দুই দশক ধরে পরিত্যক্ত চাঁপাইনবাবগঞ্জের দেওপুরা খাদ্যগুদাম
চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার দেওপুরা সরকারি খাদ্যগুদামটি প্রায় তিন একর জমির ওপর নির্মিত হলেও একটি ডাকাতির ঘটনার পর থেকে প্রায় দুই দশক ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে। এর ফলে এলাকার কৃষকরা তাদের উৎপাদিত ফসল বিক্রি করতে গিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার পার্বতীপুর ইউনিয়নের দেওপুরায় প্রায় তিন একর জমির ওপর নির্মিত সরকারি খাদ্যগুদাম ও আবাসিক ভবনটি বর্তমানে দীর্ঘমেয়াদী পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে যে, এই বিশাল চত্বরটি দীর্ঘদিন ধরে কোনো ব্যবহার ছাড়াই পড়ে আছে।
স্থানীয়রা জানান, অতীতে এখানে একটি ডাকাতির ঘটনা ঘটেছিল। এই ডাকাতির ঘটনার পর থেকেই মূলত নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে খাদ্যগুদামটির কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হয়। এরপর কেটে গেছে দীর্ঘ প্রায় দুই দশক, কিন্তু আজও এটি চালুর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
দীর্ঘদিন ধরে এই সরকারি প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ থাকায় এলাকার সাধারণ কৃষকরা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। স্থানীয় কৃষকদের প্রতিনিধি জাহাঙ্গীর আলম এই বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে একটি গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেছেন।
জাহাঙ্গীর আলমের দেওয়া উদ্ধৃতি অনুযায়ী, কৃষকরা জানিয়েছেন যে কোন ফসল বিক্রিতে তারা সরাসরি আড়তদারদের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছেন। কম দামে তাদেরকে ফড়িয়াদের কাছে তাদের কষ্টে উপার্জিত ফসল বিক্রি করতে হচ্ছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, এমন পরিস্থিতির কারণে কৃষকদের জীবনযাত্রার মান যেমন উন্নয়ন হচ্ছে না, তেমনি তাদের উৎপাদিত ফসলের উৎপাদন খরচও উঠছে না। ফলস্বরূপ, বর্তমান এমন অবস্থায় তারা সম্পূর্ণ দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নাচোল, গোমস্তাপুর ও দেওপুরা অঞ্চলের কৃষিকাজ ও অর্থনীতিতে এই খাদ্যগুদামটি চালুর দাবি দীর্ঘদিনের। তবে হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ, রাধা কান্ত, মনিরুজ্জামান মনির, মোহন আহমেদ ও এএনএম ওয়াসিম ফিরোজের মতো সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষ এবং জাগো নিউজ ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা নাগরিক কমিটি এই অঞ্চলের সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে নানা সময় আলোচনা করলেও পরিত্যক্ত দেওপুরা গুদামটির ভাগ্যের পরিবর্তন হয়নি।
প্রায় তিন একর জমির ওপর গড়ে ওঠা এই সরকারি অবকাঠামোটি পুনরায় চালু করা হলে এলাকার কৃষকরা উপকৃত হতে পারতেন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। কিন্তু বর্তমানে কার্যকারিতা হারিয়ে ফেলায় বিশাল এই সম্পত্তি শুধুই অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে রয়েছে।








