টাকা ও সুখের সম্পর্ক নিয়ে নতুন গবেষণা প্রকাশিত
টাকা ও সুখের সম্পর্ক নিয়ে ২০২৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বব্যাপী একটি গবেষণা পরিচালিত হয়েছে। পেনসিলভানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ম্যাথিউ কিলিংসওয়ার্থ এই গবেষণার নেতৃত্ব দেন। এতে ১৭ লাখের বেশি মানুষের অনুভূতির তথ্য সংগ্রহ করা হয়।
প্রকাশ: · আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০২৬, রাত ৭:১৩· ১ মিনিট পড়া

টাকা এবং সুখের পারস্পরিক সম্পর্ক ঠিক কেমন, তা নিয়ে নতুন গবেষণা পরিচালিত হয়েছে। ২০২৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বব্যাপী এই গবেষণাটি সম্পন্ন হয়। মানুষের দৈনন্দিন জীবন ও অনুভূতির সঙ্গে অর্থের সংযোগ কোন পর্যায়ে থাকে, তা বোঝার জন্যই এই গবেষণাটি পরিচালনা করা হয়েছে। আধুনিক জীবনযাত্রায় অর্থ মানুষের মানসিক সন্তুষ্টিতে কতটা প্রভাব ফেলে, তা এই গবেষণার মূল কেন্দ্রবিন্দু ছিল।
গবেষণাটিতে নেতৃত্ব দিয়েছেন পেনসিলভানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ম্যাথিউ কিলিংসওয়ার্থ। তাঁর এই গবেষণায় বিপুলসংখ্যক মানুষ অংশ নেন। প্রাপ্ত তথ্যের পরিসর ও পরিধি ছিল বেশ বড়, যা থেকে মানুষের মানসিক অবস্থার স্পষ্ট একটি চিত্র পাওয়া সম্ভব হয়েছে। গবেষক দল বিভিন্ন দিক বিবেচনা করে এই তথ্যগুলো বিশ্লেষণ করেছেন।
এই গবেষণার কাজে যুক্ত ছিলেন ৩৩ হাজার ৩৯১ জন কর্মজীবী প্রাপ্তবয়স্ক অংশগ্রহণকারী। তাদের কাছ থেকে সংগৃহীত তথ্যের ওপর ভিত্তি করে পুরো গবেষণাটি এগিয়ে নেওয়া হয়। কর্মজীবী মানুষের দৈনন্দিন আয় এবং তাদের মানসিক অনুভূতির তারতম্য কীভাবে ঘটে, তা এই অংশগ্রহণকারীদের মাধ্যমে পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে।
গবেষণার অংশ হিসেবে মোট ১৭ লাখের বেশি মানুষের অনুভূতির তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছিল। এর মধ্যে কেবল মুহূর্তভিত্তিক অনুভূতির ডেটার পরিমাণই ছিল ১৭ লাখ ২৬ হাজার। এত বিপুল পরিমাণ তথ্যের ওপর ভিত্তি করে মানুষের আবেগ ও সুখের পরিমাপ করা হয়েছে, যা এই গবেষণাকে আরও বেশি নির্ভরযোগ্য করে তুলেছে।
গবেষণার ফলাফলে দেখা গেছে যে, মানুষের আয় বাড়লে তাদের দৈনন্দিন সুখ বা সুস্থতার অনুভূতি এবং জীবন নিয়ে সন্তুষ্টিও বৃদ্ধি পায়। অর্থাৎ আর্থিক সচ্ছলতা মানুষের সামগ্রিক জীবনযাত্রার মান ও মানসিক প্রশান্তির সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। মানুষ যখন বেশি আয়ের অধিকারী হয়, তখন তাদের দৈনন্দিন জীবনের নানা তৃপ্তির মাত্রাও ওপরের দিকে উঠতে থাকে।
এর আগে ২০২৩ সালে পেনসিলভানিয়া বিশ্ববিদ্যালয় এবং প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের যৌথ উদ্যোগে আরেকটি গবেষণা পরিচালিত হয়েছিল। সেই যৌথ গবেষণায় দেখা গিয়েছিল যে, আয়ের সঙ্গে সঙ্গে গড় সুখের মাত্রা বাড়লেও, তুলনামূলকভাবে অতৃপ্ত বা কম সুখী মানুষের ক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট স্তরে পৌঁছানোর পর আয়ের প্রভাব কমে যেতে পারে বা স্থির হয়ে থাকতে পারে।
সর্বশেষ ২০২৬ সালে পেনসিলভানিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রকাশিত এক বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়েছে যে, উচ্চ আয়ের মানুষেরা সাধারণত বেশি সুখী হয়ে থাকেন। তবে কাজের সময়ে এই পার্থক্যের বিষয়টি সবসময় একই রকমভাবে প্রকাশ পায় না। অর্থাৎ কাজের সময় এবং সাধারণ সময়ের সুখের অনুভূতির মধ্যে কিছুটা তফাত থাকতে পারে।








