চট্টগ্রাম আদালতে মামলার বাদীকে এজলাসের বাইরে ছুরিকাঘাত
চট্টগ্রামে আদালতের এজলাস কক্ষের বাইরে নুরুল কবির নামের এক মামলাবাদীকে ছুরিকাঘাত করা হয়েছে। এ ঘটনায় আহত নুরুল কবিরকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

২০২৫ সালের ৬ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রামের একটি আদালতে মামলার এজলাস কক্ষের বাইরে নুরুল কবির নামের এক মামলাবাদীকে ছুরিকাঘাত করার ঘটনা ঘটেছে। এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-৩-এর এজলাস কক্ষের বাইরে। আদালত চত্বরে এমন হামলার ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
আহত নুরুল কবিরের স্ত্রী রুনা আক্তার রূপা এই ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়েছেন। তিনি জানান, রবিবার মামলার হাজিরার দিন ছিল। সেই দিনে তার স্বামীকে আদালতের মামলার আসামি ইলিয়াস হোসেন অপু, জয়নাল আবেদীন সোহেল, এমরান হোসেন, আনোয়ারসহ আরও কয়েকজন মিলে ছুরিকাঘাত করেছে। স্বামীর চিৎকারে হামলাকারীরা পালিয়ে যায় এবং পরবর্তীতে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নিয়ে যায়।
রুনা আক্তার রূপা আরও উল্লেখ করেন যে, তার স্বামী একজন ব্যবসায়ী এবং তার ডিশ ও ওয়াইফাইয়ের ব্যবসা রয়েছে। চাঁদা না দেওয়ায় গত ১ জুন সাবেক যুবলীগ নেতা জয়নাল আবেদীন সোহেল ও ইলিয়াস হোসেন অপুর নেতৃত্বে একদল ব্যক্তি তার স্বামীকে তুলে নিয়ে সোহেলের রিকশার গ্যারেজে আটকে রাখে। সেখানে দুই দিনের মধ্যে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে তাকে মারধর করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে নগদ টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। এছাড়া জানা গেছে, নুরুল কবির ও তার স্ত্রী রুনা আক্তার রূপা বাদী হয়ে পাঁচলাইশ থানায় চাঁদাবাজি, লুটপাট, হামলা ও ছুরিকাঘাতের অভিযোগে তিনটি মামলা করেছেন। এর মধ্যে ৫ লাখ টাকা, ৬ লাখ ৫৫ হাজার টাকা এবং প্রায় ১০ লাখ টাকার আর্থিক বিষয় ও ক্ষতির তথ্য রয়েছে।
ঘটনার প্রত্যক্ষ ও আইনগত পদক্ষেপের বিষয়ে কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ জানান, ঘটনার সময় তিনি ট্রেনিংয়ে ছিলেন। পরবর্তীতে সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে যে পেছন থেকে নুরুল কবির নামে এক ব্যক্তিকে ছুরিকাঘাত করা হয়েছে। পুলিশ ইতিমধ্যে সিসিটিভি ফুটেজ উদ্ধার করেছে এবং ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার করবে বলে জানিয়েছে।
খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল হাসান এবং আদালতে দায়িত্বরত কর্মকর্তা রাজিব কান্তি দে এই বিষয়ে তথ্য দিয়েছেন। রাজিব কান্তি দে জানান, আজ আদালতে একটি মামলার আসামিরা বাদীকে ছুরিকাঘাত করে আহত করেছে। পরবর্তীতে পুলিশ আহত ব্যক্তিকে উদ্ধার করে চমেক হাসপাতালে ভর্তি করে এবং বর্তমানে তিনি চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এদিকে পাঁচলাইশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু জায়েদ মো. নাজমুন নুর জানিয়েছেন, আদালতে মামলার এক বাদীকে আসামিরা ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যাওয়ার ঘটনা তিনি শুনেছেন। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। তবে প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত এ ঘটনায় থানায় কেউ নতুন করে লিখিত অভিযোগ দেয়নি। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় এনে গ্রেফতার করা হবে।








