ইসলামে প্লাস্টিক সার্জারি ও রূপচর্চার বিধান কী?
ইসলামে সাময়িক ও বাহ্যিক রূপচর্চা অনুমোদিত হলেও জন্মগত ত্রুটি সংশোধন ছাড়া কেবল সৌন্দর্যের জন্য কৃত্রিম পরিবর্তন হারাম। এ বিষয়ে ইসলামি শরিয়তের সুনির্দিষ্ট বিধান ও ব্যাখ্যা তুলে ধরেছেন বিশিষ্ট উলামায়ে কেরাম।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

ইসলাম ধর্মে সৌন্দর্যচর্চা এবং রূপচর্চার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট ও ভারসাম্যপূর্ণ নীতিমালা রয়েছে। ইসলামে সাময়িক এবং বাহ্যিক সৌন্দর্য বর্ধনের পদ্ধতিগুলো সম্পূর্ণ অনুমোদিত। এর মধ্যে রয়েছে প্রাকৃতিক উপাদান, ক্রিম, লোশন এবং মেকআপের মতো উপায় ব্যবহার করা, যা মানুষের শরীরের স্বাভাবিক সৃষ্টিকে স্থায়ীভাবে পরিবর্তন করে না। ইসলাম সবসময় পরিচ্ছন্নতা ও মার্জিত রূপকে উৎসাহিত করে থাকে।
এ প্রসঙ্গে একটি ঐতিহাসিক ঘটনার উল্লেখ পাওয়া যায়। সাহাবি আরফাজাহ ইবনে আসআদ-এর বর্ণনা অনুযায়ী, যুদ্ধক্ষেত্রে নাক কেটে যাওয়ার পর তিনি রূপার নাক ব্যবহার করেছিলেন। পরবর্তীতে তা থেকে দুর্গন্ধ সৃষ্টি হলে নবীজি তাকে সোনা দিয়ে নাক বানিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। এই ঘটনা প্রমাণ করে যে, চিকিৎসার প্রয়োজনে বা কোনো অঙ্গের সংশোধনে বিশেষ পদক্ষেপ নেওয়া ইসলামে জায়েজ রয়েছে।
প্লাস্টিক সার্জারি বা চিকিৎসা সংক্রান্ত বিভিন্ন পদ্ধতির ক্ষেত্রে শরিয়তের দৃষ্টিভঙ্গি অত্যন্ত স্পষ্ট। জন্মগত ত্রুটি, শারীরিক কোনো অস্বাভাবিকতা কিংবা দুর্ঘটনা, আগুনে পোড়া, এসিড আক্রমণ কিংবা বিভিন্ন রোগের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত অঙ্গ ঠিক করার জন্য প্লাস্টিক সার্জারি বা চিকিৎসাগত প্রক্রিয়া ইসলামে সম্পূর্ণ অনুমোদিত। মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা নিশ্চিত করতে এবং কষ্ট লাঘব করতে এসব চিকিৎসাকে শরিয়তে বৈধতা দেওয়া হয়েছে।
তবে এর বিপরীত চিত্রও রয়েছে। কেবল বাহ্যিক সৌন্দর্য বৃদ্ধি, পশ্চিমা ফ্যাশন অনুসরণ কিংবা বিপজ্জনক ইনজেকশন বা কেমিক্যাল ব্যবহার করে স্বাভাবিক ত্বকের রং পরিবর্তন করার উদ্দেশ্যে স্বাভাবিক অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ স্থায়ীভাবে পরিবর্তন করা ইসলামে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ বা হারাম ঘোষণা করা হয়েছে। এ ধরনের কাজ আল্লাহর সৃষ্টিতে অপ্রয়োজনীয় হস্তক্ষেপ হিসেবে গণ্য করা হয়।
এ বিষয়ে কোরআনে কারিমে শয়তানের প্ররোচনার কথা উল্লেখ করে বলা হয়েছে, '(শয়তান বলল) আমি অবশ্যই তাদের বিপথগামী করব, তাদের হৃদয়ে মিথ্যা বাসনার সৃষ্টি করব... এবং আমি তাদের নিশ্চিত নির্দেশ দেব, ফলে তারা আল্লাহর সৃষ্টিকে বিকৃত ও পরিবর্তন করবে!' এই আয়াতের মাধ্যমে মানবদেহের স্বাভাবিক গঠনে কৃত্রিম ও ক্ষতিকর পরিবর্তনের নিন্দা জানানো হয়েছে।
সৌন্দর্যের প্রকৃত সংজ্ঞা তুলে ধরে নবীজি বলেছেন, 'নিশ্চয়ই আল্লাহ সুন্দর, তিনি সৌন্দর্যকেই ভালোবাসেন। প্রকৃতপক্ষে অহংকার হলো সত্যকে অস্বীকার করা এবং মানুষকে অবজ্ঞা বা তুচ্ছজ্ঞান করা।' এই বাণীর মাধ্যমে বাহ্যিক রূপের চেয়ে মনের পবিত্রতা ও বিনয়কে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
ঢাকার জামিয়া আরাবিয়া দারুস সুন্নাহ রাজাবাড়ী মাদ্রাসার মুহাদ্দিস ফয়জুল্লাহ রিয়াদ এবং প্রখ্যাত ফকিহ মুফতি মুহাম্মদ তাকি ওসমানি ইসলামের এসব মৌলিক বিধানের ওপর আলোকপাত করেছেন। পবিত্র কোরআনের ঘোষণা অনুযায়ী, 'নিশ্চয়ই আল্লাহর কাছে তোমাদের মধ্যে সর্বাধিক মর্যাদাবান সেই ব্যক্তি, যে তোমাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি তাকওয়াবান (খোদাভীরু)।' ফলে বাহ্যিক রূপের কৃত্রিম প্রতিযোগিতার চেয়ে তাকওয়া অর্জনই ইসলামের মূল শিক্ষা।








