টিকটিকির বিবর্তন, বৈচিত্র্য ও সংরক্ষণ নিয়ে বৈজ্ঞানিক গবেষণা
নতুন এক বৈজ্ঞানিক গবেষণায় টিকটিকির বিবর্তন ও উৎপত্তি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উঠে এসেছে। স্কোয়ামাটা বর্গের এই শীতল রক্তের প্রাণীগুলোর আকার ও বৈচিত্র্য নিয়ে বিস্তারিত জানিয়েছেন গবেষকরা। একই সঙ্গে বিশ্বজুড়ে সরীসৃপ প্রজাতির টিকে থাকার ঝুঁকি নিয়েও সতর্ক করা হয়েছে।
প্রকাশ: · আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০২৬, রাত ৭:১২· ১ মিনিট পড়া

টিকটিকির বিবর্তন, বৈচিত্র্য এবং তাদের সংরক্ষণ নিয়ে একটি বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও সাধারণ ওভারভিউ প্রকাশ করা হয়েছে। গবেষণায় এই প্রাচীন প্রাণীদের উৎপত্তি এবং তাদের বিভিন্ন প্রজাতির বৈচিত্র্য তুলে ধরা হয়েছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, টিকটিকি মূলত স্কোয়ামাটা বর্গের অন্তর্ভুক্ত। এরা শীতল রক্তের প্রাণী হিসেবে পরিচিত এবং পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে এদের নানা প্রজাতি বসবাস করে আসছে।
গবেষণায় টিকটিকির উৎপত্তির সময়কাল সম্পর্কে নতুন তথ্য দিয়েছেন ফ্লিন্ডার্স ইউনিভার্সিটির গবেষক অ্যালিস্যান্ড্রো পালচি। তিনি জানিয়েছেন, টিকটিকির বিবর্তনের হারের নতুন হিসাবের ওপর ভিত্তি করে আমরা এখন প্রায় ২৬ কোটি বছর আগে পার্মিয়ান যুগের শেষের দিকে এই সরীসৃপগুলোর উৎপত্তি নির্ধারণ করতে পারি। উল্লেখ্য, ৬৬ মিলিয়ন বছর আগে গ্রহাণুর আঘাতে ডাইনোসর বিলুপ্ত হয়ে গেলেও টিকটিকি তার অনেক আগে থেকেই পৃথিবীতে টিকে রয়েছে।
টিকটিকি প্রজাতির মধ্যে আকৃতি ও ওজনে রয়েছে বিশাল বৈচিত্র্য। এর মধ্যে কোমোডো ড্রাগন বিশ্বের বৃহত্তম ও ভারী টিকটিকি প্রজাতি হিসেবে পরিচিত। একটি কোমোডো ড্রাগনের গড় ওজন ১৫৪ পাউন্ড বা ৭০ কিলোগ্রাম হয়ে থাকে। এ ছাড়া রেকর্ড অনুযায়ী সবচেয়ে বড় কোমোডো ড্রাগনটি ১০ দশমিক ৩ ফুট লম্বা ছিল। শুধু আকারেই নয়, এদের খাদ্যাভ্যাসও বেশ অদ্ভুত; কোমোডো ড্রাগন একবারে নিজের ওজনের ৮০ শতাংশ পর্যন্ত খাবার খেতে পারে।
অন্যদিকে, টিকটিকি পরিবারে যেমন বিশাল আকৃতির প্রাণী রয়েছে, তেমনি রয়েছে অতি ক্ষুদ্র প্রজাতিও। বাভারিয়ান স্টেট কালেকশন অব জুলজির ফ্রাংক গ্লাভ এই বিষয়ে মন্তব্য করে বলেছেন যে, সরীসৃপগুলোর সাধারণ শরীরের গঠন স্তন্যপায়ী ও মানুষের কাছাকাছি। তাই এই জীবগুলো এবং তাদের অঙ্গগুলো কত ছোট হতে পারে, তা দেখা সত্যি বিস্ময়কর। এই ক্ষুদ্র প্রজাতির মধ্যে জারাগুয়া লিজার্ডের লেজ ছাড়া শরীরের গড় দৈর্ঘ্য মাত্র শূন্য দশমিক ৬ ইঞ্চি। এ ছাড়া ব্রুফেসিয়া নানার পুরুষ সদস্যরা মাত্র শূন্য দশমিক ৫ ইঞ্চি লম্বা হয়ে থাকে।
বয়স ও দীর্ঘায়ুর দিক থেকেও কিছু টিকটিকি ব্যতিক্রমী। যেমন, গ্র্যান্ড কেইম্যান ব্লু ইগুয়ানা প্রায় ৫০ বছরের বেশি বাঁচে। এই প্রাণীগুলো দীর্ঘ জীবনকাল পার করতে সক্ষম হলেও বর্তমান সময়ে এদের অস্তিত্ব নানা চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর কনজারভেশন অব নেচার (আইইউসিএন)-এর তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের ২১ শতাংশ সরীসৃপ বিলুপ্তির ঝুঁকিতে রয়েছে।
টিকটিকির এই বৈচিত্র্যময় জগত ও বিবর্তন নিয়ে কাজ করা গবেষক ও প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে ফ্লিন্ডার্স ইউনিভার্সিটি, বাভারিয়ান স্টেট কালেকশন অব জুলজি, আমেরিকান মিউজিয়াম অব ন্যাচারাল হিস্ট্রি এবং ইন্টিগ্রেটেড ট্যাক্সোনমিক ইনফরমেশন সিস্টেম (আইটিআইএস)। এসব প্রতিষ্ঠানের গবেষণালব্ধ তথ্য ও বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ টিকটিকি প্রজাতির সংরক্ষণ এবং জীববৈচিত্র্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। প্রথম আলোসহ বিভিন্ন মাধ্যমে এসব বৈজ্ঞানিক তথ্য ও গবেষণা প্রকাশিত হয়েছে।








