নিজে ঠিক করা লক্ষ্য স্ক্রিনটাইম কমাতে বেশি কার্যকর
ভারত ও স্পেনের গবেষকদের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত একটি নতুন গবেষণায় দেখা গেছে, অন্যের চাপিয়ে দেওয়া সীমার চেয়ে নিজে নির্ধারিত স্ক্রিনটাইম কমানোর লক্ষ্য বেশি কার্যকর। সোশ্যাল সায়েন্স অ্যান্ড মেডিসিন জার্নালে এই গবেষণা প্রকাশিত হয়েছে।
প্রকাশ: · আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০২৬, রাত ৭:১৩· ১ মিনিট পড়া

স্মার্টফোনের অতিরিক্ত ব্যবহার কমাতে মানুষের নিজস্ব সিদ্ধান্ত কতটা ভূমিকা রাখতে পারে, তা নিয়ে সম্প্রতি ভারত ও স্পেনের গবেষকদের একটি যৌথ গবেষণা পরিচালিত হয়েছে। ‘সোশ্যাল সায়েন্স অ্যান্ড মেডিসিন’ নামক জার্নালে এই গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে। বর্তমান সময়ে মানুষের ডিজিটাল আসক্তি এবং স্মার্টফোনের পেছনে অতিরিক্ত সময় ব্যয় করার প্রবণতা কমাতে নতুন এই গবেষণাটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে এনেছে।
গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, একজন সাধারণ মানুষ দিনে প্রায় ছয় ঘণ্টা ফোনে ব্যয় করেন এবং প্রতি ঘণ্টায় অন্তত দুবার ফোন আনলক করেন। এই অতিরিক্ত ব্যবহারের অভ্যাস থেকে বেরিয়ে আসার উপায় খুঁজতে গবেষকরা একটি পরীক্ষামূলক উদ্যোগ গ্রহণ করেন। এর অংশ হিসেবে ১৪৯ জন স্বেচ্ছাসেবককে নিয়ে ৩৫ দিনব্যাপী একটি পরীক্ষা চালানো হয়।
গবেষণার অংশ হিসেবে অংশগ্রহণকারীদের বিভিন্ন গ্রুপে ভাগ করা হয়। প্রথম গ্রুপে ছিলেন ৫৫ জন অংশগ্রহণকারী, দ্বিতীয় গ্রুপে ছিলেন ৬২ জন অংশগ্রহণকারী এবং বাকি ৩২ জন অংশগ্রহণকারীকে অন্য একটি গ্রুপে রাখা হয়। এই বৈচিত্র্যময় অংশগ্রহণের মাধ্যমে গবেষকরা স্মার্টফোন ব্যবহারের সময় কমানোর বিভিন্ন পদ্ধতির কার্যকারিতা মূল্যায়ন করেন।
পরীক্ষায় দেখা গেছে, যে অংশগ্রহণকারীরা নিজেদের স্ক্রিনটাইম কমানোর লক্ষ্য নিজে নির্ধারণ করেছিলেন, তারা প্রতিদিন গড়ে ৪৯ মিনিট স্ক্রিনটাইম কমাতে সক্ষম হয়েছেন। পক্ষান্তরে, যাদের জন্য নির্দিষ্ট কোনো লক্ষ্য বা সীমা ঠিক করে দেওয়া হয়েছিল, তারা গড়ে মাত্র ২৩ মিনিট কমাতে পেরেছেন। অর্থাৎ, প্রথম গ্রুপটি ১১ শতাংশ বেশি সফলতার সঙ্গে তাদের দৈনিক লক্ষ্য পূরণ করতে পেরেছে।
অন্যদিকে, কোনো ধরনের লক্ষ্য নির্ধারণ না করা নিয়ন্ত্রণ গ্রুপের অংশগ্রহণকারীদের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ বিপরীত চিত্র দেখা গেছে। এই গ্রুপে থাকা সদস্যদের স্ক্রিনটাইম কমার পরিবর্তে প্রতিদিন গড়ে ১১ মিনিট করে বেড়ে গেছে।
গবেষণা শেষে আরও দেখা গেছে যে, যারা নিজে লক্ষ্য নির্ধারণ করেছিলেন তারা পরবর্তী সময়েও দৈনিক প্রায় ১৬ মিনিট কম ফোন ব্যবহার অব্যাহত রাখেন। আর যাদের ওপর লক্ষ্য চাপিয়ে দেওয়া হয়েছিল তারা দৈনিক প্রায় ১১ মিনিট কম ব্যবহার করেন। সামগ্রিকভাবে এই গবেষণার ফলাফল প্রমাণ করে যে, স্মার্টফোনের ব্যবহার কমাতে মানুষের নিজস্ব আত্মনিয়ন্ত্রণ এবং স্বনির্ধারিত লক্ষ্যই সবচেয়ে বেশি ফলপ্রসূ।








