ইমরান খান ও বুশরা বিবিকে একাকী কারাবন্দি না রাখার নির্দেশ
পাকিস্তানের আদিয়ালা কারাগারে বন্দি ৭৩ বছর বয়সী ইমরান খান ও তার স্ত্রী বুশরা বিবিকে একাকী কারাবন্দি বা কোল্ড সেলে না রাখার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাদের পরিবারের সদস্য ও আইনজীবীদের সাক্ষাতের সুযোগ দিতে বলা হয়েছে।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

পাকিস্তানের রাজনীতি ও বিচার অঙ্গনে এক গুরুত্বপূর্ণ ಬೆಳবদল ঘটে গত ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে। রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারে বন্দি দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খান এবং তার স্ত্রী বুশরা বিবিকে একাকী কারাবন্দি বা একা রাখার নির্দেশ বাতিল করেছে উচ্চ আদালত। ইসলামাবাদ হাইকোর্ট (আইএইচসি) কারা কর্তৃপক্ষকে এই দম্পতিকে আলাদা বা বিচ্ছিন্ন অবস্থায় না রাখার কড়া নির্দেশ দিয়েছে।
আদালতের এই রায়ের ফলে ৭৩ বছর বয়সী ইমরান খান এবং বুশরা বিবি আর একাকী কারাবন্দিত্বের মধ্যে থাকবেন না। দীর্ঘদিন ধরে তাদের এই ধরনের কঠোর অবস্থার মধ্যে রাখা হয়েছিল বলে অভিযোগ করে আসছে তাদের দল ও পরিবার। নতুন এই আদেশের মাধ্যমে সেই পরিস্থিতির অবসান ঘটার পথ তৈরি হলো বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, কারাগারের প্রচলিত নিয়ম ও আইন মেনে এখন থেকে ইমরান খানের পরিবারের সদস্যদের তার সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ দিতে হবে। একই সঙ্গে কারাগারের ভেতরে তার সঙ্গে দেখা করার জন্য নির্ধারিত ব্যক্তিদের তালিকাভুক্তদের প্রবেশ নিশ্চিত করতে হবে কারা কর্তৃপক্ষকে।
পরিবারের সদস্যদের সাক্ষাতের পাশাপাশি যোগাযোগ ব্যবস্থার ক্ষেত্রেও কিছু নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে ইমরান খানের দুই ছেলের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কারা কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর ফলে দীর্ঘদিন পর তার সন্তানদের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ তৈরি হতে যাচ্ছে।
কারাবন্দি থাকা অবস্থায় বন্দির মৌলিক অধিকারের বিষয়টি মাথায় রেখে আদালত আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দিয়েছে। তা হলো, ইমরান খানকে প্রতিদিন নিয়মিতভাবে সংবাদপত্র এবং বই সরবরাহ করতে হবে। এর মাধ্যমে তার কারাজীবনের দীর্ঘ সময়ে পড়ার ও দেশের পরিস্থিতি জানার সুযোগ নিশ্চিত করা হবে।
ইসলামাবাদ হাইকোর্টের এই বেঞ্চে শুনানির সময় বিভিন্ন পক্ষের আইনজীবীরা উপস্থিত ছিলেন। এই রায়ের ফলে আদিয়ালা কারাগারে বন্দি পিটিআই প্রতিষ্ঠাতা ও তার স্ত্রীর কারাবন্দিত্বের শর্তাবলীতে কিছুটা স্বস্তি আসবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন দলটির নেতারা। তবে এই নির্দেশ বাস্তবায়নে কারা কর্তৃপক্ষ কতটুকু তৎপর হয়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।








