কৈলাস-মানস সরোবর যাত্রা ও নেপালের রসুয়া জেলার আকস্মিক বন্যা
নেপালের রসুয়া জেলায় আকস্মিক বন্যা এবং হিন্দু, বৌদ্ধ, জৈন ও বন ধর্মাবলম্বীদের পবিত্র তীর্থযাত্রা কৈলাস-মানস সরোবর নিয়ে বিস্তারিত তথ্য। তিব্বতের এই পবিত্র স্থানটির ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরা হলো।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

নেপালের রসুয়া জেলায় আকস্মিক বন্যা এবং কৈলাস-মানস সরোবরযাত্রা নিয়ে নানা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য রয়েছে। কৈলাস পর্বত ও মানস সরোবর চীনের তিব্বত স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলে অবস্থিত। এটি হিন্দু, বৌদ্ধ, জৈন ও বন ধর্মাবলম্বীদের কাছে একটি অত্যন্ত পবিত্র তীর্থযাত্রা। প্রতি বছর প্রায় ২ লাখ মানুষ এই কৈলাস-মানস সরোবর যাত্রায় অংশ নেন।
হিন্দু ধর্মানুসারে কৈলাস পর্বত হলো ভগবান শিব ও দেবী পার্বতীর আবাসস্থল। বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের কাছে এই পর্বতটি 'কাং রিনপোচে' নামে পরিচিত। এছাড়া জৈন ধর্মে বিশ্বাস করা হয় যে, প্রথম তীর্থংকর ঋষভদেব এখানেই মোক্ষ লাভ করেছিলেন। এই ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় গুরুত্বের কারণে প্রতি বছর বহু তীর্থযাত্রী এই অঞ্চলে ভ্রমণ করেন।
কৈলাস পর্বতের উচ্চতা ৬ হাজার ৬৩৮ মিটার। এই তীর্থযাত্রার পথ অত্যন্ত দুর্গম এবং বেশির ভাগ পথই সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৪ হাজার ৫০০ মিটারের বেশি উচ্চতায় অবস্থিত। ভারতীয় তীর্থযাত্রীরা সাধারণত লিপুলেখ পাস, নাথু লা পাস এবং কাঠমান্ডু অর্থাৎ নেপাল রুট ব্যবহার করে এই যাত্রা সম্পন্ন করে থাকেন।
যাত্রাপথের অন্যতম রুট লিপুলেখ পাস প্রায় ৫ হাজার ২০০ মিটার উচ্চতার। অন্যদিকে, নাথু লা পাস দিয়ে যাত্রা শেষ করতে সাধারণত ২০ দিনের বেশি সময় লাগে। এই দীর্ঘ ও কঠিন পথ পাড়ি দিয়ে তীর্থযাত্রীরা তাদের গন্তব্যে পৌঁছান।
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট অনুযায়ী, ১৯৬২ সালের ভারত-চীন যুদ্ধের পর এই যাত্রা প্রায় দুই দশক ধরে বন্ধ ছিল। পরবর্তীতে দীর্ঘ কূটনৈতিক আলোচনার পর ১৯৮১ সালে দুই দেশের সমঝোতার ভিত্তিতে এই যাত্রা পুনরায় চালু করা হয়। এরপর থেকেই নিয়মিতভাবে তীর্থযাত্রীরা এই পবিত্র স্থানে যাতায়াত করে আসছেন।
এই পুরো যাত্রার ব্যবস্থাপনার সঙ্গে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং কুমায়ুন মণ্ডল বিকাশ নিগম যুক্ত রয়েছে। তাদের সহযোগিতায় তীর্থযাত্রীরা নির্দিষ্ট রুট দিয়ে এই পবিত্র তীর্থ সম্পন্ন করেন। নেপালের রসুয়া জেলায় আকস্মিক বন্যা এবং সামগ্রিক ভৌগোলিক ও ধর্মীয় পরিবেশ এই যাত্রাকে সবসময়ই একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় করে তুলেছে।








