আমিরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর ও ব্রিটিশ নাগরিকত্ব অর্জন
আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন ৩৪ বছর বয়সী আমির। স্ত্রী নারজিস খানের মাধ্যমে ব্রিটিশ নাগরিকত্ব ও দেশটির পাসপোর্ট অর্জন করেছেন তিনি।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

২০২৪ সালের ১৪ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা দেন আমির। দীর্ঘ ও বর্ণাঢ্য এক আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি টেনে তিনি এই বড় সিদ্ধান্তটি নেন। তার এই অবসরের ঘোষণাটি ক্রিকেট বিশ্বে বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে, বিশেষ করে তার সাম্প্রতিক নাগরিকত্ব অর্জনের খবরের পর।
আমির তার স্ত্রী নারজিস খানের মাধ্যমে ব্রিটিশ নাগরিকত্ব ও দেশটির পাসপোর্ট অর্জন করেছেন। যুক্তরাজ্য থেকেই এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয় এবং এর ফলে তার ক্রিকেটীয় ও ব্যক্তিগত জীবনে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা ঘটেছে। ব্রিটিশ নাগরিকত্ব পাওয়ার পর তিনি এখন যুক্তরাজ্যেই নিজের ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ারের পরিকল্পনা সাজাচ্ছেন।
নাগরিকত্ব অর্জনের পর নিজের ক্রিকেট ভবিষ্যৎ নিয়ে বলতে গিয়ে আমির জানিয়েছেন, 'আমি এখন ব্রিটিশ স্থানীয় খেলোয়াড়। কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপ ও দ্য হান্ড্রেডের মতো প্রতিযোগিতায় স্থানীয় খেলোয়াড় হিসেবে খেলতে হলে একটি নথিতে স্বাক্ষর করতে হয়, যেখানে বলা থাকে যে স্থানীয় খেলোয়াড় হিসেবে আপনি অন্য কোনো দেশের হয়ে খেলতে পারবেন না। তাই পাকিস্তানের সঙ্গে আমার আগের যে অধ্যায় ছিল, সেটির এখন সমাপ্তি ঘটেছে।' ফুরকান ভাট্টি এই পুরো প্রক্রিয়ায় যুক্ত ছিলেন।
উল্লেখ্য, ২০০৯ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হয় আমিরের। অভিষেকের পর থেকেই তিনি নিজের বোলিং প্রতিভা দিয়ে বিশ্ব ক্রিকেটে নিজের নাম পাকা করেন। ২০০৯ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপজয়ী পাকিস্তান দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন তিনি। পাকিস্তানের হয়ে বহু গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে তিনি দুর্দান্ত পারফরম্যান্স উপহার দিয়েছেন।
৩৪ বছর বয়সী এই পেসারের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের পরিসংখ্যান বেশ সমৃদ্ধ। তিনি ৩৬ টেস্টে ১১৯ উইকেট শিকার করেছেন। এছাড়া ৬১ ওয়ানডে ম্যাচ খেলে তার ঝুলিতে রয়েছে ৮১ উইকেট এবং ৬২ টি-টোয়েন্টি ম্যাচে তিনি অর্জন করেছেন ৭১ উইকেট।
আমিরের ক্যারিয়ারের অন্যতম বড় প্রাপ্তি ছিল ২০১৯ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপ। ওই টুর্নামেন্টে তিনি দারুণ বল করে মাত্র আট ম্যাচে ১৭ উইকেট শিকার করেছিলেন, যা পাকিস্তান দলের পেস বোলিং আক্রমণকে নেতৃত্ব দিয়েছিল।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানানোর পর এখন কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপ, দ্য হান্ড্রেড এবং পাকিস্তান সুপার লিগ (পিএসএল)-এর মতো ফ্র্যাঞ্চাইজি ও ঘরোয়া প্রতিযোগিতাতেই মূলত তার মনোযোগ থাকবে। ব্রিটিশ স্থানীয় খেলোয়াড় হিসেবে খেলার জন্য প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ করার কারণে পাকিস্তানের হয়ে আন্তর্জাতিক আঙিনায় তার ফেরার পথ চিরতরে বন্ধ হয়ে গেল।








