গ্রীষ্মকালীন খরার কারণে ফ্রান্সে পনিরের উৎপাদন বিধি শিথিল
তীব্র গ্রীষ্মকালীন খরার কারণে দুধের গরুর খাদ্যাভ্যাস সংকট তৈরি হওয়ায় ফ্রান্সে সুরক্ষিত পনির ও অন্যান্য খাদ্যের উৎপাদন নিয়ম সাময়িকভাবে শিথিল করা হয়েছে। বুধবার প্রকাশিত সরকারি ডিক্রিতে এই ছাড় দেওয়ার কথা জানানো হয়। অনুরূপ ব্যবস্থা এর আগে ২০২২ সালের শুষ্ক গ্রীষ্মের পরেও নেওয়া হয়েছিল।
প্রকাশ: · আপডেট: ২৮ আগস্ট ২০২৬, দুপুর ১:১৮· ১ মিনিট পড়া

তীব্র গ্রীষ্মকালীন খরার কারণে সৃষ্ট প্রতিকূল পরিস্থিতিতে ফ্রান্সের ঐতিহ্যবাহী ও সুরক্ষিত বিভিন্ন পনির এবং খাদ্যপণ্য উৎপাদনের নিয়মে বড় ধরনের শিথিলতা আনা হয়েছে। খরার কারণে দুধ উৎপাদনকারী গবাদিপশুর জন্য প্রয়োজনীয় ঘাসের জোগান মারাত্মকভাবে হ্রাস পাওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। গত বুধবার এ সংক্রান্ত সরকারি ডিক্রি প্রকাশিত হয়েছে, যা সংশ্লিষ্ট উৎপাদকদের জন্য সাময়িক স্বস্তি বয়ে এনেছে।
জাতীয় উৎপত্তি ও গুণগত মান ইনস্টিটিউট (আইএনএও)-এর নিয়ন্ত্রণাধীন সুরক্ষিত পনিরগুলোর মধ্যে অ্যাবন্ড্যান্স, বিউফোর্ট এবং কম্তে তৈরিতে এই ছাড় প্রযোজ্য হয়েছে। বিশেষ করে অ্যাবন্ড্যান্স পনিরের উৎপাদকদের জন্য গোচারণভূমির ঘাসের ওপর নির্ভরতা ৫০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৫ শতাংশ করার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে তাদের বাইরে থেকে ফোরেজ বা পশুর খাদ্য আমদানির অনুমতিও দেওয়া হয়েছে।
উৎপাদনের নিয়ম শিথিল হওয়ার তালিকায় শুধু অ্যাবন্ড্যান্স বা কম্তে পনিরই নয়, আরও বেশ কিছু বিখ্যাত খাদ্যপণ্য অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। কম্তে পনিরের প্রস্তুতকারকরা স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত সবুজ ভুট্টার পরিবর্তে অন্য স্থান থেকে সংগ্রহ করা ভুট্টা ব্যবহার করতে পারবেন। এছাড়া কান্তাল, ব্লু ডি'অ্যাভের্ন, ফোরমে ডি'আম্বোর্ট, ব্লু ডু ভেরকোর্স-সাসেনাজ, রিবলোচোঁ এবং রোকামাদৌর পনিরের ক্ষেত্রেও অনুরূপ ওয়াইভার বা ছাড় পাওয়ার প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
পনির ছাড়াও অন্যান্য সুরক্ষিত পণ্যের উৎপাদকরাও এই ডিক্রির সুবিধা পাবেন। এই তালিকায় রয়েছে নরমান্ডির ক্যালভাদোস ও সিডার, ক্রেমাঁ দ্য আলসাস স্পার্কলিং ওয়াইন, পোয়াটু-শারাঁতের ভেড়ার মাংস এবং রেইন-ক্লড পাম বা বরই। এসব পণ্যের মান ও ঐতিহ্য বজায় রেখেই উৎপাদন অব্যাহত রাখতে এই বিশেষ ব্যবস্থা কার্যকর করা হয়েছে।
জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সৃষ্ট খরা পরিস্থিতি মোকাবিলায় এ ধরনের পদক্ষেপ ফ্রান্সে নতুন নয়। এর আগে ২০২২ সালের শুষ্ক গ্রীষ্মের পরেও দেশটির উৎপাদকদের সুরক্ষায় অনুরূপ বিভিন্ন জরুরি ব্যবস্থা বাস্তবায়ন করা হয়েছিল। সাম্প্রতিক খরা পরিস্থিতির কারণে কৃষকদের উৎপাদন প্রক্রিয়া সচল রাখতে আবারও একই ধরনের নীতি অনুসরণ করল দেশটির কর্তৃপক্ষ।








