ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ফেসবুকে লাইভ করায় বহিষ্কৃত এনসিপি নেতা মারধরের শিকার
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে স্থানীয় এমপির সমালোচনা করে ফেসবুক লাইভ করার জেরে বহিষ্কৃত এনসিপি নেতা আসাদ খোকনকে মারধর ও অচেতন করে পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে। ১৪ আগস্ট ২০২৬ তারিখে এই ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ তাকে পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দেয়।
প্রকাশ: · আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০২৬, রাত ৭:১৩· ১ মিনিট পড়া

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে ফেসবুক লাইভে স্থানীয় সংসদ সদস্যের সমালোচনার জেরে আসাদ খোকন নামের এক বহিষ্কৃত এনসিপি নেতাকে মারধর ও অচেতন করার পর পুলিশে সোপর্দ করার ঘটনা ঘটেছে। ১৪ আগস্ট ২০২৬ তারিখে হরিপুর রাজবাড়ি এলাকায় এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটে। ঘটনার সময় ভুক্তভোগী আসাদ খোকন ‘ঐক্যবদ্ধ ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর’ নামক সংগঠনের একটি নৌকা ভ্রমণ ও বনভোজনে অংশ নিতে সেখানে গিয়েছিলেন।
ঘটনার বিবরণ দিয়ে সাবের হোসাইন জানান, আসাদ খোকন নানান সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ আসনের এমপি আব্দুল হান্নান ও সরকারের সমালোচনা করতেন। তিনি নাসিরনগরের বাসিন্দা হলেও মূলত ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরে বসবাস করেন। ১৪ আগস্ট তারিখে আয়োজিত নৌকা ভ্রমণ ও বনভোজনে নাসিরনগরে গিয়ে তিনি ফেসবুক লাইভ করেন। সেই লাইভ দেখে বিএনপির নেতাকর্মীরা সেখানে এসে তার ওপর তিন দফা হামলা চালিয়ে তাকে রক্তাক্ত করে। সাবের হোসাইনের দাবি, সমালোচনা করার কারণেই এমপির লোকজন আসাদ খোকনের ওপর এই হামলা চালিয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হরিপুর রাজবাড়িতে অবস্থানকালে আসাদ খোকন ফেসবুক লাইভ করার সময় তার ওপর হামলা চালানো হয়। হামলাকারীরা তাকে বেদম মারধর করে একটি ঘরের ভেতর নিয়ে যায় এবং সেখানে তাকে অচেতন করে ফেলা হয়। পরবর্তীতে মারধরের শিকার ওই নেতাকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। তবে ঘটনার সময় ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ আসনের সংসদ সদস্য এম এ হান্নান দেশের বাইরে ওমরাহ পালনরত অবস্থায় ছিলেন।
এই বিষয়ে কে এম বশির উদ্দিন তুহিন বলেন, স্থানীয়দের সঙ্গে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে মারধরের ঘটনা ঘটে। তবে তাদের লোকজন এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত নয় বলে দাবি করেন তিনি। অন্যদিকে এই প্রসঙ্গে মোহাম্মদ শাহিনুল ইসলাম জানান, ফেসবুকে নানান পোস্টের কারণে এলাকার লোকজন আসাদ খোকনের ওপর ক্ষিপ্ত ছিল এবং হয়তো এই কারণেই তার ওপর হামলা হয়ে থাকতে পারে।
নাসিরনগর থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং মারধরের শিকার আসাদ খোকনকে উদ্ধার করে। পরবর্তীতে পুলিশি হেফাজতে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। তবে এই ঘটনায় আসাদ খোকনের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট কোনো লিখিত অভিযোগ বা মামলা দায়ের করা হয়নি। কোনো লিখিত অভিযোগ না থাকায় এবং আইনি প্রক্রিয়া শেষে পুলিশ আসাদ খোকনকে তার পরিবারের জিম্মায় হস্তান্তর করে।








