ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে এআই ক্যামেরায় নজরদারি, দুই দিনে ৫০২ মামলা
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে এআই প্রযুক্তিনির্ভর 'অটো ফাইন সিস্টেম' ক্যামেরার মাধ্যমে ট্রাফিক নজরদারি ও মামলা দায়ের শুরু হয়েছে। গত দুই দিনে এই ব্যবস্থার মাধ্যমে মোট ৫০২টি মামলা করা হয়েছে। মহাসড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
প্রকাশ: · আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০২৬, রাত ৭:১২· ১ মিনিট পড়া

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করতে এআই প্রযুক্তিনির্ভর 'অটো ফাইন সিস্টেম' ক্যামেরার মাধ্যমে ট্রাফিক নজরদারি ও মামলা দায়ের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। গত দুই দিনে (বুধবার সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত) এই ব্যবস্থার আওতায় মহাসড়কে মোট ৫০২টি মামলা করা হয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ গত মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে এই সিস্টেম উদ্বোধন করেন। যাত্রাবাড়ী থেকে চট্টগ্রাম সিটি গেট পর্যন্ত প্রায় ২৫০ কিলোমিটার মহাসড়কে এই কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এর মধ্যে মেঘনাঘাট, সোনারগাঁ, নারায়ণগঞ্জ ও কুমিল্লা এলাকা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
এই পুরো মহাসড়ক ও এর বিভিন্ন পয়েন্টে মোট এক হাজার ৪২৭টি এআই ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। এর মধ্যে শুধু কুমিল্লার ১০৫ কিলোমিটার অংশেই রয়েছে ১৯৯টি ক্যামেরা। সামগ্রিক নিরাপত্তা ও ট্রাফিক নজরদারির জন্য মোট ৪৯০টি পয়েন্টে এসব ক্যামেরা কাজ করছে। হাইওয়ে পুলিশ ও এআই ক্যামেরা মনিটরিং ডেটা সেন্টার এই কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
উদ্বোধনের পর থেকেই এই ক্যামেরার মাধ্যমে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের বিষয়গুলো ধরা পড়ছে। হাইওয়ে পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার গাড়ির সর্বোচ্চ গতিসীমা ৮০ থেকে ৮৫ নির্দিষ্ট ছিল, তবে বুধবার তা বাড়িয়ে সর্বোচ্চ গতিসীমা করা হয়েছে ৯০।
এ বিষয়ে হাইওয়ে পুলিশের কর্মকর্তা আনিছুর রহমান সমকালকে জানান, মঙ্গলবার গাড়ির সর্বোচ্চ গতিসীমা ৮০ থেকে ৮০ নির্দিষ্ট ছিল, বুধবার তা বাড়িয়ে সর্বোচ্চ গতিসীমা করা হয়েছে ৯০। বেশির ভাগ মামলা হচ্ছে গতিসীমা লঙ্ঘন করার অপরাধে। তবে ধীরে ধীরে সবাই সতর্ক হয়ে যাচ্ছেন।
মহাসড়কে এই প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে ইতিবাচক মন্তব্য এসেছে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মহল থেকে। কুমিল্লা বাস মালিক সমিতির নেতা তাজুল ইসলাম বলেন, উন্নত দেশের প্রযুক্তির এ ছোঁয়া আমাদের মহাসড়কে যুক্ত হয়েছে। তবে প্রযুক্তিটি নিয়ে আমাদের পরিবহন শ্রমিকদের মাঝে আরও প্রচারণা দরকার। এতে সরকারের উদ্যোগ সফল হবে।
উদ্যোগটির মূল লক্ষ্য সম্পর্কে হাইওয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মহাসড়কে এআই প্রযুক্তির ক্যামেরায় কার্যক্রম আরও বাড়ানো হবে। এআই ক্যামেরায় ট্রাফিক আইন ভঙ্গের প্রবণতা কমার পাশাপাশি সড়কে নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা আরও জোরদার হবে। ইতোমধ্যে সেটির প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। শুধু জরিমানা আদায়ই উদ্দেশ্য নয়, মহাসড়কে নিরাপদ ও শৃঙ্খলাপূর্ণ যানবাহন চলাচল নিশ্চিত করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। পরিবহন শ্রমিকদের মাঝে এ বিষয়ে প্রচারণা চালানো হবে।








