জামালপুর হাসপাতাল দেখে সবচেয়ে খারাপ অভিজ্ঞতা হয়েছে: মিল্লাত
জামালপুর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল পরিদর্শন করে চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত। তিনি জানান, তিন যুগ আগে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এই হাসপাতাল করলেও দীর্ঘ বছর ফ্যাসিস্ট সরকার কোনো উন্নয়ন করেনি।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

অস্বস্তিকর পরিবেশ ও রোগীর অতিরিক্ত চাপের কারণে ৫ সেপ্টেম্বর জামালপুর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল পরিদর্শন করেছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত। শনিবার সংঘটিত এই পরিদর্শনের সময় হাসপাতালের সার্বিক পরিস্থিতি দেখে মন্ত্রী তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন এবং এর করুণ চিত্র তুলে ধরেন।
পরিদর্শন শেষে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে মন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত জানান, তার জীবনে দেখা সবচেয়ে মর্মান্তিক অভিজ্ঞতা হয়েছে এই হাসপাতালটি দেখে। তিনি উল্লেখ করেন যে, ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট এই হাসপাতালটি অনেক আগেই প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল এবং এটি করেছিলেন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া। কিন্তু দীর্ঘ বছর ধরে ফ্যাসিস্ট সরকার এর উন্নয়নে কোনো হাত দেয়নি।
বর্তমান পরিস্থিতির ভয়াবহতা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, তিন যুগ পরেও একই হাসপাতালে যেখানে মাত্র ২৫০ জন রোগী থাকার কথা, সেখানে বর্তমানে প্রায় ৮৬৭ জন রোগী ভর্তি রয়েছে। তাদের এই মানবেতর অবস্থা দেখে তিনি অত্যন্ত বিস্মিত হয়েছেন। তার সুদীর্ঘ জীবনে এমন দৃশ্য কখনো চোখে পড়েনি এবং বাংলাদেশে এমন করুণ অবস্থার হাসপাতাল কোথায় আছে তা তার জানা নেই, থাকার কথাও নয়।
হাসপাতালের ভেতরের বিশৃঙ্খলা ও নোংরা পরিবেশের কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, ২৫০ শয্যার এই হাসপাতালে প্রায় ৯০০ রোগী অবস্থান করছে। হাসপাতালের প্রতিটি বিছানা নিচে রাখা হয়েছে এবং একটি শিশুর বেডে তিনটি করে শিশু গাদাগাদি করে রয়েছে। এছাড়া হাসপাতালের চারপাশের পরিবেশও অত্যন্ত নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর বলে তিনি মন্তব্য করেন।
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, যে ভবনটিতে বর্তমানে মুমূর্ষু রোগীরা চিকিৎসাধীন রয়েছেন, সেই মূল হাসপাতাল ভবনটি ২০২১ সালেই পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। তা সত্ত্বেও বাধ্য হয়ে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ওই ভবনটির মধ্যেই রোগী রাখা হচ্ছে, যা যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে।
তবে এই সংকট নিরসনে আশার বাণীও শুনিয়েছেন মন্ত্রী। তিনি জানান, জনস্বার্থে এই জামালপুর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালটিকে ৫০০ শয্যায় উন্নীত করার সরকারি অনুমোদন ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে হাসপাতালটির এই সম্প্রসারণ সংক্রান্ত বিষয়টি পরিকল্পনা কমিশনের অনুমোদনের অপেক্ষায় ও প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে।
পরিশেষে, অবিলম্বে নতুন ভবন নির্মাণের জোর দাবি জানিয়ে মন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত সংশ্লিষ্টদের প্রতি বিশেষ অনুরোধ জানান। তিনি বলেন, ৫০০ শয্যা ও ছয়তলা বিশিষ্ট নতুন ভবন নির্মাণের জন্য পরিকল্পনা কমিশনে দায়িত্বে থাকা মন্ত্রী এবং অর্থমন্ত্রীর কাছে তিনি বিনীত অনুরোধ জানাবেন, যাতে দ্রুততম সময়ের মধ্যে টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে নির্মাণ কাজ শুরু করা যায়।








