কাপ্তাই লেক ও সুইডেনের নদী নিয়ে বিশ্ব কার্বন চক্রের গবেষণা
গ্লোবাল কার্বন চক্রে লেকের প্রভাব নিয়ে বাংলাদেশ ও সুইডেনে একটি গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা পরিচালিত হয়েছে। সুইডেনের উমিও ইউনিভার্সিটির গবেষকদের এই গবেষণাটি পিএলওএস ওয়ান ও সায়েন্স ডিরেক্ট বা এলসেভিয়ার জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। গবেষণায় কাপ্তাই লেক এবং সুইডিশ নদী ব্যবস্থার বিভিন্ন তথ্য উঠে এসেছে।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

বিশ্ব কার্বন চক্রের ওপর লেকের প্রভাব নিয়ে একটি নতুন গবেষণা পরিচালিত হয়েছে, যা বাংলাদেশ ও সুইডেনের প্রেক্ষাপটে কাপ্তাই লেক এবং সুইডিশ নদী সিস্টেমকে কেন্দ্র করে সম্পন্ন হয়েছে। ২০২৫ সালে এ সংক্রান্ত গবেষণা প্রকাশিত হয়েছে, যা বৈশ্বিক পরিবেশ ও জলবায়ু গবেষণায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
এই গবেষণার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন ফ্রেডরিক আলরিকসন (Fredrik Alriksson), সুপ্রিয় চাকমা, রবিউল হাসান বাঁধন এবং মোবাইল রায়হানুল হক। তাদের এই যৌথ গবেষণা আন্তর্জাতিক মহলে বেশ গুরুত্ব লাভ করেছে।
গবেষণাটি প্রকাশ করেছে সুইডেনের উমিও ইউনিভার্সিটি (Umeå University)। এছাড়া গবেষণার ফলাফল আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন বিজ্ঞান সাময়িকী পিএলওএস ওয়ান (PLOS ONE)-এ প্রকাশিত হয়েছে এবং ২০২৫ সালে এলসেভিয়ার জার্নালের ডেটাবেস সায়েন্স ডিরেক্ট (Science Direct)-এ কাপ্তাই লেক নিয়ে আরেকটি গবেষণা প্রকাশিত হয়েছে।
গবেষণায় নদী ও ঝরনার পানি চলার পথে থাকা লেকের কার্বনের ওপর প্রভাব বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এতে দেখা গেছে, পানি চলার পথে লেকের মোট পৃষ্ঠের আয়তন ১০ গুণ বাড়লে সেখান থেকে কার্বন নিঃসরণ প্রায় ১ দশমিক ৮ গুণ বেড়ে যায়।
পানির প্রবাহ ও অবস্থানের সময়ের তারতম্যের বিষয়টিও গবেষণায় উঠে এসেছে। সেখানে দেখা গেছে, পানির অবস্থানের সময় ছিল মাত্র ৪২ মিনিট, আবার কোনো কোনো পথে তা আটকে ছিল ২৯ বছর। এছাড়া পানিপৃষ্ঠের আয়তন ১০ গুণ বেশি হলে পানির অবস্থানকাল বেড়ে যায় প্রায় ৩৫ গুণ।
বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান কৃত্রিম জলাধার কাপ্তাই লেক ১৯৫৬ থেকে ১৯৬১ সালের মধ্যে কর্ণফুলী নদীতে বাঁধ দিয়ে তৈরি করা হয়েছে। এই কাপ্তাই লেকের তলানিতে জমা হওয়া জৈব কার্বনের পরিমাণ ২ দশমিক ২৩ থেকে ৪ দশমিক ৩০ শতাংশ পর্যন্ত পাওয়া গেছে বলে গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে।
এই গবেষণাটি বৈশ্বিক কার্বন চক্রের প্রবাহ এবং জলাধারগুলোর ভূমিকা বুঝতে গবেষক ও নীতিনির্ধারকদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল হিসেবে কাজ করবে। সুইডেন ও বাংলাদেশের যৌথ এই কাজের মাধ্যমে জলাধারের কার্বন নিঃসরণ এবং জমা হওয়ার প্রক্রিয়া আরও স্পষ্টভাবে সামনে এসেছে।








