ইপিআই ২০২৬ সূচকে ১৭৭ দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১৭৫তম
প্রকাশিত এনভায়রনমেন্টাল পারফরম্যান্স ইনডেক্স (ইপিআই) ২০২৬-এ ১৭৭টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ ১৭৫তম অবস্থান পেয়েছে। দেশের পরিবেশগত অবনতি ও দূষণ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

পরিবেশ সুরক্ষায় বৈশ্বিক পরিস্থিতি নিয়ে সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে এনভায়রনমেন্টাল পারফরম্যান্স ইনডেক্স (ইপিআই) ২০২৬। ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয় ও কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয় যৌথভাবে এই সূচক প্রকাশ করেছে। এতে বিশ্বের ১৭৭টি দেশের পরিবেশগত কার্যক্রম মূল্যায়ন করা হয়েছে। এই মূল্যায়নে বাংলাদেশের অবস্থান অত্যন্ত পেছনের সারিতে রয়েছে।
প্রকাশিত সূচক অনুযায়ী, ১৭৭টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১৭৫তম। বাংলাদেশের প্রাপ্ত স্কোর হচ্ছে ২৩ দশমিক ৪৬। এই তালিকায় দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের মধ্যে ভুটান ৫২তম অবস্থানে রয়েছে এবং তাদের স্কোর ৪৭ দশমিক ৭৪। এ ছাড়া শ্রীলঙ্কা ৯৪তম, নেপাল ১২৮তম, আফগানিস্তান ১৩৫তম, পাকিস্তান ১৫৭তম এবং মালদ্বীপ ১৭১তম অবস্থানে রয়েছে। অন্যদিকে বাংলাদেশের কাছাকাছি অবস্থানে থাকা ভারতের অবস্থান ১৭৬তম এবং তাদের স্কোর ২২ দশমিক ৪৬। আর সবার নিচে ১৭৭তম অবস্থানে রয়েছে লাওস। এর ঠিক ওপরে মালি ১৭৪তম এবং ভিয়েতনাম ১৭৩তম স্থান অর্জন করেছে।
তালিকায় ভালো অবস্থানে থাকা দেশগুলোর মধ্যে এস্তোনিয়া প্রথম স্থান অর্জন করেছে এবং তাদের স্কোর ৭৪ দশমিক ৭৯। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে লুক্সেবার্গ, যাদের স্কোর ৭৪ দশমিক ২৪। এ ছাড়া যুক্তরাজ্য তৃতীয় অবস্থানে থেকে ৭৪ দশমিক ৫১ স্কোর অর্জন করেছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান ২৭তম এবং তাদের স্কোর ৫৮ দশমিক ৫৪। আর চীন রয়েছে ১২৯তম অবস্থানে, যাদের প্রাপ্ত স্কোর ৩৩ দশমিক ৮৮। যুক্তরাষ্ট্র সরকারের পরিবেশ সুরক্ষা এজেন্সি (ইপিআই) এবং এমসিকল ম্যাকবেইন ফাউন্ডেশনের মতো আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো এই মূল্যায়ন প্রক্রিয়ার সাথে যুক্ত রয়েছে।
বাংলাদেশের এই হতাশাজনক অবস্থানের পর তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন দেশের পরিবেশবাদী নেতারা। ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা)-র সদস্যসচিব এবং বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা)-র সাবেক সাধারণ সম্পাদক শরীফ জামিল এই বিষয়ে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, পরিবেশ সুরক্ষায় বৈশ্বিক এ মূল্যায়ন একেবারেই যথার্থ। এ দেশের পানি, বাতাস ও মাটি এখন মারাত্মকভাবে দূষিত। দেশের একটি নদীও এখন আর দূষণমুক্ত নেই। দীর্ঘ সময় ধরে চলা অপরিকল্পিত ও সমীক্ষাহীন শিল্পায়নের চরম মাশুল এখন এ দেশের মানুষ দিচ্ছে।
শরীফ জামিল আরও উল্লেখ করেন যে, নীতিনির্ধারকদের একাংশের মধ্যে পরিবেশ সংরক্ষণ ও শিল্পায়নকে পরস্পরবিরোধী মনে করার একটি ভ্রান্ত ধারণা কাজ করছে। এই মানসিকতা দূর করে অবিলম্বে কঠোর আইনি পদক্ষেপ ও বিজ্ঞানভিত্তিক পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা জরুরি। তা না হলে বৈশ্বিক সূচকে বাংলাদেশের এই লজ্জাজনক অবস্থান থেকে মুক্তি মিলবে না বলে তিনি সতর্ক করে দিয়েছেন।








