কাশ্মীরি অতীন্দ্রিয় কবি রূপা ভবানীর জীবন ও সাহিত্যকর্ম
১৬২০ সালে শ্রীনগরে জন্ম নেওয়া রূপা ভবানী কাশ্মীরি শৈব ঐতিহ্যের অন্যতম প্রধান রহস্যবাদী কবি ছিলেন। ১৪৫-১৫০টি বাখ রচনার মাধ্যমে তিনি আধ্যাত্মিক অঙ্গনে অনন্য অবদান রেখে গেছেন।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

কাশ্মীরি শৈব ধর্মীয় ঐতিহ্যের অন্যতম প্রধান রহস্যবাদী কবি রূপা ভবানীর জীবন, সাধনা ও সাহিত্যকর্মের এক অনন্য ইতিহাস রয়েছে। ১৬২০ সালে শ্রীনগরের নাওয়াকাদালে জন্মগ্রহণ করেন এই প্রথিতযশা কবি। দীর্ঘ ও বর্ণাঢ্য জীবন পরিক্রমা শেষে ১৭২১ সালে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর এই শতবর্ষী জীবন কাশ্মীরি আধ্যাত্মিক ও সাহিত্যিক পরিমণ্ডলে গভীর প্রভাব ফেলেছিল।
রূপা ভবানীর পারিবারিক পটভূমি ছিল অত্যন্ত সুসংস্কৃত। তাঁর পিতা মাধব জু ধর এবং মাতা প্রেম দেবী উভয়েই তাঁর জীবনে গভীর প্রভাব রেখেছিলেন। পরবর্তীতে পণ্ডিত হীরানন্দ সাপ্রুর সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। তবে সাংসਾਰিক জীবনের নানা পরিবর্তনের এক পর্যায়ে তিনি গৃহত্যাগ করেন এবং আধ্যাত্মিক সাধনায় পূর্ণ মনোনিবেশ করেন।
ঐতিহাসিক ও সাহিত্যিক মূল্যায়নে রূপা ভবানীকে অত্যন্ত উঁচুতে স্থান দেওয়া হয়। তিনি বিখ্যাত সাধিকা লাল দেদের পরবর্তী দ্বিতীয় প্রধান রহস্যবাদী কবি হিসেবে সমাদৃত। লাল দেদের উত্তরসূরি হিসেবে তিনি কাশ্মীরি অতীন্দ্রিয়বাদের ধারাকে সচল রেখেছিলেন এবং নিজস্ব কাব্যশৈলীর মাধ্যমে তা সমৃদ্ধ করেছিলেন।
সাহিত্যিক অবদানের ক্ষেত্রে রূপা ভবানী মূলত 'বাখ' (Vaakh) শৈলীতে কবিতা রচনা করার জন্য চিরস্মরণীয় হয়ে আছেন। তাঁর এই কাব্যকর্মে গভীর দর্শন, আধ্যাত্মিক উপলব্ধির প্রকাশ এবং শৈব দর্শনের নানা দিক ফুটে উঠেছে। তাঁর এসব সাহিত্যকর্মের মধ্যে বর্তমানে ১৪৫-১৫০টি বাখ সংরক্ষিত রয়েছে, যা কাশ্মীরি সাহিত্যের অমূল্য সম্পদ।
শ্রীনগরের নাওয়াকাদালের মাটিতে জন্ম নিয়ে রূপা ভবানী তাঁর সাধনা ও সৃষ্টির মাধ্যমে কালজয়ী হয়ে আছেন। তাঁর জীবন ও বাখগুলো আজও কাশ্মীরি শৈব ঐতিহ্য এবং রহস্যবাদী সাহিত্যের গবেষক ও পাঠকদের জন্য এক অনুপম প্রেরণার উৎস হিসেবে বিবেচিত হয়।








