কুমিল্লায় কান্দিখাল দখল ও জলাবদ্ধতা: উদ্ধারে নামছে কুসিক
দখল ও অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের কারণে কুমিল্লার প্রধান পানি নিষ্কাশন মাধ্যম কান্দিখালের অস্তিত্ব বিপন্ন হয়ে পড়েছে। এর ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই নগরীতে তীব্র জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। খালটি উদ্ধারে ইতোমধ্যে পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে কুমিল্লা সিটি করপোরেশন।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

২৭ আগস্ট ২০২৬ তারিখে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, কুমিল্লা নগরীর পানি নিষ্কাশনের প্রধান মাধ্যম কান্দিখাল অবৈধ দখল ও অপরিকল্পিত নির্মাণের কারণে মারাত্মকভাবে সংকুচিত হয়ে পড়েছে। উত্তর চর্থা নওয়াববাড়ি চৌমুহনী থেকে নোয়াগাঁও চৌমুহনী হয়ে ডাকাতিয়া নদীতে গিয়ে মেশা প্রায় পাঁচ কিলোমিটার দীর্ঘ এই খালটি আজ নানা অবৈধ স্থাপনার কবจে। সিএস নকশা অনুযায়ী খালের প্রস্থ ৪৫ ফুট থেকে ৯৫ ফুট হলেও বাস্তবে তা এখন মারাত্মকভাবে কমে গেছে। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ৪১ বছরের মাথায় আজ সেই খালের বেশিরভাগ অংশ দখলদাররা গিলে ফেলেছে। নগরীর পানি নিষ্কাশনের এই প্রধান খাল পুনরুদ্ধার না হলে কুমিল্লার দীর্ঘদিনের জলজট সমস্যার কোনো সমাধান হবে না। সামান্য বৃষ্টিতেই এই খাল দখল ও জলাবদ্ধতার কারণে নগরবাসীর দুর্ভোগ চরমে পৌঁছায়।
কান্দিখালের বর্তমান করুণ চিত্র তুলে ধরে স্থানীয়রা জানান, কান্দিখালের অংশবিশেষ দখলে নিয়েছেন খালপাড়ের বেশিরভাগ বাসিন্দারা। অনেকেই আবার খালের ওপর গড়ে তুলেছেন বহুতল ভবন। শুধু তাই নয়, সড়ক পথসহ সরকারি প্রতিষ্ঠানের দখলেও আছে এ খাল। প্রায় প্রতিটি বাড়ি ও ভবনের সামনে সংশ্লিষ্টরা যাতায়াতের জন্য ব্যক্তি উদ্যোগে খালের ওপর অপরিকল্পিতভাবে নির্মাণ করেছেন ব্রিজ ও কালভার্ট। খালের ওপরের এসব অবৈধ অবকাঠামো এবং মাটি ভরাট করে খাল দখলের কারণে বৃষ্টির পানি সরতে বাধাগ্রস্ত হয়, যার ফলে নগরীতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। নগਰের পানি অপসারণের অন্যতম প্রধান মাধ্যম এই কান্দিখালের বিভিন্ন স্থানে মাটি ভরাট করে খালটি সংকুচিত করা হয়েছে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী খালের সংকোচন এতটাই প্রকট যে, কান্দিখালটির বেশিরভাগ স্থানে এখন এটি কেবল একটি ড্রেনে পরিণত হয়েছে। যে যার মতো দখলের কারণে বর্তমানে এটি ৮ ফুট থেকে ২৫ ফুট প্রস্থের ড্রেনে পরিণত হয়েছে। চর্থা চৌমুহনী এলাকায় খাল ও সড়কের অংশে মার্কেট নির্মাণ করা হয়েছে, যার ফলে সেখানে খালের প্রস্থ বিলীন হয়ে বর্তমানে আছে মাত্র ১২-১৫ ফুট। অন্যদিকে, নগরীর টমছম ব্রিজ মোড়ে ৭৯ ফুট এবং নোয়াগাঁও মোড়ে ৯৫ ফুটের খালের প্রস্থ মারাত্মকভাবে কমে এখন নেমে এসেছে ১৫-২০ ফুট। সবমিলিয়ে যেন এলাকায় খাল দখলের এক অসম প্রতিযোগিতা চলছে।
এই খাল দখল প্রক্রিয়ায় ব্যক্তি ছাড়াও সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন পক্ষ জড়িত রয়েছে। বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা)-এর অধ্যক্ষ হুমায়ুন কবীর মাসউদ জানিয়েছেন, ব্যক্তি, সরকারি ও বেসরকারি মিলে মোট ৪০ জনের বিরুদ্ধে এই খাল দখলের অভিযোগ রয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, সরকারি প্রতিষ্ঠান হয়েও সরকারি খালে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা অত্যন্ত দুঃখজনক। টমছম ব্রিজ হয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ড, ইঞ্জিনিয়ার ইনস্টিটিউট, সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ) এবং কিছু ব্যক্তি প্রকৃতির ওপর জুলুমবাজি করছেন, খাল দখল করছেন এবং খালের দুপাড়ের নান্দনিক সৌন্দর্যকে ক্ষতবিক্ষত করে মূল খালের অস্তিত্ব বিপন্ন করছেন। বাপা আশা করে, কুমিল্লা সিটি করপোরেশন এসব দখলদারদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেবে। এছাড়া এই প্রক্রিয়ায় বন বিভাগসহ অন্যান্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর নামও উঠে এসেছে।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় এবং নগরবাসীকে জলাবদ্ধতা থেকে রক্ষা করতে সিটি করপোরেশন কঠোর পদক্ষেপের ঘোষণা দিয়েছে। গত ১৩ জুলাইয়ের বৃষ্টির পর কুমিল্লা সিটি করপোরেশন কান্দিখালের ওপর নির্মিত দুটি বড় কালভার্ট ও একটি স্টিল ব্রিজ বুলডোজার দিয়ে ভেঙে দেয়। কুসিকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা এরইমধ্যে খাল উদ্ধারে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। যারা নিজ দায়িত্বে কালভার্টসহ অবৈধ স্থাপনা সরাবেন না, সিটি করপোরেশন শিগগির সেইসব স্থাপনা বুলডোজার দিয়ে ভেঙে দেবে। পাশাপাশি খালের সঠিক সীমানা নির্ধারণ করে আরএস ও বিএস রেকর্ড অনুযায়ী কান্দিখাল উদ্ধারে সাঁড়াশি অভিযান পরিচালিত হবে বলে নিশ্চিত করেছেন সংশ্লিষ্টরা। জাহিদ পাটোয়ারী ও আহসানুল কবিরসহ স্থানীয় সচেতন ব্যক্তিরা এই খাল উদ্ধারের প্রয়োজনীয়তার ওপর বারবার জোর দিয়েছেন।








