কলকাতায় হোটেল ‘শিখা ইন’-এ ভয়াবহ আগুন, নিহত ৯
ভারতের কলকাতার নিউ মার্কেট এলাকার একটি হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় অন্তত ৯ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। নিহতদের মধ্যে ৮ জন বাংলাদেশি নাগরিক রয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ দূতাবাস। এ ঘটনায় আহত আরও ৬ জন এসএসকেএম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।
প্রকাশ: · আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০২৬, রাত ৭:১৩· ১ মিনিট পড়া

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতার নিউ মার্কেট সংলগ্ন এলাকায় একটি হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। গত ১৯ আগস্ট বুধবার দিবাগত রাত প্রায় ২টার দিকে ফ্রি স্কুল স্ট্রিট বা মির্জা গালিব স্ট্রিট এলাকার হোটেল ‘শিখা ইন’-এ এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। গভীর রাতে হঠাৎ করে এই আগুন লাগার ফলে হোটেলটিতে অবস্থানরত অতিথিদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
প্রাথমিক তথ্যে জানা গেছে, হোটেলের একটি এয়ার কন্ডিশনার বা এসি বিস্ফোরণের মাধ্যমেই মূলত এই আগুনের সূত্রপাত হয়েছিল। মুহূর্তের মধ্যে আগুন পুরো ভবনে ছড়িয়ে পড়ে এবং চারদিক ঘন ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে যায়। এতে অনেক অতিথি ভেতরে আটকা পড়েন এবং মারাত্মক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসে দমকল বাহিনী। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং উদ্ধারকাজ চালাতে ফায়ার সার্ভিসের মোট ৪টি ইউনিট এবং বিশেষ দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা দল সেখানে অংশ নেয়। দীর্ঘ প্রচেষ্টা ও অভিযান শেষে তারা আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন।
এই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ঘটনাস্থলেই এবং পরবর্তীতে সবমিলিয়ে অন্তত ৯ জন মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। এএনআই-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিহত ৯ জনই বাংলাদেশি নাগরিক যারা মূলত চিকিৎসার জন্য ভারতে গিয়েছিলেন। পাশাপাশি, বাংলাদেশ দূতাবাসও এই দুর্ঘটনায় ৮ জন বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
দমকল বাহিনী ও উদ্ধারকর্মীদের তৎপরতায় হোটেলটির ভেতর থেকে অন্তত ৬০ জনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। তবে আগুনে পুড়ে ও ধোঁয়ায় অসুস্থ হয়ে আহত হয়েছেন আরও অনেকে। তাদের দ্রুত উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে পাঠানো হয়।
বর্তমানে আহতদের মধ্যে ৬ জন ব্যক্তি কলকাতার এসএসকেএম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। সেখানে তাদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হচ্ছে। এছাড়া এই দুর্ঘটনায় আহত অন্য ব্যক্তিদের কলকাতা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেও চিকিৎসার জন্য নেওয়া হয়েছিল।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসার পর উদ্ধারকারী দলের একজন পুলিশ কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে জানান, আমাদের প্রধাণ অগ্রাধিকার ছিল আটকে পড়াদের উদ্ধার করা এবং আগুন লাগার কারণ খুঁজে বের করা। আগুন সম্পূর্ণ নেভানো সম্ভব হয়েছে এবং বর্তমানে ভবনটি ঠান্ডা করার কাজ চলছে। প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষ দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।








