নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রসারে জোর: লক্ষ্য ২০ শতাংশ বিদ্যুৎ
বাংলাদেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও রুফটপ সোলার খাতের সম্প্রসারণে নতুন নীতিমালা গ্রহণ করা হয়েছে। ২০৩০ ও ২০৪০ সালের মধ্যে লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের পাশাপাশি নেট মিটারিং গাইডলাইনের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহের সুযোগ তৈরি হয়েছে।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

বাংলাদেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং রুফটপ সৌরবিদ্যুৎ খাতের ব্যাপক সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দেশের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদা মেটাতে এবং টেকসই বিদ্যুৎ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে এই খাতের উন্নয়নকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বর্তমান প্রেক্ষাপটে সরকারের নীতিগত সহায়তা ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণে এই খাতের কার্যক্রম আরও গতিশীল হচ্ছে।
দেশের জ্বালানি খাতের রূপান্তরে নবায়নযোগ্য জ্বালানি নীতি ২০২৫ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এই নীতিমালায় সৌরবিদ্যুৎ খাতকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এর মূল লক্ষ্য হলো দেশের জ্বালানি নিরাপত্ত নিশ্চিত করা এবং জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমানো।
নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী, সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের মোট বিদ্যুতের চাহিদার ২০ শতাংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে পূরণের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। এই লক্ষ্য অর্জনে বহুমুখী পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে, যার মধ্যে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের ওপর সর্বাধিক জোর দেওয়া হয়েছে।
শুধু ২০৩০ সাল নয়, দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা হিসেবে ২০৪০ সালের মধ্যে নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে মোট বিদ্যুতের ৩০ শতাংশ পূরণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এই উচ্চাভিলাসী লক্ষ্য বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের জ্বালানি খাত একটি দীর্ঘস্থায়ী ও পরিবেশবান্ধব কাঠামোর ওপর দাঁড়াবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এই খাতের সম্প্রসারণে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ উৎপাদনের বড় পরিকল্পনাও রয়েছে। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, দেশে আরও ৩ হাজার মেগাওয়েট অতিরিক্ত রুফটপ সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। স্কুল, কলেজ, কারখানা ও বড় বড় বাণিজ্যিক ভবনের ছাদ ব্যবহার করে এই বিদ্যুৎ উৎপাদনের কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
উৎপাদিত অতিরিক্ত বিদ্যুৎ ব্যবহারের ক্ষেত্রে নেট মিটারিং গাইডলাইন-২০২৫ অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখছে। এই গাইডলাইন অনুযায়ী, গ্রাহক নিজ প্রাঙ্গণে উৎপাদিত বিদ্যুৎ নিজে ব্যবহার করার পাশাপাশি অতিরিক্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করতে পারেন। এতে একদিকে যেমন গ্রাহকরা লাভবান হচ্ছেন, অন্যদিকে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে বাড়তি বিদ্যুৎ।
সরকারি এই নীতিমালার পাশাপাশি বেসরকারি খাতের উদ্যোক্তারাও এগিয়ে আসছেন। দেশের অন্যতম শিল্পগোষ্ঠী ম্যাক্স গ্রুপ রূপান্তরিত জ্বালানি খাতে তাদের কার্যক্রম সম্প্রসারণের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। সংশ্লিষ্ট মহл মনে করছে, সরকারি ও বেসরকারি খাতের এই যৌথ উদ্যোগের ফলে বাংলাদেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের ভবিষ্যৎ আরও সুদৃঢ় হবে।








