বাঞ্ছারামপুর হাসপাতালে সিজারিয়ান সেবা ব্যাহত
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসকদের অনুপস্থিতির কারণে সিজারিয়ান অপারেশন সেবা ব্যাহত হচ্ছে। গত ১ জুলাই সেবাটি চালু হলেও তা মূলত সপ্তাহের দুই দিনে সীমাবদ্ধ রয়েছে।
প্রকাশ: · আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০২৬, রাত ৭:১২· ১ মিনিট পড়া

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বাঞ্ছারামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসকদের অনুপস্থিতির কারণে সিজারিয়ান অপারেশন সেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। গত ২০২৪ সালের জুলাই মাসভিত্তিক প্রাপ্ত তথ্যে এই চিত্র উঠে এসেছে। অথচ সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় সরকারি স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে গত ১ জুলাই বাঞ্ছারামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনুষ্ঠানিকভাবে সিজারিয়ান অপারেশন সেবা চালু করা হয়েছিল।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, এই সেবার জন্য সুস্মিতা সাহা গাইনি কনসালট্যান্ট এবং হাবিবুর রহমান অ্যানেস্থেশিয়া চিকিৎসক হিসেবে যোগদান করেছেন। সরকারিভাবে এই উদ্যোগ গ্রহণ করায় স্থানীয় সাধারণ মানুষ প্রাথমিকভাবে বেশ আশ্বস্ত হয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে তা কার্যকর হওয়ার পর নানা জটিলতা ও চিকিৎসকদের অনিয়মিত উপস্থিতির অভিযোগ উঠেছে।
বর্তমানে বাঞ্ছারামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সিজারিয়ান অপারেশন কার্যক্রম মূলত সপ্তাহের মাত্র দুই দিন—রোববার ও বুধবার—সীমিত রয়েছে। এই সীমিত কার্যপরিধি এবং চিকিৎসকদের নিয়মিত উপস্থিতি না থাকায় গর্ভবতী নারী ও তাদের স্বজনরা কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এ বিষয়ে সেবা নিতে আসা সিপন মিয়া হতাশা প্রকাশ করে বলেন, সরকারি হাসপাতালে সিজারিয়ান অপারেশন সেবা চালুর ঘোষণা শুনে আমরা আশ্বস্ত হয়েছিলাম। কিন্তু প্রয়োজনের সময় চিকিৎসক না থাকলে এই ঘোষণার সুফল সাধারণ মানুষ কীভাবে পাবে?
আরেক সেবাগ্রহীতা তানজিনা আক্তার তার অনুভূতির কথা জানিয়ে বলেন, আমরা তেমন সচ্ছল না, সরকারি চিকিৎসা পেলে আমাদের অনেক উপকার হবে, সরকার পর্যাপ্ত ডাক্তার দেওয়ার পরও আমরা কাঙ্ক্ষিত সেবা পাচ্ছি না, এটা আমাদের জন্য কষ্টের।
অভিযোগের বিষয়ে অ্যানেস্থেশিয়া চিকিৎসক হাবিবুর রহমান বলেন, গাইনি কনসালট্যান্ট না থাকলে তো আমার গিয়ে কোনো লাভ নেই, জরুরি প্রয়োজনে সিজারিয়ান অপারেশন দরকার হলে আমাকে কল দিলে আমি ২ ঘণ্টার মধ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহর থেকে ওখানে যেতে পারব।
অন্যদিকে গাইনি কনসালট্যান্ট সুস্মিতা সাহা দাবি করেন, রবি ও বুধবার ছাড়া আমি অন্যদিনও যাই। মাঝে মধ্যে সমস্যা হলে তখন ভিন্ন বিষয়। এদিকে সমকাল সূত্রে জানা গেছে, চিকিৎসকদের এমন নানা অজুহাত ও অনুপস্থিতির কারণে বাঞ্ছারামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সিজারিয়ান অপারেশন সেবা চালুর মূল উদ্দেশ্য হোঁচট খাচ্ছে এবং ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে সাধারণ রোগীদের।








