মেট্রোরেল প্রকল্পের ব্যয় দ্বিগুণের বেশি বাড়ানোর প্রস্তাব
ঢাকার দুটি মেট্রোরেল প্রকল্পের ব্যয় দ্বিগুণের বেশি বাড়িয়ে ২ লাখ ১৩ হাজার ৯৮৫ কোটি টাকার নতুন প্রস্তাব পরিকল্পনা কমিশনের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। পাশাপাশি বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের গাজীপুরের সালনা রিসোর্ট প্রতিষ্ঠার পর থেকে লোকসানে রয়েছে বলে জানা গেছে।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

২০২৫ সালে ঢাকা ও গাজীপুরকে কেন্দ্র করে দুটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক ও অবকাঠামগত খাতের চিত্র সামনে এসেছে। প্রথম আলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঢাকার দুটি পথে মেট্রোরেল নির্মাণে ব্যয় দ্বিগুণের বেশি বাড়িয়ে ২ লাখ ১৩ হাজার ১৯৯৮৫ কোটি টাকার নতুন প্রস্তাব পরিকল্পনা কমিশনের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। শুরুতে এই প্রকল্প দুটির ব্যয় প্রাক্কলন করা হয়েছিল ৯৩ হাজার ৮০০ কোটি টাকা। মেট্রোরেলের লাইন-১ ও লাইন-৫ (উত্তর) প্রকল্প বাস্তবায়নে অর্থায়ন করছে জাপানের আন্তর্জাতিক সহায়তা সংস্থা জাইকা।
প্রস্তাবিত নতুন হিসাব অনুযায়ী, এমআরটি লাইন-১ প্রকল্পের মূল ব্যয় ছিল ৫২ হাজার ৫৬১ কোটি টাকা, যার সংশোধিত প্রস্তাব বাড়িয়ে ১ লাখ ২০ হাজার ৭৯৪ কোটি টাকা করা হয়েছে। অন্যদিকে এমআরটি লাইন-৫ (উত্তর) প্রকল্পের মূল ব্যয় ছিল ৪১ হাজার ২৩৯ কোটি টাকা এবং এর সংশোধিত প্রস্তাব প্রায় ৯৩ হাজার ১৯১ কোটি টাকায় দাঁড়াল। সাভার থেকে গাবতলী, মিরপুর, গুলশান হয়ে ভাটারা পর্যন্ত মেট্রোরেল নির্মাণ প্রকল্পটি হচ্ছে এমআরটি লাইন-৫ (উত্তর), যার দূরত্ব ২০ কিলোমিটার এবং এতে স্টেশন রয়েছে ১৪টি। এ ছাড়া কমলাপুর থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত পাতালপথে মেট্রোরেল নির্মাণ এমআরটি লাইন-১ নামে পরিচিত, যার দূরত্ব ৩১ কিলোমিটারের বেশি এবং স্টেশন ২১টি।
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় বা বুয়েটের পুরকৌশল বিভাগের সাবেক অধ্যাপক শামীম জেড বসুনিয়ার নেতৃত্বে সাত সদস্যের একটি কারিগরি কমিটি এই বাড়তি ব্যয়ের বিষয়টিকে যৌক্তিক বলে প্রতিবেদন দিয়েছে। এই কমিটিতে আরও ছিলেন শেখ রবিউল আলম, সামছুল হক, মাহিম ফয়সাল, মনির হোসেন, রুহুল আমিন এবং ফাহমিদা সুলতানা। এই ব্যয় বৃদ্ধি প্রসঙ্গে শামীম জেড বসুনিয়া বলেন, প্রতিবছর মূল্যস্ফীতি ৫ শতাংশ, ডলারের মূল্য বেড়েছে ৩৮ শতাংশ, নকশায় পরিবর্তনের কারণে কাজ বেড়েছে। এর বাইরে সরকারের ভ্যাট ও কর বেড়েছে। ঢাকার জন্য মেট্রোরেল দরকার। ব্যয় বেশি মনে হলে সরকার অন্য ঋণদাতা খুঁজতে পারে। তবে সময় যত যাবে, ব্যয় বাড়বে।
এই বিষয়ে শেখ রবিউল আলম মন্তব্য করেছেন যে, মেট্রোরেল দরকার। নতুবা ঢাকা বাঁচানো যাবে না। অন্যদিকে সামছুল হক বলেছেন, দরপত্রে উন্মুক্ত প্রতিযোগিতা না আনতে পারলে ব্যয় কমবে না। সরকার যদি ঋণদাতা সংস্থাকে বুঝিয়ে শর্ত শিথিল করতে পারে, তাহলে ব্যয় এমনিতেই কমে যাবে। এটি পানির মতো পরিষ্কার। টাকার অবমূল্যায়ন, নকশায় পরিবর্তন, পণ্যের মূল্যবৃদ্ধিসহ অন্যান্য বিষয়ের জন্য যৌক্তিক হারে ব্যয় বাড়তে পারে। আকাশচুম্বী হওয়ার সুযোগ নেই। রাইজিংবিডির তথ্য অনুযায়ী এসব বিষয় আলোচিত হয়েছে।
অন্যদিকে অপর একটি ঘটনায় বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের গাজীপুরের সালনা রিসোর্ট অ্যান্ড পিকনিক স্পট নির্মাণে প্রায় ৯ কোটি ৪০ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে এবং এটি প্রতিষ্ঠার পর থেকে লোকসানে রয়েছে। বন বিভাগের কাছ থেকে ৩ একর ১২ শতাংশ জমি ইজারা নিয়ে সালনা রিসোর্ট নির্মাণ করা হয়েছিল। গত চার অর্থবছরে এই রিসোর্টের আয় হয়েছে প্রায় ২ কোটি বা ১ কোটি ৮৮ লাখ টাকা এবং বিপরীতে ব্যয় হয়েছে প্রায় ৭ কোটি বা ৬ কোটি ৬৮ লাখ টাকা।
এই পুরো ঘটনাপ্রবাহে ঢাকা মাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড বা ডিএমটিসিএল, পরিকল্পনা কমিশন এবং বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের বিভিন্ন কার্যক্রম ও ব্যয় বৃদ্ধির তথ্য সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনার সৃষ্টি করেছে। মোহাম্মদ মইনুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষের তথ্যের ভিত্তিতে এই বিষয়গুলো প্রকাশ পেয়েছে।








