মশা দমনের নতুন উদ্যোগ ডিএনসিসির, ব্যবহার হবে গ্যাভিড ট্র্যাপ
মশা নিয়ন্ত্রণে আধুনিক ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি অবলম্বনের অংশ হিসেবে 'গ্যাভিড ট্র্যাপ' নামক বিশেষ ফাঁদ ব্যবহারের উদ্যোগ নিয়েছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের কাছ থেকে ইতিমধ্যে ৬৫টি ট্র্যাপ সংগ্রহ করা হয়েছে।
প্রকাশ: · আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০২৬, রাত ৭:১২· ১ মিনিট পড়া

রাজধানীতে মশা দমনের কার্যকারিতা বাড়াতে নতুন এক অভিনব উদ্যোগ গ্রহণ করেছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। সংস্থাটির পক্ষ থেকে মশা দমনের জন্য এবার 'গ্যাভিড ট্র্যাপ' নামক বিশেষ ফাঁদ ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মূলত আধুনিক ও বৈজ্ঞানিক উপায়ে মশার উপদ্রব কমানোর লক্ষ্যেই এই বিশেষ পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের কাছ থেকে মোট ৬৫টি 'গ্যাভিড ট্র্যাপ' সংগ্রহ করেছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। সংশ্লিষ্ট সূত্র ও প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এই ফাঁদগুলো মশার উপস্থিতি ও ঘনত্ব নিয়ন্ত্রণে অত্যন্ত কার্যকরী ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সংগৃহীত এই ট্র্যাপগুলো রাজধানীজুড়ে নির্দিষ্ট কিছু গুরুত্বপূর্ণ ও জনবহুল এলাকায় স্থাপনের পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে প্রাথমিক পর্যায়ে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল, শিশু হাসপাতাল এবং বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালের মতো গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসাকেন্দ্রগুলোর আশপাশে এই ফাঁদগুলো বসানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
হাসপাতালগুলোর পাশাপাশি নগরীর যোগাযোগ ব্যবস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা মেট্রোরেলের দিয়াবাড়ীর ডিপো এলাকাতেও এই গ্যাভিড ট্র্যাপ বসানোর পরিকল্পনা রয়েছে ডিএনসিসির। জনবহুল ও সংবেদনশীল এসব এলাকায় মশার প্রজনন রোধ এবং মশার উপদ্রব কমাতেই এই স্থানগুলোকে প্রাথমিক তালিকার অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
এর আগে এই বিশেষ পদ্ধতি নিয়ে পরীক্ষামূলক কার্যক্রম চালানো হয়েছিল। বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত জানিয়ে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইমরুল কায়েস বলেন, এর আগে চীন থেকে তিনটি 'গ্যাভিড ট্র্যাপ' এনে উত্তরার আশকোনা হজ ক্যাম্পে বসানো হয়েছিল। এতে ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যায়। পরে ডিএনসিসি এই ট্র্যাপ সংগ্রহের উদ্যোগ নেয়। তবে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান উচ্চ দাম ধরায় সেটা আর করা হয়নি। প্রতিটি ট্র্যাপ ৩০ হাজার টাকার মধ্যেই সংগ্রহ করা সম্ভব বলে তিনি মনে করেন।
উল্লেখ্য, এই পুরো প্রক্রিয়ার সঙ্গে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) ছাড়াও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও বিশেষজ্ঞ ব্যক্তিবর্গ জড়িত রয়েছেন। যাদের মধ্যে আতিকুল ইসলাম, ড. কবিরুল বাশার এবং ড. ইন্দ্রানী ধরসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ও বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন, কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল, শিশু হাসপাতাল, বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী হাসপাতাল এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম উঠে এসেছে।
মশা দমনের এই নতুন ও আধুনিক পদ্ধতি বাস্তবায়নের ফলে রাজধানীর ডেঙ্গুসহ অন্যান্য মশাবাহিত রোগের প্রকোপ নিয়ন্ত্রণে উল্লেখযোগ্য ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করছেন। ডিএনসিসির এই কার্যক্রম নগরবাসীর স্বাস্থ্য সুরক্ষায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।








