ইইউতে শিশু-কিশোরদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে বিধিনিষেধের চিন্তা
শিশু-কিশোরদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে বিধিনিষেধ আরোপের কথা বিবেচনা করছে ইউরোপীয় কমিশন। এ বিষয়ে ব্রাসেলসের ইউরোপীয় পার্লামেন্টে আগামী সপ্তাহে আলোচনা হতে পারে। ১৩২টি সংগঠন এই উদ্যোগের বিরোধিতা করেছে।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

শিশু ও কিশোর-কিশোরীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে ইউরোপীয় কমিশন। ইইউ কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ডন ডার লেয়েন এই বিধিনিষেধ চালুর বিষয়টি নিয়ে ভাবছেন। ২৭টি দেশের সমন্বয়ে গঠিত এই জোটে শিশু-কিশোরদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতেই এমন উদ্যোগের কথা বলা হচ্ছে।
ব্রাসেলসে অবস্থিত ইউরোপীয় পার্লামেন্টে আগামী সপ্তাহে এই বিষয়ে আলোচনা হতে পারে। এর আগে ফ্রান্সের পক্ষ থেকে ১৫ বছরের কম বয়সীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারির দাবি জানানো হয়েছিল। এছাড়া অস্ট্রেলিয়া ইতিমধ্যে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে শিশু-কিশোরদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে বিশ্বের প্রথম বড় ধরনের নিষেধাজ্ঞা চালু করেছে।
শিশুদের সুরক্ষার কথা বলে এই ধরনের নিষেধাজ্ঞার পরিকল্পনা করা হলেও এর তীব্র বিরোধিতা শুরু হয়েছে। ১৩২টি সংগঠনের একটি জোট এই উদ্যোগের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। সেন্টার ফর ডেমোক্রেসি অ্যান্ড টেকনোলজি (সিডিটি) ইউরোপ, ইডিআরআই এবং এএফপির মতো সংস্থাগুলোর মোর্চা মনে করে, এ ধরনের নিষেধাজ্ঞা শিশুদের অধিকারের পরিপন্থী।
এই বিষয়ে সেন্ট্রার ফর ডেমোক্রেসি অ্যান্ড টেকনোলজি ইউরোপের ক্রিশ্চিয়ান সিরহিগিরি বলেন, "শিশুদের মৌলিক অধিকার রক্ষায় নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্য হওয়া উচিত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্মগুলো, শিশুদের অনলাইনে অংশগ্রহণের সুযোগ নয়।" তার মতে, প্ল্যাটফর্মগুলোর দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করা দরকার, সরাসরি শিশুদের অনলাইন সুবিধা সীমিত করা নয়।
ইডিরআইর লিসা-লি পাকোস্তা এই বিধিনিষেধের নৈতিক ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি মন্তব্য করেছেন, "তথ্য পাওয়ার অধিকার কেন নিষিদ্ধ করা হবে, তা নৈতিকভাবে বোঝা খুব কঠিন।" তরুণ প্রজন্মকে তথ্যপ্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত করা উচিত নয় বলেও মনে করেন তিনি।
এই জটিল পরিস্থিতির মধ্যেই ইউরোপীয় ইউনিয়ন বয়স যাচাইয়ের একটি কার্যকর ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। আগামী এ বছরের শেষ দিকে এই বয়স যাচাই পদ্ধতি চালুর পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হতে পারে। সিমিওন দে ব্রাওয়ারসহ সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো এই পুরো প্রক্রিয়ার ওপর গভীরভাবে নজর রাখছে।








