ইসলামে জিকিরের গুরুত্ব ও এর বিভিন্ন স্তর নিয়ে আলোচনা
বাংলাদেশে ইসলামি স্মরণ বা জিকিরের গুরুত্ব, এর বিভিন্ন স্তর এবং সরব ও নীরব জিকিরের নিয়ম নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। জিকিরের মাধ্যমে শয়তানের কুমন্ত্রণা থেকে দূরে থাকা সম্ভব বলে জানানো হয়।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

বাংলাদেশে ইসলামি স্মরণ বা জিকির, এর গুরুত্ব, বিভিন্ন স্তর এবং নীরব ও সরব জিকিরের নিয়মকানুন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই আয়োজনে জিকিরের তাৎপর্য ও এর আমলের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ জাতীয় ইমাম সমিতি এবং আহ্ছানিয়া ইনস্টিটিউট অব সুফিজমের প্রসঙ্গ এসেছে।
আলোচনায় জানানো হয় যে, জিকিরের মূল কয়েকটি স্তর রয়েছে। এর মধ্যে প্রথমটি হলো অন্তরে স্মরণ করা, দ্বিতীয়টি জবান বা জিহ্বা দিয়ে উচ্চারণ করা এবং তৃতীয় স্তরটি হলো কাজের মাধ্যমে তা বাস্তবায়ন করা। বান্দার দৈনন্দিন জীবনে এই স্তরগুলোর বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।
জিকিরের ধরন বা প্রকারভেদ সম্পর্কে বলা হয়েছে যে, নীরব জিকিরকে জিকির-ই-খফি এবং সরব জিকিরকে জিকির-ই-জলি বলা হয়। সরব জিকির বা জিকির-ই-জলি আদায়ের ক্ষেত্রে তিনটি সুনির্দিষ্ট শর্ত মেনে চলতে হয়। শর্তগুলো হলো—এর মাধ্যমে অন্য ইবাদতকারীদের বিঘ্ন ঘটানো যাবে না, ঘুমন্ত ব্যক্তিদের বিরক্ত করা যাবে না এবং কোনো অসুস্থ ব্যক্তির যেন কোনো ধরনের কষ্ট না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।
জিকিরের ফজিলত ও গুরুত্ব সম্পর্কে পবিত্র কোরআন ও হাদিসের উদ্ধৃতি তুলে ধরা হয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, শয়তান আদমসন্তানের অন্তরে ওত পেতে থাকে। যখন সে জিকির বা আল্লাহর স্মরণে থাকে, তখন শয়তান দূরে সরে যায়। আর যখন সে গাফিল বা উদাসীন হয়, তখন শয়তান কুমন্ত্রণা দেয়। এছাড়া রাসুলুল্লাহ (সা.) আরও বলেছেন যে,ত্তম জিকির হলো কোরআন মাজিদ তিলাওয়াত করা।
আল্লাহ-তাআলা কোরআনুল কারিমে ইরশাদ করেছেন, আমার স্মরণার্থে সালাত কায়েম করো। অন্য আয়াতে আল্লাহ বলেছেন, তুমি কোরআন তিলাওয়াত করো, যা তোমার প্রতি অবতীর্ণ করা হয়েছে এবং সালাত কায়েম করো। নিশ্চয়ই সালাত মানুষকে অশ্লীল ও অশোভন কর্ম থেকে বিরত রাখে। আর আল্লাহর জিকিরই তো সর্বশ্রেষ্ঠ। তোমরা যা করো, আল্লাহ তা অবগত আছেন।
আল্লাহ-তায়ালা আরও বলেছেন, তুমি জিকির বা আলোচনা করো বা উপদেশ দাও; জিকির বা উপদেশে মুমিনদের কল্যাণ হয়। কোরআনুল কারিমে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, তোমরা তোমাদের রবকে বিনয়ের সঙ্গে গোপনে ও নিঃশব্দে ডাকো। এছাড়া বলা হয়েছে, তোমরা তোমাদের রবের জিকির করো বিনয়ের সঙ্গে, সশঙ্ক চিত্তে এবং নীরবে-নিভৃতে, অনুচ্চ স্বরে, প্রত্যুষে ও সন্ধ্যায়। আর তুমি গাফিল বা উদাসীন হয়ো না।
আলোচনায় আরও স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয় আল্লাহর বাণী, বলো, কে তোমাদের স্থলভাগ ও সমুদ্রের অন্ধকার থেকে রক্ষা করে, যখন তোমরা কাতরভাবে এবং গোপনে তাঁর কাছে অনুনয়-বিনয় করে প্রার্থনা করো? তোমাদের এ অবস্থা থেকে রক্ষা করলে আমরা অবশ্যই কৃতজ্ঞদের অন্তর্ভুক্ত হব। এবং বলা হয়েছে, যদি তুমি উচ্চ স্বরে কথা বলো, তবে তিনি তো গুপ্ত ও অব্যক্ত সবকিছুই জানেন।








