চৌগাছায় শিবির নেতা হত্যার সাক্ষ্য ট্রাইব্যুনালে
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ ঝিনাইদহের চৌগাছায় দুই ছাত্রশিবির নেতাকে আটকের পর গুলি করে হত্যার ঘটনায় এক এএসআই সাক্ষ্য দিয়েছেন। বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমダারের নেতৃত্বে ট্রাইব্যুনালে এই সাক্ষ্যগ্রহণ হয়। মামলায় সাবেক এসপিসহ মোট আটজন আসামি রয়েছেন।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ ঝিনাইদহের চৌগাছায় দুই ইসলামী ছাত্রশিবির নেতাকে আটকের পর গুলি করে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় এক এএসআই সাক্ষ্য দিয়েছেন। ২০২৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর তারিখে রাজধানী ঢাকার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে এই সাক্ষ্যগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।
ট্রাইব্যুনালের বিচারিক প্যানেল পরিচালনা করছেন চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদার। তার সঙ্গে ট্রাইব্যুনালে বিচারক হিসেবে রয়েছেন মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী। এই মামলায় আসামিদের মধ্যে রয়েছেন তৎকালীন পুলিশ সুপার আনিসুর রহমানসহ মোট আটজন অভিযুক্ত ব্যক্তি।
সাক্ষ্য প্রদানকারী এএসআই ২০১৬ সালের জুলাই থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত চৌগাছা থানায় দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন। বর্তমানে তিনি সাতক্ষীরার পাটকেলঘাটা থানায় কর্মরত রয়েছেন। তার এই সাক্ষ্যের মধ্য দিয়ে চাঞ্চল্যকর এই ঘটনার বিভিন্ন তথ্য ট্রাইব্যুনালের সামনে উন্মোচিত হয়।
আট আসামির মধ্যে তিনজন পুলিশ সদস্য—এসআই আকিকুল ইসলাম, কনস্টেবল সাজ্জাদুর রহমান এবং কনস্টেবল জহরুল হক—সরাসরি ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত ছিলেন। বাকি আসামিরা পলাতক রয়েছেন বলে জানা গেছে। এই মামলায় আরও যাদের নাম এসেছে তাদের মধ্যে রয়েছেন মশিউর রহমান, মোখলেছ, জামাল, মাজেদুল, ইসরাফিল, রুহুল আমিন, মনজুর আলম, মিজানুল ইসলাম, আবদুস সাত্তার পালোয়ান, গাজী এমএইচ তামিম, মার্জিনা রায়হান, তাসমিরুল ইসলাম ও মঈনুল করিম।
সাক্ষ্য দেওয়ার সময় এএসআই মোখলেছের একটি বিশেষ বক্তব্য ট্রাইব্যুনালে উঠে আসে। তিনি জানান যে, 'এসপি আনিসুর রহমান ও ওসি মশিউর রহমান অবগত রয়েছেন। আমি যেন নীরব থাকি।' এই বক্তব্য থেকে ঘটনার নেপথ্যে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সম্পৃক্ততার বিষয়টি জোরালোভাবে সামনে আসে।
পুলিশ বাহিনীর কিছু সদস্যের যোগসাজশে সাজানো বন্দুকযুদ্ধের নাটক সাজিয়ে দুই ছাত্রশিবির নেতাকে হত্যা করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। আওয়ামী লীগ আমলের বিভিন্ন মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের অংশ হিসেবে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ এই মামলার কার্যক্রম এগিয়ে চলেছে।
ট্রাইব্যুনালে এই সাক্ষ্যগ্রহণ বিচারপ্রক্রিয়াকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে গেছে। আদালত আগামী দিনে মামলার অন্যান্য সাক্ষীদের সাক্ষ্যগ্রহণ এবং পলাতক আসামিদের বিষয়ে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।








