জেআইসিতে গুম ও নির্যাতন নিয়ে ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেন্টারে (জেআইসি) গুম, নির্যাতন ও জঙ্গি নাটক সাজানোর বিষয়ে ট্রাইব্যুনাল-১ এ সাক্ষ্য দিয়েছেন নুরে আলম। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) এই জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়।
প্রকাশ: · আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০২৬, রাত ৭:১২· ১ মিনিট পড়া

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেন্টারে (জেআইসি) গুম-নির্যাতন ও জঙ্গি উদ্ধারের নাটক সাজানোর বিষয়ে সাক্ষ্য প্রদান করা হয়েছে। এই মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ মোট আসামি ১৩ জন। মামলার বিচারকার্য পরিচালিত হচ্ছে ট্রাইব্যুনাল-১ এ।
ঘটনার বিবরণ অনুযায়ী, ২০১৬ সালের ১২ এপ্রিল নীলফামারীর নিজ বাসা থেকে নুরে আলম গুমের শিকার হন। পরবর্তীতে তাকে নিয়ে বিভিন্ন ঘটনা ও নাটক সাজানো হয়। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) ট্রাইব্যুনাল-১ এর সদস্য বিচারক মো. মহিতুল হক এনাম চৌধুরীর একক বেঞ্চে সপ্তম সাক্ষী হিসেবে নুরে আলমের অবশিষ্ট জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়।
সাক্ষ্যগ্রহণকালে মামলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দিক উঠে আসে। এই প্রক্রіয়ায় প্রসিকিউশনের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন তাজুল ইসলাম, রাজিব, ডা. ইকবাল, রাকিব, নাজিম উদ্দিন, আবু জর গিফারী, সামি, মিফতাহ উদ্দিন আহমেদ ও মিজানুল ইসলাম। অন্যদিকে আসামিপক্ষে ছিলেন শাইখ মাহদী, তাসমিরুল ইসলাম, সহিদুল ইসলাম সরদার, আবদুস সাত্তার পালোয়ান ও আলী নূর।
সাক্ষ্যে জেআইসি ও বিভিন্ন সেলের বিভীষিকাময় পরিবেশের বর্ণনা দেওয়া হয়। সেখানে ৯ ফিট বাই ৩ ফিট সেল এবং আড়াই থেকে তিন ফিট প্রস্থ ও সাড়ে ছয়-সাত ফুট দৈর্ঘ্যের সেলের কথা উল্লেখ করা হয়। এছাড়া ১১ মাস মিথ্যা মামলায় কারাবাস করার তথ্যও ট্রাইব্যুনালকে জানানো হয়।
গুম ও আটকের সময়ে বিভিন্ন ব্যক্তির সম্পৃক্ততা ও কথোপকথনের কথা সাক্ষ্যে উঠে আসে। এর মধ্যে এএসপি রুহুল আমিন বলেন, তোমাকে বাসা থেকে তুলে নিয়ে এসেছেন ডিজিএফআইের লোকজন। প্রথমে রাখা হয়েছিল জেআইসিতে। পরেরটি ছিল টিএফআই সেল। এছাড়া এক অজ্ঞাত ব্যক্তির বরা୍দ দিয়ে বলা হয়, স্যার সবকিছু ঠিক আছে।
তদন্ত ও আটকের বিভিন্ন পর্যায়ে র্যাব ও পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের নাম এসেছে। এর মধ্যে রয়েছে র্যাব, র্যাব-৪, র্যাব-১০, র্যাব-৭, আকবর শাহ থানা, পুলিশ এবং ডিজিএফআই। ২০১৬ সালের ৩০ নভেম্বর বন্দিদের আকবর শাহ থানায় হস্তান্তর করা হয়।
সাক্ষ্য প্রদানকারী ও সংশ্লিষ্টদের তালিকায় আরও রয়েছে তারিক আহমেদ সিদ্দিক, নীলফামারী সদর থানা এবং নীলফামারী সরকারি কলেজ। এসব প্রাতিষ্ঠানিক ও ব্যক্তিগত সংশ্লিষ্টতার মাধ্যমেই পুরো গুম ও নির্যাতনের ঘটনাটি ঘটেছিল বলে ট্রাইব্যুনালে তুলে ধরা হয়।








