ইমরান খানকে হাসপাতালে না নেওয়ায় পিটিআইয়ের আদালত অবমাননা
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অমান্য করে পিটিআই প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খানকে নির্দিষ্ট বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তর না করায় আদালত অবমাননার পিটিশন দায়ের করা হয়েছে। আজ শনিবার পাকিস্তানে এই রাজনৈতিক ও আইনি ঘটনা ঘটে।
প্রকাশ: · আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০২৬, সন্ধ্যা ৭:১৩ · ১ মিনিট পড়া
পাকিস্তানের রাজনীতিতে নতুন করে আইনি জটিলতা তৈরি হয়েছে। দেশটির কারাবন্দি সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই)-এর প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খানকে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী নির্দিষ্ট বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তর না করার অভিযোগে একটি আদালত অবমাননার পিটিশন দায়ের করা হয়েছে। আজ শনিবার পাকিস্তান জুড়ে এই বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে।
ঘটনার সূত্রপাত গত মঙ্গলবার। ওই দিন দেশের সর্বোচ্চ আদালত বা সুপ্রিম কোর্ট একটি সুনির্দিষ্ট নির্দেশ দিয়েছিলেন। সেই নির্দেশ অনুযায়ী, কারাবন্দি ইমরান খানকে রাজধানী ইসলামাবাদের একটি স্বনামধন্য বেসরকারি হাসপাতাল—শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে স্থানান্তরিত করার কথা ছিল। আদালতের এই আদেশের ফলে তাঁর সুচিকিৎসার একটি সুনির্দিষ্ট পথ তৈরি হয়েছিল বলে মনে করা হচ্ছিল।
তবে আদালতের সেই নির্দেশ পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি। গত শুক্রবার ভোরের দিকে ইমরান খানকে রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগার থেকে বের করে একটি সরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তাঁকে যে সরকারি প্রতিষ্ঠানে নেওয়া হয়েছিল, তার নাম পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সেস বা পিআইএমএস। কিন্তু সেখানে দীর্ঘক্ষণ রাখার পর তাঁকে পুনরায় আদিয়ালা কারাগারে ফিরিয়ে নেওয়া হয়।
আদালতের নির্দেশ অমান্য করে বেসরকারি শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালের পরিবর্তে কেন সরকারি পিআইএমএস হাসপাতালে নেওয়া হলো এবং কেনই বা তাঁকে সেখানে রাখা হলো না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। আদালতের নির্দেশ লঙ্ঘন করার এই সুনির্দিষ্ট অভিযোগেই ইমরান খানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) শেষ পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্টে আদালত অবমাননার পিটিশনটি দায়ের করে।
অন্যদিকে, এই পুরো পরিস্থিতির একটি সরকারি ব্যাখ্যাও পাওয়া গেছে। পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে, নিরাপত্তার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হয়েছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, সার্বিক নিরাপত্তার কারণে শেষ মুহূর্তে এসে সিদ্ধান্ত বদল করা হয়েছিল। আর সেই কারণেই ইমরান খানকে নির্ধারিত বেসরকারি হাসপাতালে না নিয়ে সরকারি পিআইএমএস হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এই ঘটনার সঙ্গে পিটিআইয়ের আইনজীবী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ যেমন সালমান আকরাম রাজা, উজমা খান ও উজাইর ভান্ডারি যুক্ত রয়েছেন। সুপ্রিম কোর্টের পূর্বের নির্দেশ এবং বর্তমান এই পাল্টাপাল্টি অবস্থানের জেরে পাকিস্তানের আদালত অঙ্গন এবং রাজনৈতিক ময়দানে উত্তেজনা ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে। আগামী দিনে এই আদালত অবমাননার পিটিশনের শুনানিতে কী রায় আসে, সেদিকেই এখন সবার নজর রয়েছে।
তথ্যসূত্র: প্রথম আলো ও ইত্তেফাক
আপনার প্রতিক্রিয়া