দৃষ্টিশক্তি ফেরাতে ফটোসুইচএবল ওষুধের উন্নয়ন
অন্ধত্ব দূর করতে প্রোসথে৬ নামের ফটোসুইচএবল ছোট অণুর ওষুধ তৈরি করেছে গবেষক দল। প্রাণীর মডেলে এই চিকিৎসা পদ্ধতি দৃষ্টিশক্তি ও স্বাভাবিক আচরণ ফেরাতে সফল হয়েছে।
প্রকাশ: · আপডেট: ২৯ আগস্ট ২০২৬, সকাল ৬:০২· ১ মিনিট পড়া

বিশ্বজুড়ে প্রায় ২০ কোটি মানুষ বয়সজনিত ম্যাকুলার ডিেনারেশন বা এএমডি এবং রেটাইনিটিস পিগমেন্টোসা বা আরপি রোগের কারণে দৃষ্টিশক্তি হারানোর ঝুঁকিতে বা আক্রান্ত অবস্থায় আছেন। এ ধরনের অবক্ষয়জনিত চোখের রোগে ফটোিসেপ্টর নষ্ট হয়ে যাওয়ার ফলে অন্ধত্বের সৃষ্টি হয়। এই বৈশ্বিক সমস্যার প্রেক্ষাপটে গবেষকরা নতুন এক চিকিৎসা পদ্ধতির উন্নয়ন ঘটিয়েছেন, যা অন্ধত্বের শিকার প্রাণীর মডেলে দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছে।
এই গবেষণার নেতৃত্ব দিয়েছে ইনস্টিটিউট ফর বায়োইঞ্জিনিয়ারিং অব কাতালোনিয়া বা আইবিইসি-র একটি গবেষণা কনসোর্টিয়াম। এই প্রক্রিয়ায় প্রোসথে৬ (prosthe6) নামক ফটোসুইচএবল ছোট অণুর ওষুধ তৈরি করা হয়েছে। ক্যাটালোনিয়ার ইনস্টিটিউট ফর বায়োইঞ্জিনিয়ারিং অব কাতালোনিয়ার ন্যানোপ্রোবস অ্যান্ড ন্যানোস্ুইচেস গ্রুপের প্রধান এবং আইসিআরইএ রিসার্চ প্রফেসর ও সিআইবিইআর-বিবিএন-এর সদস্য পাউ গোরোস্তিজা এই গবেষণা দলের নেতৃত্ব দেন।
এই গবেষণায় আরও যুক্ত ছিলেন আইবিইসি-র পোস্টডক্টোরাল গবেষক রোসালবা সোরতিনো এবং গবেষক পেদ্রো দে লা ভিলা। এছাড়া বার্সেলোনা বিশ্ববিদ্যালয়, আলকালা বিশ্ববিদ্যালয় বা ইউএএইচ, ইনস্টিটিউট অব অ্যাডভান্সড কেমিস্ট্রি অব কাতালোনিয়া বা আইকিউএসি-সিএসআইসি, রামোন ওয়াই কাহাল ইনস্টিটিউট অব হেলথ রিসার্চ বা আইআরওয়াইসিআইএস, স্বায়ত্তশাসিত বিশ্ববিদ্যালয় অব বার্সেলোনা বা ইউএবি এবং ফান্ডাসিও এদুয়ার্দ সোলার এই গবেষণার সাথে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করেছে।
চিকিৎসা পদ্ধতির কার্যকারিতা প্রসঙ্গে পাউ গোরোস্তিজা বলেন, "এই অণুগুলো অন্ধত্ব নিরাময় করে না, কারণ এগুলো ফটোিসেপ্টরের অবক্ষয়ের মূল কারণকে দূর করে না। তবে এগুলো দৃষ্টিশক্তি ফেরাতে অত্যন্ত কার্যকর এবং খুব সাধারণ ও সম্ভাব্য রোগী-বান্ধব পদ্ধতির মাধ্যমে তা করে থাকে।" এই গবেষণার বিস্তারিত ফলাফল আমেরিকান কেমিক্যাল সোসাইটির জার্নাল বা জাক্স (JACS)-এ প্রকাশিত হয়েছে।
নতুন এই ওষুধের বিশেষত্ব হলো, জিনের কোনো ধরনের পরিবর্তন বা শরীরে কোনো ডিভাইস প্রতিস্থাপন ছাড়াই কেবল ইনজেকশন বা আই ড্রপের মাধ্যমে এই যৌগগুলো প্রয়োগ করা সম্ভব। গবেষকদের লক্ষ্য ছিল এমন একটি আণবিক প্রক্রিয়া ব্যবহার করা যা সুস্থ রেটিনা যেভাবে কাজ করে তার যতটা সম্ভব কাছাকাছি হতে পারে। এ বিষয়ে রোসালবা সোরতিনো জানান, তাদের লক্ষ্য ছিল সুস্থ রেটিনার কার্যপ্রণালীর কাছাকাছি যাওয়া।
গবেষণার অংশ হিসেবে পেদ্রো দে লা ভিলা ব্যাখ্যা করেন যে সুস্থ দৃষ্টিতে ওএন বাইপোলার কোষগুলো আলোর উপস্থিতির তথ্য ভিজুয়াল সার্কিটের বাকি অংশে পৌঁছে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। অবক্ষয়জনিত চোখের রোগে ফটোিসেপ্টরগুলো নষ্ট হয়ে গেলেও এর অন্তর্নিহিত সার্কিটের বেশিরভাগ অংশ অক্ষত কিন্তু নিষ্ক্রিয় থাকে, যা একটি বড় থেরাপিউটিক সুযোগ তৈরি করে।
পরীক্ষামূলক মডেলে দেখা গেছে যে এই চিকিৎসা পদ্ধতি অন্ধ জেব্রাফিশ লার্ভার স্যাক্যাদিক চোখের নড়াচড়া এবং ইঁদুরের মডেলে আলো এড়ানোর আচরণ সফলভাবে ফিরিয়ে এনেছে। বিশ্বজুড়ে দৃষ্টিশক্তি হারানোর ফলে স্বাস্থ্যসেবা ব্যয় এবং উৎপাদনশীলতা হ্রাসের মাধ্যমে বার্ষিক অর্থনৈতিক ক্ষতির পরিমাণ চারশ বিলিয়ন মার্কিন ডলারেরও বেশি, যা এই ধরনের উদ্ভাবনী চিকিৎসার গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।








