এলএনজি টার্মিনাল বন্ধ, গ্যাস সংকট ও লোডশেডিং বৃদ্ধি
এক্সিলারেট এনার্জির ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল বন্ধ থাকায় দেশে গ্যাস সরবরাহ কমে গেছে। এর ফলে রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকা ও গ্রামাঞ্চলে লোডশেডিং উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
প্রকাশ: · আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০২৬, রাত ৭:১৩· ১ মিনিট পড়া

এলএনজি কার্গোর অভাবে এক্সিলারেট এনার্জির ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল বা এফএসআরইউ বুধবার বন্ধ হয়ে গেছে। এই টার্মিনালটি বন্ধ থাকায় দেশে সার্বিক গ্যাস সরবরাহ কমে গেছে এবং এর সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে বিদ্যুৎ উৎপাদনে, যার ফলে দেশজুড়ে লোডশেডিং বৃদ্ধি পেয়েছে। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা ও গ্রামাঞ্চলে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
পেট্রোবাংলা, পাওয়ার গ্রিড, সামিট ও আরপিজিসিএল সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যে গ্যাস ও বিদ্যুতের ঘাটতির চিত্র স্পষ্ট হয়েছে। বুধবার দুপুর ১২টায় দেশের দুই এলএনজি টার্মিনাল থেকে জাতীয় সঞ্চালন লাইনে ৬৬ কোটি ১০ লাখ ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছিল। একই সময়ে দেশীয় কূপ থেকে প্রাপ্ত গ্যাসের পরিমাণ ছিল ১৬২ কোটি ৮০ লাখ ঘনফুট। ফলে দুপুর ১২টায় মোট গ্যাস সরবরাহের পরিমাণ দাঁড়ায় ২২৮ কোটি ৯০ লাখ ঘনফুট।
তবে দিনের শেষভাগে পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটে। সন্ধ্যা ৬টায় এলএনজি থেকে গ্যাস সরবরাহ কমে নামে ৫৬ কোটি ২০ লাখ ঘনফুটে এবং দেশীয় গ্যাস সরবরাহ সামান্য কমে হয় ১৬২ কোটি ৭০ লাখ ঘনফুট। এতে সন্ধ্যা ৬টায় মোট গ্যাস সরবরাহ কমে দাঁড়ায় ২১৮ কোটি ৯০ লাখ ঘনফুটে। অথচ দেশে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩৮০ কোটি ঘনফুট, যার ফলে সন্ধ্যায় মোট গ্যাসের ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়ায় ১৬১ কোটি ১০ লাখ ঘনফুট।
গ্যাসের এই তীব্র ঘাটতির কারণে বিদ্যুৎ খাতেও বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে। পাওয়ার গ্রিডের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার সকাল ১০টায় বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৪ হাজার ১৭ মেগাওয়াট এবং সরবরাহ ছিল ১৩ হাজার ৯০০ মেগাওয়াট। সেই সময়ে লোডশেডিংয়ের পরিমাণ ছিল ১১৭ মেগাওয়াট। কিন্তু গ্যাস সরবরাহ হ্রাসের পর সন্ধ্যা ৭টায় বিদ্যুতের চাহিদা এক লাফে বেড়ে দাঁড়ায় ১৭ হাজার ৩৪৫ মেগাওয়াটে। বিপরীতে তখন বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয় ১৪ হাজার ৮১৫ মেগাওয়াট, যার ফলে সন্ধ্যা ৭টায় লোডশেডিং বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৫৩০ মেগাওয়াটে।
এদিকে উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় জরুরি ভিত্তিতে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত কমিটির মাধ্যমে সিঙ্গাপুর থেকে এলএনজি কার্গো আমদানির প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে। প্রতি এমএমবিটিইউ এলএনজির দাম ধরা হয়েছে ২৩ দশমিক ৯৩ ডলার।








