ইউরোপজুড়ে ভয়াবহ দাবানল: বেলজিয়াম ও ফ্রান্সে তীব্র সংকট
শনিবার ইউরোপের বিভিন্ন দেশে দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে। এর মধ্যে বেলজিয়ামের বৃহত্তম প্রকৃতি সংরক্ষণ এলাকা এবং দক্ষিণ-পশ্চিম ফ্রান্সের ল্যান্ডস অঞ্চল সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের সহায়তা চাওয়া হয়েছে।
প্রকাশ: · আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০২৬, রাত ৭:১২· ১ মিনিট পড়া

শনিবার ইউরোপের বিভিন্ন দেশে ভয়াবহ দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে। এর মধ্যে বেলজিয়ামের বৃহত্তম প্রকৃতি সংরক্ষণ এলাকা হাই ফেনস এবং দক্ষিণ-পশ্চিম ফ্রান্সের ল্যান্ডস অঞ্চল সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই দাবানল ইউরোপজুড়ে তীব্র সংকটের সৃষ্টি করেছে।
বেলজিয়ামের ওয়ালোনিয়া অঞ্চলে অবস্থিত দেশটির বৃহত্তম প্রকৃতি সংরক্ষণ এলাকা হাই ফেনসে দাবানলের কারণে এই এলাকার প্রায় এক তৃতীয়াংশ পুড়ে গেছে। পরিস্থিতি আশঙ্কাজনক হওয়ায় দুটি নিকটবর্তী গ্রামের বাসিন্দাদের অবিলম্বে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এই প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় বেলজিয়াম ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেওয়ানি সুরক্ষা ব্যবস্থা বা সিভিল প্রটেকশন মেকানিজম সক্রিয় করেছে। এর ফলে ইউরোপের বিভিন্ন দেশ থেকে জলবাহী বিমান ও হেলিকপ্টার পাঠানো হয়েছে বেলজিয়ামের অগ্নিনির্বাপক বাহিনীকে সহায়তা করার জন্য।
সহায়তাকারী দলগুলোর মধ্যে রয়েছে দুটি সুইডিশ ওয়াটার-বম্বিং বিমান, একটি চেক প্রজাতন্ত্রের এবং একটি নেদারল্যান্ডসের হেলিকপ্টার। জার্মানি সীমান্তের কাছেও এই পরিস্থিতির প্রভাব পড়েছে। ঘটনাস্থলে দায়িত্ব পালনকারী নিকোলাস ইয়েরনক্স বলেছেন, আগুন বাড়িগুলোর দিকে পৌঁছে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে, তবে তা সুরক্ষায় সব ধরনের সম্পদ মোতায়েন করা হয়েছে।
আরেক কর্মকর্তা গ্রেগরি মেলোট পরিস্থিতি সম্পর্কে জানিয়েছেন যে, সমভূমি থেকে আসা আগুনকে শান্ত করে পাইন বনে ছড়িয়ে পড়া রোধ করা সম্ভব হয়েছে। তবে অভিযান এখনও শেষ হয়নি। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে শিখাগুলো তাদের দিকে এগিয়ে আসছে এবং বাতাস দুবার দিক পরিবর্তন করেছে, একবার অনুকূলে এবং একবার প্রতিকূলে।
অন্যদিকে ফ্রান্সের দক্ষিণ-পশ্চিমের ল্যান্ডস অঞ্চলে দাবানলের কারণে ৬৫০ জন বাসিন্দা তাদের বাড়িঘর ছেড়ে সরে যেতে বাধ্য হয়েছেন। সেখানে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য পাঁচ শতাধিকেরও বেশি অগ্নিনির্বাপক কর্মী মোতায়েন করা হয়েছে।
শুধু বেলজিয়াম ও ফ্রান্সই নয়, শুক্রবার থেকে ক্রোয়েশিয়া, স্পেন এবং সার্বিয়াতেও ভয়াবহ দাবানলের খবর পাওয়া গেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের জলবায়ু পর্যবেক্ষণ সংস্থা কোপার্নিকাস নিশ্চিত করেছে যে পশ্চিম ইউরোপে রেকর্ড করা ইতিহাসের সবচেয়ে উষ্ণ জুন থেকে জুলাই সময়কাল পার হয়েছে। এই চরম আবহাওয়াই পুরো মহাদেশজুড়ে দাবানল ছড়িয়ে পড়ার অন্যতম প্রধান কারণ বলে মনে করা হচ্ছে।








