ডিএনসিসির ডেঙ্গু রোগী তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রমে সমন্বয় ঘাটতি
ডেঙ্গু রোগীর তথ্য সংগ্রহ ও এডিসের উৎস ধ্বংসে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে সমন্বয় ও মনিটরিংয়ে ঘাটতি দেখা গেছে। ১৮ আগস্ট প্রকাশিত তথ্যে রোগীর সংখ্যা ও মৃত্যু উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
প্রকাশ: · আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০২৬, রাত ৭:১২· ১ মিনিট পড়া

ডেঙ্গু রোগীর তথ্য সংগ্রহ করে বাড়ি বাড়ি গিয়ে এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ নিয়েছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। তবে এই মহৎ উদ্যোগ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে শুরুতেই নানা ধরনের সমন্বয় ও মনিটরিংয়ের ঘাটতি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, মাঠপর্যায়ে কাজের শুরুতে যে ধরনের প্রস্তুতি ও সুশৃঙ্খল পরিবেশ থাকার কথা ছিল, বাস্তবে তার ব্যত্যয় ঘটছে।
চলতি বছর ডেঙ্গুর বিস্তার ও ভয়াবহতা পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ৩১ জুলাই পর্যন্ত দেশজুড়ে মোট ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ছিল ১৫ হাজার ৩১০০ জন। পরবর্তীতে মাত্র ১৮ দিনের ব্যবধানে, অর্থাৎ ১৮ আগস্ট পর্যন্ত এই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ২৫ হাজার ৬০১ জনে। এই ১৮ দিনে আক্রান্তের হার বৃদ্ধি পায় ৬৭ শতাংশ। পাশাপাশি, এই সময়ে ডেঙ্গুতে মৃত্যুর সংখ্যাও আগের ৫৪ জন থেকে বৃদ্ধি পেয়ে বর্তমানে ৭৪ জনে উন্নীত হয়েছে।
পরিস্থিতির ভয়াবহতা মোকাবিলায় অতীতেও বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। উল্লেখ্য যে, ২০১৯ সালে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ছিল ১ লাখ ১ হাজার ৩৫৪ জন এবং মৃত্যুর সংখ্যা ছিল ১৭৯ জন। মশা নিয়ন্ত্রণে বিগত পাঁচ বছরে দুই সিটি করপোরেশন মিলে মোট ৬০৫ কোটি টাকা ব্যয় করেছে। এর মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) খরচ করেছে ৪০৯ কোটি টাকা এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) ব্যয় করেছে ১৯ এমনকি বর্তমান অর্থবছরেও মশা নিয়ন্ত্রণে ডিএনসিসি ২০৮ কোটি টাকা এবং ডিএসসিসি ১১৪ কোটি টাকা বরাদ্দ রেখেছে।
এত বিশাল অংকের অর্থ ব্যয় করার পরও মাঠপর্যায়ে সুফল পাওয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ডিএনসিসির বর্তমান উদ্যোগের অংশ হিসেবে হাসপাতাল থেকে ডেঙ্গু রোগীর তথ্য সংগ্রহ করে তা যাচাইয়ের কথা থাকলেও, বাস্তবে তার ব্যত্যয় দেখা গেছে। সরেজমিন পরিদর্শনে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং শ্যামলীর বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল—এই দুই প্রতিষ্ঠানে গিয়ে নির্ধারিত তথ্য সংগ্রহকারীদের অনুপস্থিত দেখা গেছে।
হাসপাতাল পরিদর্শনের সময় তানিয়া আক্তার, আমিনুল ইসলাম, নূর হায়াত, জ্যোৎস্না বেগম, রাকিবুল ইসলাম, রাসেল রানা, রূপম, নিপা খাতুন, মাহমুদা আলী, আনিছুর রহমান ও জাহানে ফেরদৌস বিনতে রহমানের মতো বিভিন্ন ভুক্তভোগী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অভিজ্ঞতা ভিন্ন বাস্তবতার কথা বলে। হাসপাতালের পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে রাকিবুল ইসলাম জানান যে তিনি আজই (১৭ আগস্ট) প্রথমবার হাসপাতালে যাচ্ছেন এবং এর আগে অন্য কেউ তথ্য নিয়েছেন কি না, তা তিনি জানেন না।
মাঠপর্যায়ের এই অব্যবস্থাপনা ও তদারকির ঘাটতির কথা স্বীকার করে নিয়েছেন সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল কর্তাব্যক্তিরাও। ডিএনসিসির প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ইমরুল কায়েস চৌধুরী জানিয়েছেন, বিশেষায়িত ও নিবেদিত জনবল না থাকায় শুরুতে কিছুটা সমস্যা হয়েছে। তবে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন যে এই উদ্যোগটি এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে এবং অভিজ্ঞতার সঙ্গে সঙ্গে এটি আরও গুছিয়ে নেওয়া হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের আওতাধীন এলাকায় ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে আতিকুল ইসলামের মতো নীতিনির্ধারকদের আরও কঠোর মনিটরিং নিশ্চিত করতে হবে। বিশেষ করে মার্জার অ্যাগ্রোভেট বা বেস্ট কেমিক্যালের মতো সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে কীটনাশক ক্রয়ের পাশাপাশি মাঠপর্যায়ের কর্মীদের উপস্থিতি ও কাজের স্বচ্ছতা নিশ্চিত না করলে এই মহামারী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়বে।








