চট্টগ্রামে ইউনূসের বাসাসহ ৯২ প্রজননস্থল শনাক্ত
চট্টগ্রাম নগরের বিভিন্ন স্থাপনা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এডিস মশার ৯২টি প্রজননস্থল চিহ্নিত করেছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন। এর মধ্যে সাবেক প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের বাসাবাড়িও রয়েছে। চলতি বছর চট্টগ্রামে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন ১ হাজার ৪৯৭ জন।
প্রকাশ: · আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০২৬, রাত ৭:১২· ১ মিনিট পড়া

চট্টগ্রাম নগরের বিভিন্ন এলাকায় এডিস মশার প্রজননস্থল হিসেবে সাবেক প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের বাসাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা চিহ্নিত করা হয়েছে। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সাম্প্রতিক এক জরিপে নগরের ছয়টি ওয়ার্ডে এডিস মশার মোট ৯২টি প্রজননস্থল শনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ১১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, চারটি নির্মাণাধীন ভবন ও কয়েকটি পরিত্যক্ত ভবন।
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের জরিপ অনুযায়ী, নগরের পাঁচলাইশ আবাসিক এলাকায় অবস্থিত সাবেক প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের পারিবারিক বাড়ি 'নিরিবিলি'-তে এডিস মশার লার্ভা ও প্রজননস্থল মিলেছে। এই বাড়ির বিষয়ে মো. সায়েম খান নামের এক ব্যক্তি জানান, পানি জমে থাকার কারণে এটি মশার প্রজননস্থলে পরিণত হয়েছে এবং পানি নামলেও মশার উপদ্রব কমে না। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস প্রধান উপদেষ্টা থাকার সময় নিয়মিত মশার ওষুধ ছিটানো হলেও এখন সেভাবে ওষুধ ছিটাতে দেখা যায় না।
এদিকে সিটি করপোরেশনের চিহ্নিত ৯২টি প্রজননস্থলের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৩১টি পাওয়া গেছে উত্তর কাট্টলী ওয়ার্ডে। এছাড়া জালালাবাদে ২২টি, পাঁচলাইশে ১৫টি, চকবাজার ও পশ্চিম বাকলিয়ায় ১০টি করে এবং পাথরঘাটায় চারটি প্রজননস্থল শনাক্ত করা হয়েছে। এই প্রজননস্থলগুলোর তালিকায় সরকারি বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও রয়েছে, যার মধ্যে চট্টগ্রাম কলেজ, হাজী মুহাম্মদ মহসিন কলেজ ও সরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এলাকার প্রজননস্থল সম্পর্কে হাজী মুহাম্মদ মহসিন কলেজের অধ্যক্ষ মোহাম্মদ মোজাহেদুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, কলেজ এলাকায় প্রচুর গাছপালা থাকার কারণে মশার প্রজননস্থল তৈরি হয়েছে। তবে তিনি জানান যে, প্রজননস্থল ধ্বংস করতে নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। এই বিষয়ে সিটি করপোরেশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা মো. সরফুল ইসলামও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের কথা জানিয়েছেন।
নগরে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ার প্রেক্ষাপটে এই জরিপ ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ১৯ আগস্ট পর্যন্ত চট্টগ্রামে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন ১ হাজার ৪৯৭ জন। এর মধ্যে কেবল জুলাই ও আগস্ট মাসেই আক্রান্ত হয়েছেন ১ হাজার ১৯৯ জন। আর চলতি বছর ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে চট্টগ্রামে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে।
তুলনামূলক চিত्रे দেখা যায়, গত বছরের একই সময়ে চট্টগ্রামে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছিলেন ১ হাজার ২৭২ জন। এছাড়া গত বছর পুরো চট্টগ্রাম জেলায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছিল। বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় সিটি করপোরেশন ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষ থেকে নজরদারি ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।








