ট্রাইব্যুনালে সাবেক বিজিবি কর্মকর্তা রেদোয়ানুল ইসলামের কান্না
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির হয়ে আইনজীবীর ফি ও সংসার চালানো নিয়ে কষ্টের কথা বলে কেঁদেছেন বিজিবির সাবেক কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ রেদোয়ানুল ইসলাম। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় রামপুরা ও বনশ্রী এলাকায় সংঘটিত অপরাধের এই মামলায় আগামী ২ সেপ্টেম্বর পরবর্তী সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ধার্য করা হয়েছে।
প্রকাশ: · আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০২৬, রাত ৭:১৩· ১ মিনিট পড়া

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির হয়ে কান্নাকাটি ও আইনি সহায়তার বিষয়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছেন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সাবেক কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ রেদোয়ানুল ইসলাম। গত ২০ আগস্ট বা বৃহস্পতিবার রাজধানী ঢাকার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ এই ঘটনা ঘটে। ছবি তোলার তারিখ ও দিন অনুযায়ী এই কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় রামপুরা ও বনশ্রী এলাকায় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার অন্যতম আসামি হলেন এই সাবেক বিজিবি কর্মকর্তা মোহাম্মদ রেদোয়ানুল ইসলাম। ট্রাইব্যুনালে হাজির হয়ে তিনি নিজের আর্থিক অনটনের কথা তুলে ধরেন এবং আইনজীবীর ফি দেওয়া নিয়ে বড় ধরনের সংকটে পড়ার কথা জানান।
আদালতে নিজের অসহায়ত্বের কথা বলতে গিয়ে মোহাম্মদ রেদোয়ানুল ইসলাম কান্নায় ভেঙে পড়েন। ট্রাইব্যুনালে তিনি বলেন, ঘন ঘন ডেট বা মামলার তারিখ দিলে তার জন্য মারাত্মক সমস্যা তৈরি হয়। তিনি জানান, ঘন ঘন মামলার তারিখ দেওয়া হলে তিনি আইনজীবীকে টাকা দিতে পারেন না। আর্থিকভাবে তাঁর কোনো সঞ্চয় বা অন্য কিছু নেই বলেও আদালতকে জানান তিনি।
রেদোয়ানুল ইসলাম ট্রাইব্যুনালে প্রশ্ন রেখে বলেন, ফলে ঘন ঘন ডেট দিলে বেতনের টাকা আইনজীবীকে দেবেন নাকি নিজের সংসার চালাবেন? তাঁর এই আকুতি ও কান্নার বিষয়টি ট্রাইব্যুনালের বিচারকার্য পরিচালনাকারী সংশ্লিষ্টদের হৃদয়ে গভীর রেখাপাত করে।
এ সময় ট্রাইব্যুনালের পক্ষ থেকেও সাবেক এই কর্মকর্তার মন্তব্যের প্রেক্ষিতে বক্তব্য দেওয়া হয়। ট্রাইব্যুনাল বলেন, উনি অর্থাৎ রেদোয়ানুল কেঁদে ফেলেছেন এবং বলেছেন যে তিনি পারছেন না, তিনি সংসার চালাবেন নাকি উকিলকে ফিস দেবেন। ট্রাইব্যুনাল আরও উল্লেখ করেন যে এই ঘটনাটি তাদের হৃদয়কে ছুঁয়ে গেছে।
তবে এই পরিস্থিতির জবাবে ট্রাইব্যুনালের পক্ষ থেকে আসামিকে আইনি প্রক্রিয়া ও মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির বিষয়ে সান্ত্বনা বা পরামর্শ দেওয়া হয়। ট্রাইব্যুনাল মন্তব্য করেন যে, ঘন ঘন ডেট দিয়ে মামলা শেষ করে দিলে আসামিকে আর আইনজীবীর পেছনে বাড়তি খরচ করতে হবে না।
উভয় পক্ষের আলোচনা ও সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এই মামলার পরবর্তী কার্যক্রমের দিন নির্ধারণ করেন। আলোচিত এই মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার পরবর্তী সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য আগামী ২ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করেছেন ট্রাইব্যুনাল। ওই দিন মামলার পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।








