জনের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে। এর পাশাপাশি ৪ হাজার ৪৬২ জন মানুষ এখনো নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানা গেছে। সরকারি ও বিভিন্ন সংশ্লিষ্ট সূত্রে এই হতাহতের পরিসংখ্যান উঠে এসেছে।
প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, গত ২৬ আগস্ট নেপালের লাংটাং লিরুং পর্বতের প্রায় ৫ হাজার ২০০ মিটার উচ্চতায় একটি হিমবাহের অংশ ভেঙে যায়। এই হিমবাহ ভাঙার ঘটনার ফলেই মূলত এই ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসের সূত্রপাত ঘটে, যা পরবর্তীতে দুই দেশের সীমান্ত অঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে মারাত্মক প্রভাব ফেলে।
সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, কেবল নেপালেই মৃতের সংখ্যা ৯৮৭ জনে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া দেশটিতে নিখোঁজ রয়েছেন ৩ হাজার ৯১৬ জন। এর মধ্যে নেপালে নিখোঁজ হওয়া বিদেশি নাগরিকের সংখ্যা ৫৮৩ জন। একই সঙ্গে জলবিদ্যুৎকেন্দ্রে কর্মরত অবস্থায় নিখোঁজ হয়েছেন আরও ৬৩৯ জন কর্মী।
অন্যদিকে, চীনের সীমান্ত অঞ্চলেও এই দুর্যোগ বড় ধরনের ক্ষতি ডেকে এনেছে। চীনে এখন পর্যন্ত ১৬ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে এবং নিখোঁজ রয়েছেন ৫৪৬ জন। এর মধ্যে দেশটিতে নিখোঁজ হওয়া বিদেশি নাগরিকের সংখ্যা ২৬১ জন।
দুই দেশ মিলিয়ে নিখোঁজ বিদেশি নাগরিকের মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮৪৪ জনে। নিখোঁজ এই বিদেশি নাগরিকদের মধ্যে ভারতীয় ও চীনা নাগরিকের বড় একটি অংশ রয়েছে। সুনির্দিষ্ট তথ্যানুযায়ী, নিখোঁজ ভারতীয় নাগরিকের সংখ্যা ২৭৫ জন এবং নিখোঁজ চীনা নাগরিকের সংখ্যা ১০০ জন।
এই ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগের পর দুই দেশের স্থানীয় প্রশাসনের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ও সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলা এবং উদ্ধারকাজে সহায়তার জন্য চীন, দক্ষিণ কোরিয়া ও ভারত থেকে বিভিন্ন দল পাঠানো হয়েছে। সংবাদ সংস্থা আনাদোলু এবং এনডিআরআরএমএ সূত্রে এই উদ্ধার তৎপরতা ও ক্ষয়ক্ষতির তথ্য জানা গেছে।








