নেপালের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ২০১৫ সালের ভূমিকম্পের প্রেক্ষাপট
২০১৫ সালের ভয়াবহ ভূমিকম্পের পর নেপালে আন্তর্জাতিক উদ্ধারকারী দলের কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছিল। সম্প্রতি নুয়াকোট, ধাঘাট ও ত্রিশুলী বাজারে ভূমিধস ও আকস্মিক বন্যার ঘটনা ঘটে।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

নেপালের নুয়াকোট, ধাঘাট এবং ত্রিশুলী বাজার এলাকায় ভূমিধস ও আকস্মিক বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের প্রেক্ষাপটে দেশটির অতীতের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার ইতিহাস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে ২০১৫ সালে নেপালে আঘাত হানা প্রলয়ঙ্করী ভূমিকম্পের পর উদ্ধার ও ত্রাণকাজে আন্তর্জাতিক সহায়তার অভিজ্ঞতা এ ক্ষেত্রে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
ঘটনাপঞ্জি অনুযায়ী, ২০১৫ সালের ২৫ এপ্রিল নেপালে ৭.৮ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। ওই প্রাকৃতিক দুর্যোগে দেশটিতে ব্যাপক প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি সাধিত হয়। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, সেই ভূমিকম্পে প্রায় ৯ হাজার মানুষ নিহত হন এবং ২১ হাজারেরও বেশি মানুষ আহত হন।
এত বড় মাত্রার বিপর্যয়ের পর নেপাল সরকারের আহ্বানে সাড়া দিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয়। জাতিসংঘ বা ইউএন সমন্বয় ব্যবস্থার মাধ্যমে তখন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় নেপালের পাশে এসে দাঁড়ায়।
জাতিসংঘের সমন্বয় ব্যবস্থার মাধ্যমেই মূলত বিভিন্ন দেশ থেকে আন্তর্জাতিক আরবান সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ বা ইউএসএআর (USAR) দলগুলো নেপালে নিবন্ধিত হয়। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের মোট ৩১টি দেশ থেকে এসব উদ্ধারকারী দল নেপালে কার্যক্রম পরিচালনা করতে আসে।
নিবন্ধিত আন্তর্জাতিক দলগুলোতে সর্বমোট ১ হাজার ৮৭২ জন উদ্ধারকর্মী এবং ১১৮টি সন্ধানকারী কুকুর অংশ নেয়। সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালিত এই আন্তর্জাতিক দলগুলোর মোট নিবন্ধিত দলের সংখ্যা ছিল ৭৬টি।
তবে উদ্ধারকাজের গতিপ্রকৃতি ও পরিস্থিতির অবনতির কারণে পরবর্তী সময়ে নেপাল সরকার কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করে। সে সময় উদ্ধার কার্যক্রমের পরিস্থিতি বিবেচনা করে নেপাল সরকার ২৭ এপ্রিল নতুন কোনো বিদেশি ইউএসএআর দলকে দেশটিতে ভ্রমণ না করার অনুরোধ জানায়।
পরবর্তীতে দীর্ঘ উদ্ধার ও অনুসন্ধান কার্যক্রমের সমাপ্তি টানা হয়। সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২০১৫ সালের ৩ মে আন্তর্জাতিক অনুসন্ধান ও উদ্ধারকাজের আনুষ্ঠানিক পর্যায় সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়েছিল।








