কলকাতায় হোটেলে আগুন: ৭ বাংলাদেশিসহ নিহত ৯
কলকাতার মির্জা গালিব স্ট্রিটের একটি আবাসিক হোটেলে ভয়াবহ আগুনে সাত বাংলাদেশিসহ নয়জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে একই পরিবারের চারজন সদস্য রয়েছেন। মঙ্গলবার গভীর রাত ২টার দিকে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
প্রকাশ: · আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০২৬, রাত ৭:১২· ১ মিনিট পড়া

ভারতের কলকাতার মির্জা গালিব স্ট্রিটের একটি আবাসিক হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার গভীর রাত ২টার দিকে ঘটা এই দুর্ঘটনায় মোট নয়জনের প্রাণহানির সংবাদ পাওয়া গেছে। ভয়াবহ এই অগ্নিকাণ্ডে নিহতদের মধ্যে সাতজনই বাংলাদেশি নাগরিক। আকস্মিক এই প্রাণহানির ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে স্বজন ও পরিচিত মহলে।
নিহত বাংলাদেশিদের মধ্যে চারজনই একই পরিবারের সদস্য। তারা হলেন ৩৮ বছর বয়সী দেবাশীষ দত্ত, তাঁর ২৭ বছর বয়সী স্ত্রী আফসানা শিম্মিন, তাদের আড়াই বছরের ছেলে শর্ণশীষ দত্ত এবং দেবাশীষের ৬৫ বছর বয়সী শ্বশুর আকরাম আলী। এই দুর্ঘটনায় ওই পরিবারের আট বছরের একটি মেয়ে সন্তান রয়েছে। এছাড়া নিহত অপর তিন বাংলাদেশি হলেন সাভারের আমিনবাজারের ৩৭ বছর বয়সী আহম্মেদ বাবু এবং সাতক্ষীরা কালীগঞ্জের রেবাতি সরকার ও এস এম আলীমুজ্জামান।
নিহত দেবাশীষ দত্তের বাবা দিলীপ কুমার শোকে ভেঙে পড়ে বলেন, দেবাশীষ ছিল তাঁর একমাত্র সন্তান এবং সে পরিবারের খরচ চালাত। তাদের আয়ের একমাত্র অবলম্বন ছিল সে। প্রতি মাসে তাঁর ও তাঁর স্ত্রীর ১০ হাজার টাকার ওষুধ লাগে উল্লেখ করে তিনি প্রশ্ন রাখেন, এখন পরিবার কীভাবে চলবে? তাঁর মতে, ওঁর মেয়েটা মা-বাবা ও ভাইহারা হয়ে গেল, তাকে তারা কী বলে সান্ত্বনা দেবেন এবং কেমন করে বড় করবেন।
ঘটনার বিবরণ দিয়ে স্বজন ফিরোজ হোসেন জানান, স্ত্রীর চিকিৎসা করাতে সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে দেবাশীষ গত ৩ আগস্ট কলকাতা গিয়েছিলেন। সেখান থেকে তারা কর্ণাটকের বেঙ্গালুরু যান। ফিরোজ হোসেন ও তাঁর শ্বশুর আকরাম হোসেনও চিকিৎসার জন্য বেঙ্গালুরু গিয়েছিলেন। চিকিৎসা শেষে গত সোমবার তিনি দেশে ফিরে এলেও তাঁর শ্বশুর দেবাশীষের সঙ্গে থেকে যান। গতকাল বুধবার তাঁদের দেশে ফেরার কথা ছিল।
সকালে দেবাশীষের মোবাইলে যোগাযোগের চেষ্টার কথা স্মরণ করে ফিরোজ হোসেন জানান, সকালে অনেকবার দেবাশীষের মোবাইলে কল করলেও কেউ সাড়া দেননি। পরে দূতাবাসের একজন ফোন রিসিভ করেন এবং তখনই মর্মান্তিক খবরটি জানতে পারেন। তিনি জানান, মরদেহ গ্রহণ করার জন্য তিনি কলকাতায় যাচ্ছেন এবং সব প্রক্রিয়া শেষ করে আজ বৃহস্পতিবার হয়তো মরদেহগুলো নিয়ে ফিরতে পারবেন।
নিহত দেবাশীষের স্মৃতিচারণ করে আনিসুজ্জামান ডাবলু বলেন, দেবাশীষ ছিল সবার প্রিয় একজন মানুষ এবং সে আপাদমস্তক সাংবাদিক ছিল। তাঁর ধ্যান-জ্ঞান ছিল সংবাদ নিয়ে। ভারতে যাওয়ার আগের দিনও সে তাঁর অফিসে এসেছিল। সকালে টেলিভিশন খুলে খবর দেখার সময় কলকাতায় হোটেলে আগুনে বাংলাদেশের সাতজন মারা যাওয়ার সংবাদে তিনি দেবাশীষকেও দেখতে পান, যা তিনি কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না। ওঁর হাসিমাখা মুখটা বারবার তাঁর চোখের সামনে ভেসে উঠছে।








