ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় ডেঙ্গুতে মারা গেল ৬ বছরের আবির
ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ১৬ আগস্ট ঢাকা বাংলাদেশ শিশু হাসপাতালে মারা গেছে ৬ বছরের শিশু মো. আবির। পরিবারের অভিযোগ, ভুল ও দেরিতে চিকিৎসা এবং হাসপাতালের নানা অবহেলার কারণে এই মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। চার দিনের চিকিৎসায় তাদের ব্যয় হয়েছে ১ লাখ ১৩ হাজার টাকা।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে ছয় বছরের শিশু মো. আবির। ১৬ আগস্ট ২০২৩ তারিখে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত বাংলাদেশ শিশু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। শিশুটির মৃত্যুর পর তার পরিবার ডেঙ্গু চিকিৎসার পাশাপাশি নানা অনিয়ম ও অবহেলার অভিযোগ তুলেছে।
আবিরের বাড়ি গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার উত্তর রাজিবপুর গ্রামে। তবে তার পরিবার দীর্ঘদিন ধরে ঢাকার আশুলিয়ায় বসবাস করে আসছে। আকস্মিক ডেঙ্গু আক্রান্ত হওয়ার পর তাকে নিয়ে চরম দুর্দশায় পড়ে পরিবারটি।
ঘটনার বিবরণ অনুযায়ী, গত ১৩ আগস্ট আশুলিয়ার জামগড়া নারী ও শিশু হাসপাতালে আবিরকে ভর্তি করা হয়। সেখানে পরীক্ষার পর তার ডেঙ্গু রোগ শনাক্ত হয়। ওই হাসপাতালে চার দিনের চিকিৎসায় তাদের মোট ১ লাখ ১৩ হাজার টাকা খরচ হয়েছে বলে জানা গেছে।
চিকিৎসার এক পর্যায়ে অবস্থার অবনতি হলে আবিরকে ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়। ১৬ আগস্ট বিকেল ৩টার ২৬ মিনিটের দিকে বাংলাদেশ শিশু হাসপাতালের বেডে শুয়ে থাকা অবস্থায় আবির তার বাবা শফিউল ইসলামকে বলে ওঠে, ‘পানি খামু আব্বু’।
ওই মুহূর্তের বর্ণনা দিয়ে বাবা শফিউল ইসলাম জানান, তখন আবিরের মুখে অক্সিজেন মাস্ক ছিল। মাস্ক খুলে পানি খেতেই তার কাশি আসে এবং কাশির সাথে ব্লিডিং শুরু হয়। রক্ত মুখের বাইরেও চলে আসে। মুখ মুছতে মুছতেই তিনি বুঝতে পারেন যে রক্ত ভেঙে পড়ছে। আর তার কিছুক্ষণের মধ্যেই আবির মারা যায়।
বাবার মনে প্রশ্ন জাগে, যে ছেলে সুস্থভাবে ঘুরে বেড়াত এবং যার শরীরে এর আগে ক্যানসার থাকার কোনো লক্ষণ ছিল না, মৃত্যুর ঠিক আগ মুহূর্তে এমন কথা কীভাবে সত্য হয়? শফিউল ইসলামের ভাষ্যমতে, ‘ডাক্তার বলছিল— শুধু ডেঙ্গু না, ওর নাকি ব্লাড ক্যান্সারও ছিল। যদিও তাতে আর কার কি আসে! যার যায় সেই শুধু বোঝে!’
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, রোগীর এই জটিল পরিস্থিতিতে নার্স ও চিকিৎসকদের নতুন শিফটের কর্মীরা বারবার ‘নতুন শিফট আসুক’ বলে সময়ক্ষেপণ করছিলেন। এমন দায়িত্বহীন আচরণ ও দেরিতে চিকিৎসার কারণে শিশুটির অবস্থা আরও সংকটজনক হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ পরিবারের।








