আর্কটিক পথ ধরে ইউরোপের উদ্দেশে চীনের কনটেইনার জাহাজের যাত্রা
চীনা কনটেইনার জাহাজ ‘দুবাই টাওয়ার’ ১৫ আগস্ট শনিবার সন্ধ্যায় চীনের নিংবো বন্দর ছেড়ে আর্কটিক অঞ্চলের নর্দার্ন সি রুট বা এনএসআর ধরে ইউরোপের উদ্দেশে রওনা হয়েছে। আগামী ৭ সেপ্টেম্বর জাহাজটির যুক্তরাজ্যের ফেলিক্সস্টো বন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
প্রকাশ: · আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০২৬, রাত ৭:১২· ১ মিনিট পড়া

১৬ আগস্ট ২০২৬ তারিখে প্রাপ্ত খবরে জানা যায়, চীন থেকে একটি কনটেইনার জাহাজ আর্কটিক পথ ব্যবহার করে ইউরোপের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেছে। ‘দুবাই টাওয়ার’ নামের এই চীনা কনটেইনার জাহাজটি গত ১৫ আগস্ট শনিবার সন্ধ্যায় চীনের নিংবো বন্দর ছেড়ে যায়। আর্কটিক অঞ্চলের এই বিশেষ নৌপথটি নর্দার্ন সি রুট বা এনএসআর নামে পরিচিত।
নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, এই ঐতিহাসিক যাত্রার অংশ হিসেবে জাহাজটির আগামী ৭ সেপ্টেম্বর যুক্তরাজ্যের ফেলিক্সস্টো বন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। আর্কটিকের এই বরফাবৃত পথ ব্যবহারের মাধ্যমে সামুদ্রিক বাণিজ্যে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
এর আগে ২০১৮ সালে ডেনমার্কের বিখ্যাত শিপিং কোম্পানি মেরস্ক প্রথম এই নর্দার্ন সি রুট বা এনএসআর পথটি সফলভাবে ব্যবহার করেছিল। এরপর থেকেই বৈশ্বিক শিপিং বাণিজ্যে এই বিকল্প রুটের গুরুত্ব ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পেতে শুরু করে।
আর্কটিক এই সমুদ্রপথের ব্যবহার সাম্প্রতিক বছরগুলোতে উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রাপ্ত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৪ সালে এই নর্দার্ন সি রুট দিয়ে মাত্র ১৫টি কনটেইনার জাহাজ চলাচল করেছিল। আর এর পরের বছর অর্থাৎ ২০২৫ সালে এই সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ২৩টিতে।
বিশ্ব বাণিজ্য ও যোগাযোগের ক্ষেত্রে এই অঞ্চলের কৌশলগত গুরুত্ব অপরিসীম। চীন সরকার ইতিমধ্যে ‘পোলার সিল্ক রোড’ পরিকল্পনার কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে। এই বিশাল পরিকল্পনার মাধ্যমেই আর্কটিক অঞ্চলের বাণিজ্যিক সম্ভাবনাগুলোকে কাজে লাগানোর দীর্ঘমেয়াদী উদ্যোগ নিয়েছে দেশটি।
উল্লেখ্য, বৈশ্বিক এই সমুদ্রপথে মেরস্ক ছাড়াও সিএমএ সিজিএম, এমএসসি এবং হ্যাপাগ-লয়েডের মতো বড় বড় আন্তর্জাতিক শিপিং ও লজিস্টিকস প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম রয়েছে। তবে বর্তমানের এই নতুন যাত্রার মাধ্যমে চীনের সঙ্গে ইউরোপের সরাসরি সামুদ্রিক যোগাযোগের ক্ষেত্রে আর্কটিক রুটের ব্যবহার আরও সুদৃঢ় হলো।








