খাগড়াছড়ির স্বাস্থ্যসেবায় তীব্র সংকট: ১২৯ পদ শূন্য
খাগড়াছড়ির সরকারি স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থায় দেখা দিয়েছে তীব্র জনবল সংকট। পর্যাপ্ত চিকিৎসক, নার্স ও নানা পদের জনবলের অভাবে ব্যাহত হচ্ছে সাধারণ মানুষের চিকিৎসাসেবা।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

খাগড়াছড়ির সরকারি স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থায় তীব্র জনবল সংকট দেখা দিয়েছে। ৩০ আগস্ট ২০২৬ তারিখে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসক, নার্স এবং অন্যান্য পদের দীর্ঘস্থায়ী শূন্যতার কারণে কাঙ্ক্ষিত স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন স্থানীয় রোগীরা। স্বাস্থ্য খাতের এই বেহাল দশার কারণে সামগ্রিক চিকিৎসা কার্যক্রমে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটছে।
জেলা সিভিল সার্জনের কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, খাগড়াছড়িতে স্বাস্থ্য খাতে তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির বড় একটি অংশ পদ শূন্য রয়েছে। এর মধ্যে ২০৪টি অনুমোদিত স্বাস্থ্য সহকারী পদের বিপরীতে বর্তমানে কর্মরত আছেন মাত্র ৭৫ জন এবং শূন্য রয়েছে ১২৯টি পদ। সম্প্রতি স্বাস্থ্য সহকারীর ১২০টি শূন্য পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছিল, যার মধ্যে ১১২টি পদই ছিল স্বাস্থ্য সহকারীর। তবে উচ্চ আদালতে রিট দায়ের হওয়ায় স্বাস্থ্য বিভাগের এই নিয়োগ প্রক্রিয়া বর্তমানে স্থগিত রয়েছে।
এদিকে জনবল সংকটের বড় প্রভাব পড়েছে খাগড়াছড়ি আধুনিক জেলা সদর হাসপাতালে। হাসপাতালটি ২০২৩ সালে ২৫০ শয্যায় উন্নীত করা হলেও চিকিৎসক রয়েছে মাত্র ৫০ শয্যার এবং নার্স রয়েছে ১০০ শয্যার। এই বিষয়ে খাগড়াছড়ি আধুনিক জেলা সদর হাসপাতালের ডা. রিপল বাপ্পি চাকমা বলেন, '২৫০ শয্যার হাসপাতাল হলেও ৫০ শয্যার চিকিৎসক দিয়ে চিকিৎসা কার্যক্রম চালাতে হচ্ছে। নার্স রয়েছে ১০০ শয্যার। জটিল রোগীদের সেবা নিশ্চিত করতে আমাদের হিমশিম খেতে হয়।'
চিকিৎসক ও নার্স সংকটের পাশাপাশি হাসপাতালের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সেবাও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। হাসপাতালে ৯ জন রেডিওলজিস্ট থাকার কথা থাকলেও কর্মরত আছেন মাত্র চারজন। এক্স-রে সেবার বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে নবেল চাকমা জানান, 'প্রতিদিন গড়ে ৬০ থেকে ৭০ জন রোগীর এক্স-রে করতে হয়। দুটি এক্স-রে মেশিন থাকলেও জনবল না থাকায় একটি অব্যবহৃত থাকছে।'
অন্যান্য পদের করুণ দশার চিত্র তুলে ধরে জানা গেছে, ৪৮টি অনুমোদিত উপসহকারী মেডিকেল অফিসারের বিপরীতে কর্মরত আছেন ২৪ জন এবং শূন্য রয়েছে ২৪টি পদ। শুধু জনবল সংকটই নয়, চিকিৎসা সামগ্রীরও চরম অভাব রয়েছে। চয়ন চাকমা এ বিষয়ে বলেন, 'প্রায় দুই বছর ধরে রক্ত পরিসঞ্চালনের কিট সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। এতে রোগীদের রক্ত দেওয়ার ব্যয় বেড়েছে।'
সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের রতন খীসা উল্লেখ করেন, 'খাগড়াছড়িতে স্বাস্থ্য খাতে তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির বড় অংশ পদই শূন্য। পাশাপাশি চিকিৎসক ও নার্স সংকটের কারণেও মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।'
তবে এই সংকট নিরসনে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের এমএন আবছার বলেন, 'আমরা জেলার স্বাস্থ্যসেবাকে অগ্রাধিকার দিয়ে দ্রুততম সময়ে আইনি জটিলতা সমাধানের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করব। স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে স্বাস্থ্য বিভাগের সমস্যা সমাধানে উদ্যোগ নেওয়া হবে।'








